কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের দ্বারস্থ হতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল (Kalighat)। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu) এবং রাজ্যপাল আর এন রবির (RN Ravi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে চায় তৃণমূল। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দু’জনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, হেনস্তা এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে আসছে কালীঘাট তৃণমূল। দলের দাবি, একাধিক ঘটনায় তাদের কর্মীদের নিশানা করা হয়েছে। যদিও বিজেপির বক্তব্য, অপরাধ করলে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও খবর : মেলবোর্নের ধাঁচে ফিরবে কলকাতার ট্রাম? অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বড় ইঙ্গিত অর্জুনের
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। দপ্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এর আগে সোনারপুরে নিহত এক দলীয় কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কাদা-জল ছোড়ার অভিযোগও সামনে আসে। তৃণমূলের একাধিক নেতা বিভিন্ন সময়ে ডিম হামলার মুখে পড়েছেন বলেও দাবি দলের।
এই ঘটনাগুলির পরেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবিধানিক প্রধানদের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলের অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাইছে তারা।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের শাসনকালে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তৎকালীন বিরোধী বিজেপি একাধিক বার সরব হয়েছিল। এখন ক্ষমতার পালাবদলের পরে একই ইস্যুতে তৃণমূল রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।







