কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বিধায়কদের সই জাল হওয়ার অভিযোগ, দলবদলের জল্পনা, জেলায় জেলায় কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ এবং সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হেনস্তা- এই সব কিছুর আবহেই রবিবার কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
দলীয় সূত্রের খবর, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বৈঠকে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দলের অন্দরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার রূপরেখা নির্ধারণই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।
সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে বিধায়কদের সই জাল হওয়ার অভিযোগ। বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি সংক্রান্ত নথিতে কয়েক জন বিধায়কের সই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, তাঁদের অজান্তেই সই ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি।
দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, কারা ওই নথিতে সই করেছিলেন, আর কারা করেননি? কে বা কারা সই জাল করল? এই বিতর্কে দলের ভাবমূর্তি ধাক্কা খাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেন মমতা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্য দিকে, তৃণমূলের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে দলবদলের জল্পনা। সাম্প্রতিক সময়ে দলের একাধিক বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের আশঙ্কা, দলের কয়েক জন বিধায়ক অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ফলে রবিবারের বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকেন এবং কারা অনুপস্থিত থাকেন, সেদিকেও নজর থাকবে কালীঘাটের। পাশাপাশি, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। নিহত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেই ঘটনার পর রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, জেলায় জেলায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চলছে। একাধিক পার্টি অফিস ভাঙচুর, দলীয় কর্মীদের বাড়ি দখল এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছে তারা। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারেন যে, আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সংগঠনকে নতুন করে চাঙা করার উদ্যোগ নিতে হবে। জেলা স্তরে কর্মীদের ঘরে ফেরানো এবং সংগঠন পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও বৈঠকে উঠে আসতে পারে। ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথমবার এত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক হতে চলেছে। ফলে কালীঘাটের বৈঠক থেকে কী বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।







