ওয়েব ডেস্ক: অতীত শত্রুতা ভুলে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (Begum Khaleda Zia) প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। শোকবার্তায় আওয়ামী লিগ সভাপতি হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান অপরিসীম। ২০০৪ সালে ঢাকার পথে গ্রেনেড হামলার ভয়াবহ স্মৃতিকে দূরে সরিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ’ বলে উল্লেখ করলেন মুজিব কন্যা।
বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার পর প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন হাসিনা। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ‘চিরশত্রু’ হিসেবে পরিচিত দুই রাজনৈতিক দল শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ ও খালেদার বিএনপি। শত্রুতা এতটাই যে ২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার শাসনকালে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল তৎকালীন বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার উপর।রাজনীতির আঙিনা ছাপিয়ে তাঁদের দু’জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যক্তিগত পরিসরেও ঢুকে পড়েছিল। যেমন আলোচনা হয়েছে তাঁদের যোগাযোগের মাধ্যম লাল টেলিফোন নিয়ে। দুই নেত্রীর ফোন-কথোপকথনের একাংশ এক বার প্রকাশ্যে চলে আসে। ওপার বাংলার শেষ কয়েক দশকের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে এই দুই নেত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করেই। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনা এখন দেশান্তরী। আর তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা লোকান্তরী হলেন। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিরঅবসান হয়ে গেল মঙ্গলবার সকালে।
আরও পড়ুন: স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশেই খালেদার কবর! কে ছিলেন তিনি?
মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর শোকবার্তায় শেখ হাসিনা লেখেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এবং বিএনপি নেতৃত্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। জাতির প্রতি তাঁর অবদান ভোলার নয়। আমি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’হাসিনার শোকবার্তায় আরও বলেছেন, আমি তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।







