ওয়েব ডেস্ক : ভয়াবহ বন্যার (Nepal Flood) ৯ দিন পর নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন দুই শ্রমিক। ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের প্রায় ১৭০ মিটার গভীর থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের নাম সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহার্জন।
সঞ্জয় শাহ ওই প্রকল্পের ফোরম্যান এবং কবীর মহার্জন সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। প্রথমে সঞ্জয়কে সুড়ঙ্গ থেকে বের করে নেপাল (Nepal) সেনার ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্ধার করা হয় কবীরকেও। দু’জনকেই পরে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধারের পর সঞ্জয়ের প্রথম প্রশ্ন ছিল, “আজ কী বার?” দীর্ঘ ন’দিন সুড়ঙ্গের অন্ধকারে আটকে থাকার পর সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। উদ্ধারকারীদের জানিয়েছেন, বন্যার সময় তিনি সুড়ঙ্গের কন্ট্রোল রুমে ছিলেন। অন্য কর্মীদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই আর বাইরে বেরোতে পারেননি।
সুড়ঙ্গে আটকে থাকার সময় নিজেকে শান্ত রাখতে মন্ত্র জপ করতেন সঞ্জয়। তাঁর দাবি, আরও কয়েকজনের সঙ্গে চিৎকার করে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। সুড়ঙ্গের অন্য অংশে কিংবা পাওয়ারহাউসের ভিতরেও আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত সপ্তাহে নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসের পর বিপুল জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে ত্রিশুলি ও ভোতে কোশি নদীর উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা তৈরি করে। একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়। বহু সুড়ঙ্গের মুখ পাথর, কাদা ও জলে বন্ধ হয়ে যায়। ত্রিশুলি নদীর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনও বহু শ্রমিক নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলির অনুমান, সুড়ঙ্গের ভিতরে তৈরি হওয়া বায়ুর ফাঁকে এখনও অনেকে বেঁচে থাকতে পারেন। ফলে জীবিত আরও শ্রমিককে উদ্ধারের আশায় দিন-রাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল সেনা ও বিশেষজ্ঞ দল।







