কার্শিয়াঙ: পাহাড় সফরে গিয়ে একগুচ্ছ জনমুখী প্রকল্প ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের (Karseoung) জনসভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১ জুলাই থেকে পাহাড়ের মানুষ ১২৫ দিনের কাজের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পে আবেদন করার জন্য নেপালি ভাষাতেই ফর্ম পূরণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের ভাই শুভেন্দু পাহাড়ে ঘুরতে আসবে না, কাজ করতে আসবে।” পাহাড়ের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: জিটিএ দুর্নীতির ফাইল খুলছে সরকার, পাহাড়ে শিক্ষক-পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর
সভায় বিজেপির দীর্ঘদিনের পাহাড়ি সহযোগী শক্তির ভূমিকাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন বিমল গুরুং ও রোশন গিরির নাম। তাঁর বক্তব্য, পাহাড়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে দেশের নিরাপত্তায় পাহাড়ের মানুষের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
তিন দিন ধরে চলা ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৫০টিরও বেশি সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারতসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম নেপালি ভাষাতেই পূরণ করা যাবে, যাতে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়।
পাহাড়ের অর্থনীতিতে চা শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’ চালু করা হবে। পাশাপাশি ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সভা থেকে কর্মসংস্থানের বিষয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুলিশে বড়সড় নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগেও স্বচ্ছতা বজায় রাখার আশ্বাস দেন।
জিটিএ-র বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “অপরাধীদের জেলে ভরা হবে।” এছাড়া রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।







