আরামবাগ: রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি (BJP) সরকারের ঘোষিত ‘জনকল্যাণ শিবির’ (Janakalyan Sibir) ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে শিবিরের প্রথম দিনেই বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, যুবশক্তি প্রকল্প এবং সিএএ-সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিল আবেদনকারীদের মধ্যে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর জনমুখী পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর ঘোষণা করেছিলেন। সেই কর্মসূচির আওতায় পিএম কিষান, অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তর, অর্থ ও ব্যাংকিং পরিষেবা, মৎস্য দপ্তর, আয়ুষ্মান ভারত-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুর থেকে গ্রেফতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী ‘পিকে’
কিন্তু সোমবার থেকে শুরু হওয়া শিবিরে গিয়ে বহু প্রবীণ নাগরিক, বিধবা মহিলা এবং যুবক-যুবতীরা জানতে পারেন, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, যুবশক্তি প্রকল্প এবং সিএএ-র আবেদন বর্তমানে গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা বহু মানুষ নিরাশ হয়ে ফিরে যান।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পরিষেবাগুলি কবে চালু হবে, আদৌ হবে কি না— সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।
বার্ধক্য ভাতার আবেদন করতে আসা কানাইলাল মণ্ডল বলেন, তিনি শিবিরে এসে জানতে পারেন এখনই আবেদন নেওয়া হচ্ছে না। একই অভিযোগ করেন সিএএ-র আবেদনকারী সুমিতা রাম এবং বিধবা ভাতার আবেদনকারী সুজাতা ঘোষও।
ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি জানান, বর্তমানে কিছু প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণে সংশ্লিষ্ট পরিষেবাগুলি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী পর্যায়ের জনকল্যাণ শিবিরে এই প্রকল্পগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তবে বিধায়কের আশ্বাসে কতটা ভরসা ফিরবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এখন সাধারণ মানুষের নজর পরবর্তী শিবিরের দিকে। সেখানে সত্যিই বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, যুবশক্তি ও সিএএ আবেদন চালু হয় কি না, সেটাই দেখার।







