ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) যত এগিয়ে আসছে রাজ্য-রাজনীতির পারদ চড়ছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট। রাজনৈতিক দলগুলি ঝড়ো প্রচার শুরু করেছে। মঙ্গলবার রায়গঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুললেন কংগ্রেস নেতা রাহল গান্ধী (Rahul Gandhi Campaigning in Raiganj)। সংবিধান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে! বঙ্গের ভোটের প্রচারে এসে বিজেপি এবং আরএসএস-কে একযোগে আক্রমণ শানালেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandh)। আজ বিজেপি, আরএসএস-এর ঘৃণা ছড়ানোর চিন্তাধারা সংবিধানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।”

রায়গঞ্জের সভার পর মালদহে উপস্থিত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আজকে এটা তাঁর দ্বিতীয় সভা। 'বিজেপি না তৃণমূল, কাদের নিয়ে বেশি বিরক্ত?' মালদহের সভা থেকে প্রশ্ন রাহুলের
রাহুল বলেন, “ভারতের পুরো ডেটা আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছেন। আমেরিকা এই ডেটা যেখানে খুশি রাখতে পারে। এটা জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী। মোদি আমাদের ডেটা দিয়ে দিয়েছেন আমেরিকাকে। দেশের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছেন।” মোদি আমেরিকাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রতি বছর আমেরিকার কাছ থেকে সাড়ে ৯ লক্ষ কোটি টাকার পণ্য কিনবে। তা হলে আপনারাই ভাবুন, তা হলে আমাদের এখানের ছোট কারখানাগুলি কী করবে!
'মমতা ৫ লক্ষ চাকরি দেবেন বলেছিলেন, এখন ৮৪ লক্ষ বেকারভাতা চাইছে, বাংলায় তামাশা চলছে!'

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শিল্প শেষ করে দিয়েছেন। আর দেশে নরেন্দ্র মোদী এই একই কাজ করছেন। ছোট ছোট শিল্প, কারখানা বরবাদ করে দিয়েছেন তাঁরা।ছোট-বড় সব কারখানা তো মমতাই বন্ধ করে দিয়েছেন বাংলায়। তাই বিজেপিকে ভোট দিলে আপনাদের ডবল ক্ষতি হবে। মমতা একদিকে সব শেষ করেছেন।
মোদি সরকারের দুর্নীতির কথা বললে তৃণমূলের কথাও বলতে হয়। ওরাও দুর্নীতিতে পিছিয়ে নেই। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পূরণ করতে পারেননি
কংগ্রেস নেতা বলেন, “নরেন্দ্র মোদি একটা নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা শুরু করেছিলেন। তা হল, আদানি গোষ্ঠীর কাছে দলের পুরো অর্থ এক জায়গায় রেখে দেওয়া। তিনি বিজেপিকে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে জুড়ে দিলেন। আদানির জন্য বিজেপি কাজ করায়। আদানি পয়সা, সাপোর্ট-সহ বিজেপি-কে দেয়। এটা আদানি সংস্থা নয়, এর নাম হওয়া উচিত মোদানি সংস্থা। এটা অর্ধেক আদানির, অর্ধেক মোদির।”

এদিন সভা থেকে তৃণমূল ও মমতার কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। কংগ্রেস নেতা বলেন, বাংলার সরকার যদি নিজের কাজ ঠিকমতো করত, আপনাদের চাকরি দিত, হিংসা না ছড়াত, তাহলে বাংলায় বিজেপির চিহ্ন দেখা যেত না কোনও দিন। তৃণমূলই বিজেপির জন্য রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে।
রাহুল বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে ভারতের যে চুক্তি মোদি করেছেন, তা নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছিল। আচ্ছা আপনারা এপস্টিনের কথা শুনেছেন? আপনারা জানেন এপস্টিন কে? আমেরিকায় ৩৫ লক্ষ ফাইল বন্ধ হয়ে রয়েছে। তাতে ভারতের মন্ত্রীদের নাম, বিজেপির নেতাদের নাম এবং নরেন্দ্র মোদিজিও নামও রয়েছেন। এপস্টিন ফাইল্সের চাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে। এই জন্য যখন ট্রাম্প মোদিকে বলেন, মোদিজি লাফান, তিনি লাফান। মোদিকে বলেন, আপনি ওখানে গিয়ে বসুন। তিনি সেখানে গিয়ে বসে পড়েন। কারণ, কন্ট্রোলার ট্রাম্পের হাতে রয়েছে।”

রাহুল বলেন, আমেরিকার কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে ভারত। আর এটা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। শুধু বিজেপির ক্ষতি নয়, গোটা দেশের ক্ষতি করেছেন তিনি। দেশের যুবসমাজ থেকে শুরু করে বাংলার কৃষক, সকলের ক্ষতি করেছেন মোদি।
কংগ্রেস নেতা বলেন,“দেশে আমাদের লড়াই আরএসএস এবং বিজেপির ঘৃণাভরা চিন্তাধারার বিরুদ্ধে। ভারত জোড়ো যাত্রায় আমি ৪০০০ কিলোমিটার হেঁটেছি। আমি একটাই কথা বলেছি, ঘৃণার বাজারে ভালবাসার দোকান খুলতে হবে। এই দেশ ঘৃণা শেখায় না। ভালবাসতে শেখায়। বিজেপি এবং আরএসএস ঘৃণা ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে। ওদের চিন্তাধারা সংবিধানকে ধ্বংস করছে। আমাদের সতর্ক হয়ে চলতে হবে।

রাহুল বলেন, সংবিধান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে! “দেশে কী চলছে, তা আপনারা ভালই বোঝেন। আজ বিজেপি, আরএসএস-এর ঘৃণা ছড়ানোর চিন্তাধারা সংবিধানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।”







