Placeholder canvas

Placeholder canvas
Homeচতুর্থ স্তম্ভFourth Pillar | মোদি সরকার এবার সরকারি দলিল সামনে রেখেই হিন্দু-মুসলমান বিষ...
Fourth Pillar

Fourth Pillar | মোদি সরকার এবার সরকারি দলিল সামনে রেখেই হিন্দু-মুসলমান বিষ ছড়ানোর ব্যবস্থা করল

নরেন্দ্র মোদি–অমিত শাহ আসলে মানুষকে ভুল বোঝাতে চায়

Follow Us :

বহু প্রাচীন এক জুমলা, এক ডাহা মিথ্যে, এক শয়তানি হল মাঝেমধ্যেই বলা যে মুসলমানেদের জনসংখ্যা এমন বাড়ছে যে তা নাকি আর কিছুদিনের মধ্যেই হিন্দু জনসংখ্যাকে ছাপিয়ে যাবে। মাঝেমধ্যেই এই ন্যারেটিভে ধোঁয়া দেওয়া হয়। তলার সারির কিছু বিজেপি কর্মী নেতা, বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ইত্যাদির মতো কিছু সংগঠনের নেতা এই কথাগুলো বারবার বলেন, প্রকাশ্যেই বলেন আর অবশ্যই বিজেপির আইটি সেলে তো নিয়মিত এই কথা বলা হয়। আজ সেটা নিয়েই আলোচনা, বহু তথ্য এনে জড়ো করে এই প্রতিবেদন। দেশের হিন্দু জনসংখ্যা কমছে আর মুসলমান জনসংখ্যা বাড়ছে এরকম এক অর্ধসত্যও কি কখনও দীনদয়াল উপাধ্যায় বা অটলবিহারী বাজপেয়ী বা লালকৃষ্ণ আদবানির মুখে শুনেছেন? কখনও শুনেছেন? না শোনেননি। ওনাদের জনসভার আগে পরে ওই একই মঞ্চ থেকে এইসব কথা বলা হয়েছে, ওনারা বলেননি আবার এসব বলতে বাধাও দেননি, এটাও সত্যি। কিন্তু মোদি জমানা সব অর্থেই এক অন্য জমানা, সমস্ত সভ্যতা ভব্যতা, পদমর্যাদা ভুলেই এই মিথ্যে এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন। আর প্রধানমন্ত্রী বললে তো বিষয়টা এক ধরনের লেজিটিমেসি পেয়ে যায় অতএব বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা বলছেন, ক্যাবিনেট মন্ত্রী, রাজ্য কেন্দ্র স্তরের নেতারা অবলীলায় বলছেন, সেই দুর্দিন আগত যেদিন আমাদের জনগণনা জানিয়ে দেবে হিন্দু পপুলেশনকে ছাপিয়ে গেছে মুসলমান জনসংখ্যা। হিন্দু খতরে মে হ্যায়। সেদিন ওই যে মঙ্গলসূত্র কেড়ে নেওয়া হবে, শেখ শাহজাহানের দল রাতে পিঠেপুলি বানাতে নিয়ে আসবে জোর করেই, দুটো মোষ থাকলে তো কথাই নেই, একটা চলে যাবে ওই ওদের ঘরে। আপাতত এটাই হল নির্বাচনী ইস্যু। আপনি যখন মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় পাগল হয়ে যাচ্ছেন তখন আপনাকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে আপনার মঙ্গল কামনায় যে মঙ্গলসূত্র তাই যদি লুঠ হয়ে যায় তাহলে জিনিসপত্রের দাম নিয়ে ভেবে কীই বা হবে? অতএব আপনি চাকরি নিয়ে বেকারত্ব নিয়ে, আয়ের বৈষম্য নিয়ে, স্বচ্ছ পানীয় জল নিয়ে, ছেলেমেয়ের শিক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে, ক্রমাগত বাড়তে থাকা মেডিক্যাল বিল নিয়ে ভাববেন না। ভেবে লাভও নেই কারণ আপনার চিন্তা হল, ওই যে ওদের জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। কীভাবে বাড়ছে?

এক) ওই ওদের প্রচুর বাচ্চা হয়, এটা নাকি ওরা মসজিদের নির্দেশেই করে, এটা নাকি এক পরিকল্পনা। দুই) ধর্মান্তরণ করে, ওদের ধর্মে ৩-৪টে বিয়ে করার অধিকার আছে, এসব বুঝিয়ে ধর্মান্তরণ করে ওই ওরা ওদের জনসংখ্যা বাড়াচ্ছে। তিন) লাভ জেহাদ। ওই ওদের মেয়েরা বেছে বেছে হিন্দু সচ্ছল পরিবারের ছেলে বা ওই ওদের ছেলেরা হিন্দু বড়লোক পরিবারের মেয়েদের প্রেমের জ্বালে ফাঁসায়, তারপরে ধর্মান্তরণ করে, ওই ওদের সংখ্যা বেড়ে যায় আর সেই সব ধর্মান্তরিতদের আইসিস বানানো হয়, তারপরে জানতে হলে দেখুন কেরালা স্টোরি। তো এই মুহূর্তে দেশের জনসংখ্যা কত? কার্টেসি মোদি সরকার, কেউ জানে না। কেন? কারণ আমাদের জনগণনা হওয়ার কথা ছিল ২০২১-এ, অনেক কিছু হয়েছে, সেন্সাস বা জনগণনা হয়নি, অতএব জানাই যায়নি যে এই মুহূর্তে আমাদের দেশের জনসংখ্যা কত? হিন্দু জনসংখ্যাই বা কত? আর মুসলমান জনসংখ্যাই বা কত বেড়েছে। না, আমরা জানি না, ২০২২-এও এই কাজ হয়নি, ২০২৩-এও হয়নি। কারণ মোদি সরকার কিছু তথ্য আমাদের কাছ থেকে লুকোতে চাইছেন। জনগণনা তো কেবল মাথা গোনে না, আরও অনেক কিছুই গোনে। বাসস্থানের হিসেব আসবে, আসবে বেসিক নিডস-এর বিষয়গুলো। আসবে গ্রাম শহরের হিসেব, আসবে পরিযায়ী মানুষদের হিসেব, শিক্ষার হিসেব সব মিলিয়ে এমন কিছু তথ্য এসে হাজির হবে যা বিজেপি সরকারের কাছে এমব্যারাসিং, সরকারের কাছে অস্বস্তিকর। এবং জনগণনা করলেই দাবি উঠবেই জাতিগত জনগণনার, তার থেকে সংরক্ষণের প্রশ্ন নিয়ে নতুন তথ্য বার হয়ে আসবে। এসব অস্বস্তি থেকে বাঁচার জন্যি মোদি সরকার জনগণনাকে অ্যাভয়েড করেই চলেছেন। আসলে বোকা আর ভিতুরা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে ভয় পায়, আর এই মুহূর্তে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের চেয়ে বোকা আর ভিতু আর কাউকে পাবেনই না। কাজেই জনগণনা হয়নি। এই মুহূর্তে হিন্দু-মুসলমান জনসংখ্যার প্রকৃত তথ্য জানা নেই।

এই জায়গাতে এসেই আপনি বলতেই পারেন, বেশ তো ২০২১-এ হয়নি, ২০১১-র হিসেব তো আছে? সেটা নিয়েই আলোচনা শুরু হোক। অবশ্যই, আর উপায় কী। কিন্তু ২০১১-র জনসংখ্যার ভিত্তিতে আলোচনা করার আগে একটা কথা বলে রাখা দরকার, একটা ক্যাভিয়েট দেওয়া রইল। সমাজ বিজ্ঞানে অগ্রগতি কিন্তু এক গতিতে হয় না, তার বিভিন্ন পরিবর্তন সমাজ যত বিকশিত হয়, বিজ্ঞান, চিকিৎসা শাস্ত্র, শিক্ষা এবং আবিষ্কার যত বিকশিত হয় তার চেয়ে হাজার গুণ গতিতে, সমাজের বিভিন্ন ছোট বড় স্তরে পরিবর্তন আসে রকেট গতিতে। একটা ছোট মাপকাঠিই দেখা যাক উদাহরণ হিসেবে, মোবাইল আসার আগের যুগ আর মোবাইল আসার পরের যুগ, এই দুই সময়কালে চমকে দেওয়ার মতো পরিবর্তন হয়েছে, এটা তো মানবেন। মানে বলতে চাইছি ১৯৫০ থেকে ১৯৬১-র সেন্সাস রিপোর্টে যে পরিবর্তন দেখা গেছে তার চেয়ে হাজার গুণ পালটে গেছে ২০০১ থেকে ২০১১র জনগণনা। ১৯৫০-এ মানুষের ইনফর্মেশনের সোর্স ছিল খবরের কাগজ আর কিছু শিক্ষিত মানুষের কথাবার্তা। ১৯৮১-তে এসে গেছে টিভি কিন্তু একটা দূরদর্শন, ২০০১-এ বহু চ্যানেল এবং মোবাইল আসছে, ২০১১-তে অজস্র চ্যানেল, মোবাইল আসতে শুরু করেছে সর্বত্র আর ২০২০? ২০২১? কার কাছে নেই মোবাইল? সরকার ১৯৭১-এ বিজ্ঞাপন দিয়েছে হাম দো হামারে দো, আজ তা দিতেই হয় না কেন? কারণ ওই সোর্স অফ ইনফরমেশন, তার থেকে জন্ম নেওয়া সচ্ছলতার চাহিদা আর উপায়, জন্ম নেওয়া ছোট পরিবারের আকাঙ্ক্ষা। সব মিলিয়ে হু হু করে এক বদলে যাওয়া সমাজ। কাজেই ২০১১-র পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনার আগেই বলে দেওয়া উচিত যে এরপরের জনগণনা এক আমূল বদলে যাওয়া ছবি হলে অবাক হবেন না। তার কিছু কিছু ইঙ্গিত তো আমাদের কাছে আছে। কারণ জনগণনা নাই বা হল আমাদের ন্যাশন্যাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে কিন্তু নিয়মিত হয়েছে। আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের উদ্যোগেই এই সার্ভে হয়, তার রিপোর্ট আসে। বিশেষ করে জনসংখ্যার বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধর্মের মানুষজনদের সেই বৃদ্ধির হার ইত্যাদি জানা যায়। তো সেই এনএফএইচএস রিপোর্ট বলছে ১৯৯৩-এ জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ মানুষ কোনও না কোনও এক জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। ২০১৬তে সেটাই ৫৩.৫ শতাংশ আর ২০২১-এ ৬৬.৭ শতাংশ। অর্থাৎ এই জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহারের হার ১৯৯৩ থেকে ২০১৬তে বেড়েছে ১০ পার্সেন্টেজ পয়েন্টের মতো। কিন্তু ২০১৬ থেকে ২০২১-এর মধ্যে বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ। কাজেই ২০১১তে হিন্দু জনসংখ্যার বৃদ্ধি, মুসলমান জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং তাদের ফারাক একরকম হবে না, ড্রাস্টিক্যালি আলাদা হবে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | মোদি-শাহ নার্ভাস, বিজেপির গ্রাফ নামছে

এবার আসুন ওই মিথটাকে নিয়ে বসা যাক যে মুসলমান জনসংখ্যা হিন্দু জনসংখ্যাকে ছাপিয়ে যাবে আর ক’ বছরের মধ্যেই, কথাটার সত্যতা কতটা? নির্বাচন এসেছে আর মোদি অ্যান্ড কোম্পানির হিন্দু-মুসলিম কার্ড ফেলা শুরু হয়েছে। সম্ভবত সেই আগুনের উত্তাপ আরও বাড়াতে এক রিপোর্ট বার করা হল মাত্র ক’দিন আগেই, যার হেডলাইন বিজেপির আইটি সেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে ১৯৫০ থেকে ২০১১র মধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা ৮৪.৬৮ শতাংশ থেকে ৭৮.০৬ শতাংশে এসেছে, মুসলমান জনসংখ্যা ৯.৮৪ শতাংশ থেকে ১৪.৪৯ শতাংশ বেড়েছে। ব্যস, অশ্বত্থামা হত ইতি গজ নিয়ে রে রে করে প্রচার চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আর একথা তো সত্যি যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আর যাই বলা যাক শিক্ষিত তো বলা যায় না। আর অশিক্ষিতের বা অর্ধশিক্ষিতের প্রথম কাজ হল এক অর্ধসত্য, অর্ধ মিথ্যেকে নিজের ফায়দার জন্য কাজে লাগানো, উনি সেটা মন দিয়ে করছেন। করুন। আসুন সত্যিটা জেনে নিই। তথ্য হিসেবে এটা সত্যি। এই তথ্য নিয়ে একটা ৬৭ পাতার রিপোর্ট প্রাইম মিনিস্টার গ্রুপ অফ অ্যাডভাইজরি কমিটি থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং এতে বিরাট পণ্ডিত মানুষজন আছেন। রিপোর্টটির নাম হল শেয়ার অফ রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ, আ ক্রস কন্ট্রি অ্যানালিসিস। দুনিয়ার ১৬৭টা দেশের বিভিন্ন তথ্য আর আমাদের দেশের তথ্য মিলিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করে নির্বাচনের বাজারে ছেড়ে দেওয়ার পিছনে কারণ আছে বইকী। এর হেডলাইনকে কাজে লাগানো হবে, পুরোটা কেউ পড়বেই না। এই রিপোর্টে বলা হচ্ছে এই ১৬৭টা দেশের মেজর রিলিজিয়ন, সবচেয়ে বড় ধর্মের মানুষদের জনসংখ্যা ২১.৯ শতাংশ কমেছে। ক’টা দেশে হিন্দু জনসংখ্যা মেজরিটি? নেপাল আর ভারত। বাকি বেশিরভাগ দেশেই খ্রিস্টানিটি। আর বহু দেশে বিশেষত আফ্রিকার বহু দেশে আগে ধর্ম ছিল অ্যানিমিজম, পশু, পাখি, আকাশ, পাথর, নদী পুজো করা, সে ধর্ম প্রায় পুরোটাই উবে গিয়ে সেখানে খ্রিস্টানিটি এসেছে। ঠিক যেমন আমাদের আদিবাসীরা আপাতত হিন্দু ব্র্যাকেটে এসে গেছেন, ১৯৫১তেই তাঁদের হিন্দু করে দেওয়া হয়েছে এক ঝটকায়। তো এই রিপোর্ট বলছে এই গরিষ্ঠাংশ ধর্মের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমল কোথায়? ওইসিডি দেশগুলোতে, মানে পৃথিবীর সবথেকে বিকশিত দেশগুলোর ৩৮টা দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের জনসংখ্যা ৩৩ শতাংশ কমেছে। যারা পৃথিবীর অর্ধেক এনার্জি ফুয়েল ব্যবহার করে, যাদের মোট জিডিপি গ্লোবাল জিডিপির ৩-৫ ভাগ, যারা পৃথিবীর ৭৫ শতাংশ বাণিজ্য করে এবং যাদের জনসংখ্যা পৃথিবীর মাত্র ১৮ শতাংশ। হ্যাঁ, তাঁদের মেজরিটি ধর্ম মানেন, অধিকাংশই খ্রিস্টান, এমন জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ কমেছে এবং তাতে তাঁদের একটি লোমও ছেঁড়া যায় না। কারণ তাঁরা বাণিজ্য, শিল্প, সংস্কৃতি, ছবি, সিনেমা, কবিতা, সাহিত্য শিক্ষা, গবেষণা নিয়ে মগ্ন, তাঁরা এ প্লাস বি হোল স্কোয়ারে এক্সট্রা টুএবি খুঁজে পাননি। তাঁদের দিন কাটে না ধর্মের তাস খেলে, তাঁদের দেশে উগ্রপন্থা আঘাত হানে, ইসলামিক টেররিস্টরা সমস্যা, কিন্তু দেশের মুসলমানরা সুরক্ষিত, মুসলমান দেখলেই তাঁদের টেররিস্ট মনে হয় না।

আবার এটাও ঘটনা যে এই ১৬৭টা দেশের ৩৮টা ইসলামিক কান্ট্রির মধ্যে ২৫টা দেশে মুসলমান জনসংখ্যা বেড়েছে, ১৩টার কমেছে। তার একটা কারণ হল বহু ইসলামিক দেশেই আপনাকে চাকরির জন্য থাকতে দেওয়া হয়, কিন্তু নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না। এবং অবশ্যই বহু ইসলামিক দেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া, কাজেই জনসংখ্যার সাধারণ সূত্র ধরেই সেখানে জনসংখ্যা বাড়ছে। আমাদের প্রতিবেশীদের দিকে তাকানো যাক। বাংলাদেশে ১৮.৫৫ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান, ভুটানে ১৭.৬৭ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ, শ্রীলঙ্কায় ৫.২৫ শতাংশ বৌদ্ধ, পাকিস্তানে ৩.৭৫ শতাংশ মুসলমান, আফগানিস্তানে ০.২৯ শতাংশ মুসলমান, যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাঁদের জনসংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে মালদ্বীপের ১.৪৭ শতাংশ মুসলমান, নেপালে ৩.৬১ শতাংশ হিন্দু, ভারতে ৭.৮২ শতাংশ হিন্দু আর মায়ানমারে ৯.৮৪ শতাংশ হিন্দু পপুলেশন কমেছে। বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা বিভিন্ন কারণে বেড়েছে বা কমেছে, তবে পৃথিবীজুড়ে ধনী, বিকশিত দেশের জনসংখ্যা সবথেকে বেশি কমেছে তা এই রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে যে পৃথিবীতে ভারত সহ ১৬৭টা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের মানুষজনদের জনসংখ্যা কমেছে, কেবল ভারতে হিন্দুদের নয়। এবং ওই রিপোর্টেই বলা হচ্ছে, আমাদের দেশের মুসলমান মানুষজন, সংখ্যালঘু মানুষজন অন্তত ২০১৫ পর্যন্ত মোটের উপর ভালো ছিলেন, এক গণতান্ত্রিক পরিবেশেই, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেই তাদেরও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছিল। ২০২১-এ জনগণনা হয়নি, ২০২৫-এ হবে আশা করাই যায় এবং নিশ্চিতভাবেই সেদিন যে তথ্য পাওয়া যাবে তা আরও ভালো করেই বুঝিয়ে দেবে যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার বাকিদের সঙ্গে তাল মিলিয়েই কমছে। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভের সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, দেশের ফার্টিলিটি রেটের হিসেবে হিন্দু মহিলাদের ১০ জন ১৯টি সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, মানে ফার্টিলিটি রেট ১.৯, সেখানে মুসলমান সম্প্রদায়ের মহিলাদের ফার্টিলিটি রেট ২.৩, মানে ১০ মহিলা ২৩ সন্তানের জন্ম দিচ্ছে। মানে একসময় যেখানে ফার্টিলিটি রেটের তফাত ছিল দুইয়ের কাছাকাছি, মানে হিন্দুদের ঠিক দ্বিগুণ সন্তান হত সংখ্যালঘু মুসলমানদের তা হু হু করেই নেমেছে। আমাদের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী অফিসার, এস ওয়াই কুরেসি, এই নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছেন, তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি একই অবস্থা চলতে থাকে তাহলেও, ২১০১ সালে দেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১৭০ কোটিতে, যার মধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা হবে ১২৭ কোটি, মুসলমান জনসংখ্যা হবে ৩২ কোটি, সেই বছরে তাঁর হিসেব অনুযায়ী ফার্টিলিটি রেট দাঁড়াবে ১.৭-এ, হ্যাঁ দুই ধর্মের মানুষজনের। আসলে তার বহু আগেই কমবে, চাবিকাঠি ওই অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে লুকিয়ে আছে।

তাহলে কী দাঁড়াল? আরএসএস–বিজেপি, নরেন্দ্র মোদি–অমিত শাহ আসলে মানুষকে ভুল বোঝাতে চায়, জনসংখ্যা, উন্নয়ন বিকাশ তাঁদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে নেই, আছে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা, এক চরম অন্যায়, মিথ্যে অস্ত্র নিয়েই তারা মানুষের ভোট পেতে চায়, একথা আজ প্রত্যেককে বুঝতে হবে, বোঝাতে হবে।

RELATED ARTICLES

Most Popular