ওয়েব ডেস্ক: ভোটমুখী বাংলায় শাসক-বিরোধী দুপক্ষই প্রতারে ঝড় তুলেছে। জেলায় জেলায় ঘুরে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Election Campaign)। কখনও কখনও দিনে চার থেকে পাঁচটি করেও জনসভা করছেন। শনিবার তাঁর কর্মসূচি রয়েছে হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এদিন নির্বাচনী জনসভা থেকে দিল্লি দখলের বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। লোকসভায় পরাজয়ের পর এবার এই মাটির লড়াইতেও পরাস্ত হতে হবে—আর সেই পথই দেখাবে বাংলা হুঙ্কার দিয়ে বললেন মমতা।
নীতীশ কুমারকে দেখলেন তো? ভোটের সময় কাজে লাগাল, তার পরে তাড়িয়ে দিল! এখন বলছে ৩০০০ করে দেবে। ভুলেও ফর্ম ভরবেন না। সব হাতিয়ে নেবে ওরা
শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা? মহিলা সংরক্ষণ বিল বহুদিন ধরেই আলাদা পড়ে রয়েছে। সেটিকে পৃথকভাবেই পাশ করা উচিত। তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল জুড়ে দেওয়া কেন? বাংলাকে কোনওভাবেই ভাগ হতে দেওয়া হবে না। কাল প্রমাণ হয়ে গেছে, এরা আর সংখ্যাগরিষ্ঠ নেই।
মহিলা বিলের নামে যেটা করতে চেয়েছিল, তা প্রকৃত মহিলা বিল নয়। বরং দেশ ও বাংলাকে ভাগ করার পরিকল্পনা এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল। ১৯৯৮ সাল থেকে আমি মহিলা সংরক্ষণের দাবিতে লড়াই করছি। এখন গোদি মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল বার্তা ছড়ানো হচ্ছে
বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভার চৌধুরী বাজার রাস মাঠের জনসভায় বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৪ মে ভোটগণনা হবে। সে দিন কী করতে হবে, দলের কর্মীদের তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘‘ইভিএম মেশিন ১ থেকে ১০০০ গুনতে হবে। মেশিনের প্রতিটি বোতাম টিপে দেখতে হবে সেই ভোট সেখানে পড়ছে কি না। ভিভিপ্যাট ছাড়়া ইভিএম মেশিন পরীক্ষা করা যাবে না। ভোটের দিন ওরা বদমায়েশি করে মেশিন খারাপ করে দেবে। যত ক্ষণ নতুন মেশিন না-আনা হচ্ছে, তাতে ভোট করতে দেবেন না। নয়তো মেশিনে চিপ ঢুকিয়ে দিতে পারে।’’
মমতার অভিযোগ, ‘স্লো পোলিং’ এবং ‘স্লো কাউন্টিং’ করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমেই রটিয়ে দেওয়া হবে, তৃণমূল হারছে। তাঁর কথায়, ‘‘ভয় পাবেন না। সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে হলেও সূর্যাস্ত হবে তৃণমূলের হাতেই, শেষে দেখবেন তৃণমূল জিতছে। আগের চেয়ে বেশি আসনে জিতব। শুধু নিজের ভোট নিজে দেবেন।

বঙ্গে ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা নিয়ে মমতা বলেন, ‘‘ যত দোষ তৃণমূলের, বিজেপির বাড়িতে, কংগ্রেসের বাড়িতে, সিপিএমের বাড়িতে তো হানা দেওয়া হয় না। আমি বিশ্বাস করি আমার দলের লোকেরা টাকার কাছে মাথা নত করে না। লড়াই করে। এটা আমাদের বদলার লড়াই। আমি যদি যোদ্ধা হই, মা-বোনেরা আমার সহযোদ্ধা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপির তাঁবেদারি করতে যারা এসেছে, তাদের বলে রাখছি, বিজেপি চিরকাল থাকবে না। মানুষ কিন্তু তখন বদলা নেবে। দিল্লি থেকে বিজেপিকে উৎখাতের সূচনা হোক বাংলার মাটি থেকে।’’
মমতা বলেন, সর্বনাশ করে দিয়েছে দেশটার। লুটেপুটে খাচ্ছ। সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করার সময় তো হিন্দু-মুসলিম দেখো না! ওমানে এত গোমাংস রফতানি করা হয়। আর বাংলায় মাছ-মাংস বন্ধ করতে চাইছে।

মহিলা বিল নিয়ে সংসদে কেন্দ্র যে ধাক্কা খেয়েছে।মমতা বলেছেন, বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপিকে আমরা হারিয়েছি। মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তো নেই। অন্যের সমর্থনে কুর্সিতে বসে আছে। সব যাবে।
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির কাজ করতে যারা এসেছে, তাদের বলে রাখছি। বিজেপি কাল থাকবে না। মানুষ বদলা নেবে।’’

ডিলিমিটেশন চেয়েছিল। দেশ ভাগ করতে চেয়েছিল। বিল এনে মহিলাদের আসন দিতে হয় না আমাদের। লোকসভায় নির্বাচিত মহিলা সাংসদদের সংখ্যা ৩৬ শতাংশ। রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ। এমন আর কোথাও নেই। বিজেপির শিক্ষা নেওয়া উচিত। মহিলা সংরক্ষণের জন্য ৯৮ সাল থেকে আমি লড়ছি।
লোকসভায় পরাজয়ের পর এবার মাটির লড়াইতেও পরাস্ত হতে হবে—আর সেই পথই দেখাবে বাংলা: মমতা







