মুর্শিদাবাদ: বাবাকে খুন করার হুমকি দিয়ে গত কয়েকমাস ধরে দশম শ্রেণীর (Class 10 Student) এক ছাত্রীর উপর শারীরিক অত্যাচার। শেষমেষ ওই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ছাত্রী, দাবি পরিবারের। ওই ছাত্রীকে জোর পূর্বক গোয়ালঘরে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করার সময় তাঁর বাবা উদ্ধারের পর লজ্জায় আত্মহত্যা করলেন ওই ছাত্রী।
পরিবারের দাবি, একবার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টার পর সুস্থ হয়ে ফের দ্বিতীয়বার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে জলঙ্গি থানার (Jalangi police station) পরাশপুর গ্রামে (Parashpur village)।
ওই ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্যক্ত করত এলাকারই এক যুবক। ওই যুবক গত মঙ্গলবার ওই ছাত্রীর বাড়ীর পাশে গোয়ালঘরে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করছিল, সেই সময় ওই ছাত্রীর বাবা-মা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। হঠাৎ করে ওই ছাত্রীর বাবা সকাল ১১ টাই বাড়ি ফিরলে মেয়ের চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পান। গোয়াল ঘর থেকে মেয়েকে উদ্ধার করার সময় অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যায়। ওই দিনই সন্ধ্যেবেলায় ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই ছাত্রী। তাকে তড়িঘড়ি স্থানীয় সারাংপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুস্থ হয়ে তিনদিন পর বাড়িতে ফিরে ফের সকলের অনুপস্থিতিতে গলায় দড়ি দিয়ে নিজের বাড়িতেই আত্মহত্যা করল ওই ছাত্রী।
আরও পড়ুন- মাধ্যমিকে টুকলির নতুন ট্রেন্ড! ধরা পড়ল ১২ পরীক্ষার্থী
ওই ছাত্রীর বাবার বাবার দাবি, তাঁর মেয়ে মৃত্যুর আগে তাকে জবানবন্দি দিয়ে গেছেন। গত কয়েক মাস ধরে তার মেয়েকে ভয় দেখাচ্ছিল এলাকার ওই যুবক, জোর পূর্বক শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছিল তাঁর মেয়েকে। কাউকে কিছু বললে তার বাবাকে খুন করে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় ওই যুবক। বাবার সামনে নিজের শীলতাহানির ঘটনা আর মেনে নিতে পারেননি ওই ছাত্রী, সে কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন সে। প্রথমে কীটনাশক খাওয়ার পরে, পরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই ছাত্রী। এমনটাই দাবি মেয়েটির পরিবারের। ঘটনার বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ছাত্রীর বাবা। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে জলঙ্গি থানার পুলিশ।







