কলকাতা: রাজ্য বিজেপির (West Bengal BJP) অন্দরে সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হলেও আপাতত সেই পথে হাঁটতে নারাজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের একাংশ শমীক ভট্টাচার্যকে (Samik Bhattacharya) সভাপতির পদ থেকে সরানোর পক্ষে সক্রিয় হলেও, কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে এখনও তাঁর কার্যকালের যথেষ্ট সময় বাকি রয়েছে। ফলে অবিলম্বে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই দলীয় সূত্রে খবর।
বিজেপির সাংগঠনিক রীতি অনুযায়ী, সাধারণত রাজ্য সভাপতির (BJP State President) মেয়াদ তিন থেকে চার বছর হয়ে থাকে। অতীতে হরিপদ ভারতী ও সুকুমার মুখার্জি নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন। অন্যদিকে অসীম ঘোষ তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে বর্তমান সভাপতি শমীক তাঁর পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করুন।
দলীয় সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের সময় রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন শমীক। সেই কারণেও সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই সভাপতিকে সরানো হলে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, এতে সংগঠনের ভিতরে ও বাইরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: NCPI-এর বর্তমান সভাপতি কে? বলতেই পারলেন না দলের প্রতিষ্ঠাতা
তবে শমীকের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় মহলে আলোচনা রয়েছে। অসুস্থতার কারণে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত সাংগঠনিক সফর করতে পারছেন না বলে জানা গিয়েছে। একজন রাজ্য সভাপতির যেভাবে সংগঠনের তৃণমূল স্তরে পৌঁছে যাওয়ার কথা, সেই কাজ কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন দলের একাংশ।
এদিকে সভাপতি পরিবর্তনের দাবিতে সক্রিয় একটি গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে একাধিক অভিযোগও পৌঁছে দিয়েছে বলে খবর। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে কর্মী ও নেতাদের ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং সভাপতির ঘনিষ্ঠ মহলের কিছু সদস্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, অতীতে রাজ্য বিজেপির সভাপতিরা সরাসরি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং নিজেই ফোন ধরতেন। বর্তমানে সেই যোগাযোগ ব্যবস্থায় দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
অসমর্থিত সূত্রের খবর, এই সমস্ত অভিযোগ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দিল্লি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে বলেও বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে রাজ্য বিজেপির অন্দরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা চললেও, আপাতত শমীকের উপরই আস্থা রাখছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
দেখুন আরও খবর:







