নয়াদিল্লি: ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ঠিক একদিন আগে আইপ্যাক মামলায় (Ipac Case Supreme Court) বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) আই-প্যাক (I-PAC) মামলা ঘিরে কার্যত নজিরবিহীন ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘মুখ্যমন্ত্রী জোর করে ঢুকে পড়লে গণতন্ত্রই প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়’, এমনই পর্যবেক্ষণ বিচারপতি পি কে মিশ্রর। তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তুলে মামলা করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি-র সেই মামলার এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের আইনজীবীরা। আজ, বুধবার শীর্ষ আদালতে ছিল সেই মামলার শুনানি।কোনও অফিসারের অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। আইপ্যাক মামলায় (IPAC Case) জোর সওয়াল রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর। শুধু তাই নয়, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে একহাত নিয়ে আইনজীবীর আরও অভিযোগ, ইডি এই মামলায় এমন নতুন ধরনের আইন নিয়ে এসেছে, যা কখনও আগে তোলা হয়নি। ইডি তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবী।
গত জানুয়ারিতে আইপ্যাকের অফিসে যখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত চালাচ্ছিল, তখন সেই অফিসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজির হতে দেখা গিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এদিন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ইডি-র মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করে সওয়াল করেন আদালতে। সেই প্রসঙ্গেই এই পর্যবেক্ষণ বিচারপতি পি কে মিশ্রর।বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আপনি একাধিক মামলার রেফারেন্স টেনেছেন। কিন্তু এদেশে এমন একটা সময় আসবে, যখন একজন মুখ্যমন্ত্রী তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে ঢুকে পড়বেন, এমন প্রেক্ষাপট এই মামলাগুলিতে ছিল না।”কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে পৌঁছে যাওয়া এবং নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানাল— ‘এভাবে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা যায় না।’
‘মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে ঢুকে পড়তে পারেন না’ বলেই দাবি, শীর্ষ আদালতের। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনর বাড়ি ও অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। অভিযোগ, সেই সময় সেখানে সশরীরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ল্যাপটপ ও বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি তিনি নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ তোলে ইডি।শুনানিতে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র কড়া ভাষায় বলেন, “একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের মাঝে হঠাৎ করে ঢুকে পড়লেন। এটা কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন না। এভাবে গণতন্ত্রের মুখ বন্ধ করা যায় না।”
আরও পড়ুন: ‘বস্তির শহর কলকাতা, শহরে দাঁড়িয়েই বললেন শাহ
শুনানি চলাকালীন রাজ্যের আইনজীবীরা যখন বিআর আম্বেদকর বা সংবিধানের নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন, তখন বিচারপতি মিশ্রের পাল্টা পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “সংবিধান প্রণেতারা হয়ত কখনও চিন্তাই করতে পারেননি যে একদিন এমন অবস্থা আসবে, যেখানে একজন ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের মাঝখানে ঢুকে পড়বেন এবং হস্তক্ষেপ করবেন।” বিচারপতির মতে, এই ধরনের আচরণে গোটা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এখন ঝুঁকির মুখে।‘আমাদের চোখ বন্ধ নেই’, সাফ কথা শীর্ষ আদালতের। রাজ্যের পক্ষ থেকে সওয়ালে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী ও সিদ্ধার্থ লুথরার দাবি ছিল, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে না গিয়ে সোজা হাই কোর্টে গিয়ে ভুল করেছে ইডি। বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দেন, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি কী, সে সম্পর্কে আদালত সম্পূর্ণ অবগত।পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফা ভোটের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারও সুপ্রিম কোর্টে চলবে আইপ্যাক মামলার শুনানি। আগামিকাল, সবার আগে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি।







