Tuesday, January 13, 2026
HomeBig newsI-PAC কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে গেল ED, জোড়া পিটিশন দায়ের, কী হবে এবার?
Supreme Court

I-PAC কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে গেল ED, জোড়া পিটিশন দায়ের, কী হবে এবার?

মুখ্যমন্ত্রী আইন নিজের হাতে নিচ্ছেন, রাজ্য পুলিশকে ‘অপব্যবহার’ করা হচ্ছে, দাবি ইডির

নয়াদিল্লি: আইপ্যাক(I-PAC) কাণ্ডে রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দায়ের করল ইডি (Enforcement Directorate)।মামলায় খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), ডিজিপি রাজীব কুমার ( DG Rajiv Kumar) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমারের নামও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের হয়েছে – একটি ইডির তরফে, অপরটি মামলাটি আলাদাভাবে দায়ের করেছেন ইডির তিন অফিসার। ইডির অভিযোগ, আই-প্যাক-এ অভিযানের সময় তাঁরা তদন্তে বাধা দিয়েছেন ও প্রমাণ নষ্ট করেছে। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আইন নিজের হাতে নিচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে বাধা দিতে রাজ্য পুলিশকে ‘অপব্যবহার’ করা হচ্ছে। পাল্টা ইডির বিরুদ্ধে আরও এক বার রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।

শীর্ষ আদালতের কাছে জমা দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চলার সময় জোর করে ভিতরে ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) মনোজ বর্মা এব‌ং বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী ভিতরে জোর করে প্রবেশ করে। ইডির আবেদনে জানিয়েছে, পশ্চিমবাংলার এক বিস্ময়কর পরিস্থিতি। যেখানে আইনের রক্ষক, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যার মধ্যে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ইডির তদন্তে বাঁধা দিছে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক এবং দুর্ভাগ্যজনক।দন্তকারীদের ভয় দেখানো, আটকে রাখা, গুরুত্বপূর্ণ নথি, মোবাইল, হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা, চুরি, ডাকাতি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।তাই আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হচ্ছি।

ইডির আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দসই না হলে বা তাতে তাঁর দল, মন্ত্রী কিংবা ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তথ্য উঠে আসার সম্ভাবনা থাকলে—তখনই একই ধরনের হস্তক্ষেপের ‘প্যাটার্ন’ দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আবেদনে উল্লেখ করে, আবেদনকারী বহু-রাজ্য মানি লন্ডারিং অপরাধের তদন্ত করছেন যার অধীনে ‘২৭৪২.৩২ কোটি টাকার অপরাধের আয় অবৈধ কয়লা খনি থেকে উদ্ভূত এবং সরকারি কোষাগারের ব্যয়ে পাচার করা হয়েছিল। আবেদনকারী ২০ কোটি টাকারও বেশি অপরাধের অর্থ প্রাপ্তির প্রমাণ পাওয়ার পর প্রতীক জৈনের বাসভবন তল্লাশি শুরু করেন যেহেতু তদন্ত চলছে, তাই এই আবেদনে সমস্ত তথ্য বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রয়োজনে শুনানির সময় আদালতের সামনে প্রকাশ করা হবে। চরম বিস্ময় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্য সচিব, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার এবং অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তল্লাশির সময় প্রবেশ করেন। তারা কেবল আবেদনকারীর কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়া শুরু করেননি, বরং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অপরাধমূলক উপাদান সম্বলিত ফাইল এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণও ছিনিয়ে নেন।আবেদনকারীদের কাছ থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল তা আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা দখল করে নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: সন্ত প্রেমানন্দ জি মহারাজের বাড়িতে আগুন, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ!

শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে ইডি উল্লেখ করেছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুসারে প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে বিডি যখন তল্লাশি করছিল তখন সেই নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ইডির অধিকারিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের তল্লাশি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। তল্লাশি চালানো হয়েছিল দুটি স্থানে। একটি প্রতীক জৈনের বাসভবনে এবং দ্বিতীয়টি ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির অফিস প্রাঙ্গণে যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মন্ত্রী তাই কলকাতার পুলিশ কমিশনার, পুলিশের ডেপুটি কমিশনার এবং অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা/কর্মচারীরা গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাই স্থানীয় পুলিশের কাছে এফআইআর দায়েরের জন্য আবেদন করা কেবল একটি নিরর্থক কাজই হবে না বরং স্থানীয় পুলিশকে যথাযথ তদন্ত না করতে এবং মুখ্যমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য একটি নিম্নমানের তদন্ত পরিচালনা করতে প্ররোচিত করবে।

সুপ্রিম কোর্টে ইডির আবেদন, এই ঘটনাটি সিবিআই-কে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হোক। কেড়ে নেওয়া হোক তাঁদের ডিজিটাল ডিভাইস। ‘ছিনিয়ে নেওয়া’ নথি তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করে তা ‘সুরক্ষিত’ করার আর্জিও জানিয়েছে ইডি।

Read More

Latest News