কলকাতা: ‘বিরোধীদের কিছু আর বলার রয়েছে বলে মনে হয় না’! বাজেট (West Bengal Budget 2026) নিয়ে উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করার পরে এমন মন্তব্যই করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এটা শুধু তাঁর কথা নয়। তৃণমূলের বিধায়ক অশোক দেবও তাঁকে একই কথা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এটা আট মাসের বাজেট, ১২ মাসের নয়! তাঁর আশ্বাস, এই বাজেটে যদি কিছু বাদ পড়েও যায়, তা হলে পরের বাজেটে তা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুভেন্দু প্রথমেই জানান, সোমবার পেশ করা বাজেটকে তিনি পূর্ণাঙ্গ বলবেন না। কারণ এই বাজেট অগস্ট থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত। তবে তাঁর বক্তব্য, এই বাজেটে কোনও ফাঁকফোকর নেই। তিনি বলেন, ‘‘এই বাজেটে এমন কোনও অংশ নেই, যেটা বাদ গিয়েছে! বিরোধীদের কিছু বলার আছে বলেও মনে হয় না। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘বিরোধী দলের এক প্রবীণ বিধায়ক, বহু বারের বিধায়ক, অশোক দেব আমাকে বলছিলেন, বলার কোনও সুযোগ নেই। আইনজীবীদের জন্য কিছু থাকলে ভাল হত।’’ শুভেন্দু আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন তাঁর দফতরের সঙ্গে আলোচনা করবেন এই নিয়ে। দু’দিন তিনি জবাবি ভাষণ দেবেন। সেখানে সম্ভব হলে কিছু ব্যবস্থা করতেও পারেন।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট ঘোষণা, উত্তরবঙ্গে IIT-AIIMS, নতুন মেডিক্যাল কলেজ
মহার্ঘভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আন্দোলন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। দু’টো কেন্দ্র ও রাজ্যের সমহারে ডিএ এবং বকেয়া পরিশোধ। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের লড়াই সুপ্রিম কোর্ট অবধি পৌঁছেছিল। শীর্ষ আদালত অবিলম্বে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA নিয়ে বড় ঘোষণা বাজেটে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারী কর্মচারীদের ইতিমধ্যে বকেয়া অ্যারিয়ার (Arrear) আগের সরকার কিছু দিয়ে গিয়েছিল, আমরা আসার পরে কিছু দিয়েছি।কর্মচারীরা অ্যাসিউর থাকতে পারেন। আপনাদের আন্দোলনে আমিও একটা পার্ট ছিলাম। আপনাদের কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের তফাৎ ছিল ৪২ শতাংশ। আমরা ২০ শতাংশ ডিক্লিয়ার করে দিলাম। অক্টোবার থেকেই পেয়ে যাবেন। এবং আমরা …এতদিন ধরে অনেক কথা বলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। অপমান করেছেন। ভিক্ষা দেওয়ার মতো, ২-৩ শতাংশ দিয়েছেন। কখনও বলেছেন ঘেউ ঘেউ করবেন না। আমি আপনাদের বন্ধু হিসেবে কথা দিচ্ছি, আর কয়েকটা মাস সময় দেন, অর্থমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে, যে আমরা একবার করে দেব।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, তাঁর সরকারের বাজেটে সেবা, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি— পাঁচটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য, হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি, গরিমা ফেরানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্যে শিল্পের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। আইনশৃঙ্খলা সুদৃঢ় করে, চাঁদাবাজি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট বন্ধ করে, ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প, ব্যবসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে রাজ্যে। তাঁর কথায়, ‘‘১০০ কোটি টাকার বেশি যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের পঞ্চায়েত বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে না। স্থানীয় স্তরে হয়রানির শিকার থেকে মুক্তি পাবেন।’’







