ওয়েব ডেস্ক: বৈভব-অভিজ্ঞানেরাই বিশ্বসেরা! ইংরেজদের নিধন করে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত (U19 World Champions India)। শুক্রবার বৈভব সূর্যবংশী অনবদ্য একটি ইনিংস খেলে দিল অনূর্ধ্ব-১৯ (India’s Under-19 Team) বিশ্বকাপ ফাইনালে। নিজের জাত বুঝিয়ে দিল, সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার সমস্ত রশদ তার মধ্যে রয়েছে সেটা বুঝিয়ে দিল। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল ৪১১/৯। জবাবে ইংল্যান্ড শেষ হয়ে গেল ৩১১ রানে। শেষের দিকে শতরান করেও দলকে জেতাতে পারলেন না ইংল্যান্ড। এই নিয়ে ছ’বার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতল তারা।
শুক্রবার টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক। শুরু ভালো হয়নি, ইংলিশ বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে ভারতের রানের গতিও ছিল শ্লথ।সাবধানী ক্রিকেট খেলছিল অধিনায়ক আয়ুষ এবং বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। একটা সময় তো বৈভবের রান ছিল ২৩ বলে ২৪।জেমস মিন্টোর একটা ওভারে মারল ১৮ রান। তিনটে চার, একটা ছয়। ওখান থেকে যে স্পিড তুলল, তা আর থামেনি।বিপক্ষ বোলারদের রীতিমতো শাসন করে যে খেলাটা বৈভব খেলল।বল সেঞ্চুরি থেকে ২৫ রান দূরে যখন আউট হল এই বিস্ময় প্রতিভা, তখন ভারতের রান সাড়ে পঁচিশ ওভারে ২৫১। ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রান। সঙ্গে ১৫টি চার। ১৫টি ‘ম্যামথ’ ছক্কা। যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই এমন ইনিংস খেলার স্বপ্ন থাকে। যা বাস্তবে করে দেখাল বৈভব।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনালে ৪১১ রান ভারতের! দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন বৈভব
বৈভবের পাশে অধিনায়ক আয়ুষ মহাত্রে (Ayush Mhatre) খেললেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ৫১ বলে ৫৩ রান। চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা করলেন নিখুঁতভাবে। তবে তিনি ফেরার পর বেদান্ত ত্রিবেদী করেন ৩২ রান। এরপর বাঙালি ক্রিকেটার অভিজ্ঞান কুণ্ডু ৩১ বলে ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ফিরে যান। বিহান মালহোত্রার সংগ্রহ ৩০ রান। শেষের দিকে কণিষ্ক চৌহান ২০ বলে ৩৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। ভারতের রান পৌঁছে যায় ৪১১ রানে।
এদিকে বল করতে নেমে যোগ্য সঙ্গত দেন আর এস অমব্রিশ (RS Ambrish)। টাইট লাইন-লেংথে শেষের দিকে ওভারগুলো প্রায় রানশূন্য রেখে শেষ মুহূর্তে বাজিমাত করলেন।লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুটা করেছিল আগ্রাসী ভঙ্গিতে। ভয়ডরহীন ক্রিকেট—সেই ছকেই খেলতে চেয়েছিলেন বেন ডকিন্স (Ben Dawkins), বেন মেইস (Ben Mayes), থমাস রিউ (Thomas Rew)-রা। কিছু সময়ের জন্য রান উঠল দ্রুত। কিন্তু তারমধ্যেই এল ছন্দপতন। ফের শেষের দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া ডকিন্সকে (৬৬) ফেরান আয়ুষ। এরপর দ্রুত গতিতে আরও তিন উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ১৭৪ রানে ৩ উইকেট থেকে ১৭৭ রানে ৭ উইকেট হয়ে যায় তারা। লড়াই চালিয়ে যান ফ্যালকনার (Falconer)। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি—ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইংল্যান্ড।শেষ পর্যন্ত ৩১১ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।







