Wednesday, May 13, 2026
HomeScrollAajke | ভোট আসছে, ভূতের মুখে রাম নাম শুনছি, বিজেপির মুখে গণতন্ত্রের...

Aajke | ভোট আসছে, ভূতের মুখে রাম নাম শুনছি, বিজেপির মুখে গণতন্ত্রের কথা

একধাক্কায় নরেন্দ্র মোদিও ‘জয় শ্রী রাম’ থেকে ‘জয় মা কালী’, ‘জয় মা দুর্গা’তে এসে দাঁড়িয়েছেন

বিশেষ অনুষ্ঠানের আগে মানুষ পোশাক বদলায়, আদতে যা তার বিপরীত একটা চেহারা তুলে ধরার কাজে নেমে পড়ে। দুই, তিন, চার অক্ষর ছাড়া কথাই বলতে পারেন না এমন তথাকথিত ভদ্রলোকের মুখে শুনেছি অমৃতবাণী। আসলে মুখোশ এঁটে নেওয়া এক স্বভাব। তো যশ্মিন দেশে যদাচার, ভোট আসলেই বিজেপি নানান চেহারা নিয়ে হাজির হয়। নানান কথাবার্তা বলে ফেলে যা শুনলে মনে হবে এ কী কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিজেপির একমাত্র ইন্টেলেকচুয়াল রাজ্য সভাপতি বলেছেন, “আমি কোট করছি, আমার বাড়িতে আমি কী রান্না করব, নিরামিষ খাবো না আমিষ, কোন ডাল হবে? সেটা অন্য কেউ ঠিক করবেন নাকি?” ভাবা যায়! খবরের কাগজে ছাপার পরে আমি সেই সাংবাদিককে আবার জিজ্ঞেসও করেছি, “ভাই তুমি এটা নিজেই কানে শুনেছো? তখন কটা বাজে? মানে রাত গড়ালে তো অনেকেই অনেক কথা বলেন, তাই জিজ্ঞেস করেছিলাম।” তো জানলাম, আরও কিছু সাংবাদিকদের সামনেই শমীক ভট্টাচার্য এই কথাগুলো বলেছেন। সেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি, যে বিজেপি দলের কর্মী সমর্থকেরা ফ্রিজে কেবল গরুর মাংস রাখা আছে, এই সন্দেহেই এক লাখ আহমেদকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিল। সেই বিজেপি, যার কর্মকর্তারা চিত্তরঞ্জন পার্কে গিয়ে মাছের বাজার বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল। সেই বিজেপি, যারা নবরাত্রিতে মাছ-মাংসের দোকান খোলা থাকলে ভাঙচুর করে। সেই বিজেপি, যারা শ্রাবণ মাসে কাঁওয়ার যাত্রার দু’পাশে কোনও আমিষ হোটেল থাকলে একমাস তা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। হ্যাঁ, সেই বিজেপি দলের বাংলার রাজ্য সভাপতি বললেন আমার ঘরে কী রাঁধব, আমিষ না নিরামিষ, তা কি কাউকে জিজ্ঞেস করে রাঁধতে হবে? সেটাই আজকে বিষয় আজকে। ভোট আসছে, ভূতের মুখে রাম নাম শুনছি, বিজেপির মুখে গণতন্ত্রের কথা।

তো শমীকবাবু যিনি নাকি শক্তি চট্টোপাধায়ও পড়েছেন, তিনি এই কথাগুলো বেমক্কা বলতে গেলেন কেন? মানে প্রসঙ্গটা কী ছিল? প্রসঙ্গ ভারী পুরনো। যে গেরো কাটানোর জন্য ওনাকে দলের রাজ্য সভাপতির পদে বসানো হয়েছে, যে গেরো কাটানোর জন্য একধাক্কায় এমনকি নরেন্দ্র মোদিও ‘জয় শ্রী রাম’ থেকে ‘জয় মা কালী’, ‘জয় মা দুর্গা’তে এসে দাঁড়িয়েছেন, সেই গেরোই হল প্রসঙ্গ। মাগো রেখেছো বিজেপি করে বাঙালি করো নি। এটাই তো এক বড় প্রশ্ন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা বললেই বাংলাদেশি অপবাদে মার খাচ্ছে এই বাংলার বাঙালি। গতকালও মেদিনীপুরের একটি ছেলেকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই আবহে এই প্রশ্ন যখন আরও বড় চেহারা নিচ্ছে, ঠিক তখন জানা গেল উত্তর কলকাতাতে বিজেপির যে জেলা কমিটি তৈরি হয়েছে তার ৯১ জনের মধ্যে ৬৮ জন অবাঙালি, মারোয়াড়ি, গুজরাতি। উত্তর কলকাতায় অবাঙালি বসবাস তো আজকের নয়, সেই কবে অস্ত্র লুঠের সময়ে প্রভুদয়াল হিম্মত সিংকার ভূমিকার কথা আমরা জানি। অনেকেই ছিলেন, আর মারওয়াড়ি, গুজরাতি বেনিয়ারা উত্তর কলকাতাতে সেই লর্ড ক্লাইভ কেন সিরাজের সময় থেকেই আছেন। কিন্তু রাজনীতিতে? একজন জৈন, তাও আবার জন্ম-কর্ম মুর্শিদাবাদে, বিজয় সিং নাহার ছাড়া উত্তর কলকাতা, বা উত্তর পশ্চিম কলকাতার রাজনীতির জ্যোতিষ্করা সব্বাই বাঙালি। সেই মেঘনাথ সাহা থেকে শুরু করে হিরেন মুখার্জী, অশোক সেন, দেবীপ্রসাদ পাল, সুধাংশূ শীল বা সুদীপ ব্যানার্জী, মহম্মদ সেলিমরা ছিলেন আছেন উত্তর কলকাতার রাজনীতির ময়দানে।

আরও পড়ুন: Aajke | মতুয়া পাড়ায় জমাটি লড়াই, এদিকেও বিজেপি, ওদিকেও বিজেপি

হ্যাঁ, ডেমোগ্রাফি বদলেছে। মুসলমানেরা তো পার্ক সার্কাস বা খিদিরপুর আর পকেটের মত জানবাজার ইত্যাদির বাইরে পা বাড়াতে পারেনি, কিন্তু কলকাতা ধীরে ধীরে চলে গেছে এই মারওয়াড়ি, গুজরাতি বেনিয়াদের হাতে। গগণচুম্বী সব ফ্ল্যাটবাড়িগুলোর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ তাঁদের হাতে, পুরনো বর্ধিষ্ণু বাঙালিদের বাড়িগুলো একে একে চলে যাচ্ছে তাঁদের হাতে। কিন্তু এখনও তৃণমূল বা বাম বা কংগ্রেস রাজনীতির আঙিনায় তাঁরা আছেন বৈকি। কিন্তু এরকম এক অবস্থাতে নেই যাতে ৯১ জন জেলা কমিটি সদস্যের মধ্যে ৬৮ জনই সেই ওনারা, যাঁদের মাছের বাজার বসলে গন্ধ লাগে। সেই তাঁরা, যাঁদের পান গুটখার দাগ কলকাতার গায়ে বসন্তের ক্ষতের মত জ্বলজ্বল করে। সেই তাঁরা, যাঁরা দোল নয়, হোলি মানান, দুর্গাপুজো নয়, নবরাত্রির ডান্ডিয়া খেলেন, দীপাবলি নয় দেওয়ালি পালন করেন। কাজেই এক স্বাভাবিক প্রশ্ন ছিল বিজেপি রাজ্য সভাপতির কাছে, তাপস রায়কে দলে নেওয়ার পরেও কি ঐ উত্তর কলকাতাতে আপনাদের বাঙালি কম পড়ছে? সেই প্রশ্নে জবাবে খানিক বিচলিত রাজ্য সভাপতি আরেক প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছেন, সে পোকা তো তাঁকে কামড়াবেই। আমরা আমাদের দর্শকদের প্রশ্ন করেছিলাম যে, উত্তর কলকাতায় বিজেপির ৯১ জন জেলা কমিটি সদস্যের মধ্যে ৬৮ জন অবাঙালি, দিল্লির সরকারে রাজ্য থেকে ১২ জন সাংসদের একজনও পূর্ণ মন্ত্রী বা ক্যাবিনেট মন্ত্রী নন, দেশ জুড়ে বাঙালি পেটানো হচ্ছে, এগুলোই কি বলে দেয় না যে বিজেপি আদতে বাঙালি বিরোধী এক রাজনৈতিক দল?

কর্নাটকের দু’জন সাংসদ আছে জনতা দল সেকুলারের, একজন ক্যাবিনেট মিনিস্টার। বৃহৎ শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী, হিন্দুস্থান আওয়াম মোর্চার একজনই সাংসদ আছে বিহারে, জিতন রাম মাঞ্ঝি, তিনিও ক্যাবিনেট মন্ত্রী। এরকম আরও অনেক উদাহরণ আছে, ওড়িশা থেকেও আগে ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিল, যদিও সাংসদের সংখ্যা ৪ থেকে ৫ ছিল। কিন্তু বাংলাতে ১২ জন সাংসদ, একজনও ক্যাবিনেটে নেই, সব হাফ প্যান্টুল মন্ত্রী। আসলে বাংলাকে গুরুত্বই দিতে চায় না বিজেপি। নির্বাচনের আগে বড় বড় কথা বলে, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গদিতে বসার চেষ্টা চালিয়েই যাবে কিন্তু বাঙালি হবার চেষ্টা? না, সেখানে ওই পান-গুটখা অবাঙালিই থেকে যাবে বিজেপি। এরই মধ্যে সামান্য পরিবর্তন, রাজ্য সভাপতি নাকি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতাও পড়েছেন।

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs toto slot gacor https://todayinnewsfocus.com/ BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188 toto slot toto SlotPoker188 situs toto