বীরভূম: রাজ্যে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার ‘ডি সি আর কেলেঙ্কারি’র (DCR Scam) অভিযোগ তুলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালেন সিউড়ির (Siuri) বিজেপি (BJP) বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। শনিবার সিউড়ির সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে পাথর শিল্পে রাজস্ব লুঠ হয়েছে।
বিধায়কের দাবি, এবার থেকে আর কোনও বেসরকারি সংস্থা নয়, সরকার নিজেই ডি সি আর-এর টাকা তুলবে। সেই জন্য বিভিন্ন চেক গেটে ভূমি দফতর, পুলিশ, সাধারণ প্রশাসন এবং মোটর ভেহিকল বিভাগের আধিকারিকদের একযোগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ মিনারেল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের স্বীকৃত চালান ইস্যু করবে ভূমি দফতর।
আরও পড়ুন: ডাকাতির ছকে নাম টিএমসিপি নেতার! বাঁকুড়ায় গ্রেফতার সুরজ বক্স
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ মে থেকে সরকারিভাবে রাজস্ব আদায় শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ৯টি চেক গেট থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। দ্বিতীয় দিনে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। মহম্মদবাজার, রামপুরহাট, ময়ূরেশ্বর, নলহাটি ও মুরারই এলাকায় এই চেক গেটগুলি চালু হয়েছে।
জগন্নাথের দাবি, এর আগে মাসে যেখানে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হত, এখন তা বেড়ে ৯০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। তাঁর কথায়, “প্রতিদিন ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আসতে পারে। তা হলে এতদিন টাকা কোথায় যেত?”
বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে এই খাতে ১০ হাজার কোটিরও বেশি রাজস্ব লুঠ হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল বা প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।







