তমলুক: একসময় নন্দীগ্রাম (Nandigram) আন্দোলনের জোয়ারে বামফ্রন্টের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Midnapore) জেলা পরিষদ এবার হাতছাড়া হল তৃণমূলের (TMC)। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের দখল নিল বিজেপি (BJP)। নতুন সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন বামদেব গুছাইত। সহকারী সভাধিপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাসুরি পণ্ডিত।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৭০। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ছিল ৫৬ এবং বিজেপির ১৪। তবে দু’জন সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় বর্তমানে সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৮। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক এবং সহকারী সভাধিপতি সুহাসিনী কর পদত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট ঘোষণা, উত্তরবঙ্গে IIT-AIIMS, নতুন মেডিক্যাল কলেজ
সোমবার জেলা পরিষদের সাধারণ সভায় নতুন সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সভায় ৬৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভাধিপতি পদে বামদেব গুছাইতের নাম প্রস্তাব করেন জয়দেব মিদ্যা। উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন। অন্যদিকে, সহকারী সভাধিপতি পদে বাসুরি পণ্ডিতের নাম প্রস্তাব করেন জেলা পরিষদ সদস্যা পূর্ণিমা দাস। সেই প্রস্তাবও সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে জেলা পরিষদের সতীশচন্দ্র সামন্ত সভাকক্ষে নবনির্বাচিত সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিকে সংবর্ধনা জানানো হয়। ফল ঘোষণার পর জেলা পরিষদ চত্বরে বাজি ফাটিয়ে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এখন আর শুধু ডবল ইঞ্জিন নয়, পঞ্চম ইঞ্জিনের সরকার। কেন্দ্র, রাজ্য, জেলা পরিষদ, সাংসদ এবং বিধায়ক, সব ক্ষেত্রেই বিজেপির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন এবং ভূমি উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের আবহে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের হাত থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের দখল নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই জয় ছিল তৃণমূলের প্রথম জেলা পরিষদ দখলের নজির। পরবর্তীতে ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর এবার সেই ঐতিহাসিক জেলা পরিষদও বিজেপির দখলে চলে গেল।







