ওয়েব ডেস্ক : স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল চিত্র ফের সামনে এল ওড়িশায় (Odisha)। হাসপাতালে শববাহী গাড়ি না পাওয়ায় মৃত স্ত্রীর দেহ মোটরবাইকে চাপিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হলেন এক ব্যক্তি। রবিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ন্যূনতম শববাহী গাড়ির ব্যবস্থা না থাকায় এমন অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মৃতার নাম যমুনা ছত্রিয়া (৪৮)। ঝাড়সুগুড়ার ভাটলাইদা পঞ্চায়েতের উদিয়াপালি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন। রবিবার ভোরে তাঁর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত মুন্দ্রাজোর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত (Death) বলে ঘোষণা করেন। এরপর মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল (Hospital) কর্তৃপক্ষের কাছে শববাহী গাড়ির আবেদন করেন স্বামী নরেশ কিসান। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, সেই সময় কোনও অ্যাম্বুল্যান্স উপলব্ধ নেই। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্ত্রীয়ের দেহ মোটরবাইকে চাপিয়েই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
আরও খবর : রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে উপনির্বাচন কবে? জানিয়ে দিল কমিশন
নরেশ কিসানের দাবি, বিকল্প হিসেবে একটি অটোরিকশা ভাড়া করারও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চালক ৫ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করায় সেই ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ঝাড়সুগুড়ার মুখ্য জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক শক্তি প্রকাশ পাধি জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা মৃতার পরিবারের কাছে ময়নাতদন্তের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবার লিখিতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে। তাঁর দাবি, পরে একটি বিকল্প গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে সেটি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পরিবার মৃতদেহ নিয়ে চলে যায়। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, মুন্দ্রাজোর সিএইচসিতে কোনও স্থায়ী শববাহী গাড়ির ব্যবস্থা নেই। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবিষ্যতে যাতে কোনও পরিবারকে এমন দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়, তার জন্য অবিলম্বে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শববাহী গাড়ির স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।
দেখুন অন্য খবর :






