দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফলতায় (Falta) তৃণমূল (TMC) নেতা জাহাঙ্গির খানের (Jahangair Khan) মুক্তির দাবিতে এবং তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে হাফপ্যান্ট পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগের প্রতিবাদে (Protest) পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভ বুধবার নতুন মাত্রা নেয়, যখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে লাঠিচার্জ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ফলতার শতলকলসা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সংগঠিত হয়ে ফলতা থানা ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে এগোচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁদের পথ আটকে দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় লাঠিচার্জ। পুলিশি অভিযানে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা।
আরও পড়ুন: বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবন থেকে বাবুঘাটে আসছে ৫২০-র বেশি লঞ্চ-নৌকা
লাঠিচার্জের সময় বহু মানুষকে আত্মরক্ষার জন্য রাস্তার ধারে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দিতে দেখা যায়। লাঠির আঘাত এড়াতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী সাঁতার কেটে পুকুর পার হওয়ারও চেষ্টা করেন। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত সোমবার থেকেই জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবির নেতৃত্বে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। শ্রীরামপুর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের একাংশ থানার দিকে মিছিল করে এগোতে থাকেন। অভিযোগ, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল জাহাঙ্গির খানকে থানা থেকে মুক্ত করে আনা। সেই সময় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বাধা দিলে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হলে তাঁদের একাংশ বাহিনীর উপরও চড়াও হন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কড়া পদক্ষেপ করা হয়।
এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেফতার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলা এবং ছ’জন পুরুষ রয়েছেন। পাশাপাশি জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবির নামেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি অধরা। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
দেখুন আরও খবর:







