ওয়েব ডেস্ক: প্রয়াত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি (Sharif Osman Hadi)। ‘পরিবর্তনের’ বাংলাদেশে অকালে ঝরে গেল একটি প্রাণ। ওসমান হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ (Unrest situation in Bangladesh)। উত্তেজিত জনতার রোষ থেকে রেহাই পেলেন না সাংবাদিকেরাও। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক ‘প্রথম আলো’ (Prothom Alo)এবং ফার্মগেটে ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’—দু’টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে হামলা চলল, বাদ গেল না ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও। আগুনের জেরে কার্যালয়ের ভিতরে ও ছাদে আটকে পড়েন সাংবাদিক ও কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ নামাতে হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তাল হয়ে উঠল ঢাকা। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের দুই সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ এবং ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর দফতরে ভাঙচুরের পরেই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ডেলি স্টার-এর ভাঙচুর চালাতে শুরু করে উন্মত্ত জনতা। একটা সময়ে ধরানো হয় আগুনও। এক সংবাদ কর্মী বলেন, এক সময়ে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ‘নিউ এজ’ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর সেখানে যান। শান্ত করার চেষ্টা করেন হামলাকারীদের। কিন্তু পাল্টা হেনস্থার শিকার হন তিনি। কয়েকজন সংবাদকর্মী আতঙ্কে দশ তলার ছাদে উঠে যান। সেই সংখ্যাটা ছিল প্রায় ২৮ জন।’ এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কারণে শুক্রবার প্রকাশিত হচ্ছে না প্রথম আলো ও ডেলি স্টার পত্রিকা। দু’টি সংবাদমাধ্যমের অনলাইন কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। ‘বিবিসি বাংলা’-র প্রতিবেদন অনুসারে, দমকল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভিতরে আটকে পড়া সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়। অন্য দিকে, খুলনায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা।
আরও পড়ুন: ফের কেন উত্তপ্ত বাংলাদেশ? ওসমান হাদি কে?
শুক্রবার সকালেও সেখানে কয়েকটি জায়গা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।এদিন সকাল ৭টাতেও বাংলাদেশের শাহবাগ মোড়ে চলছে অবস্থান বিক্ষোভ। ময়মনসিংহে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাড়িতে ফের ভাঙচুর চালানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদপত্রগুলি জানিয়েছে, রাজশাহীতেও মুজিবের অপর একটি বাড়ি এবং আওয়ামী লীগের দফতর ভাঙচুর করা হয়েছে। বাংলাদেশের বহু জায়গাতেই বিক্ষোভকারীদের মুখে ছিল শেখ হাসিনা এবং ভারত-বিরোধী স্লোগান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি নিয়ে চিন্তিত মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে শনিবার ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন ইউনূস।
গত শুক্রবার জনবহুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।একসপ্তাহ ধরে লড়াই করছিলেন মৃত্যুর সঙ্গে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দশটা নাগাদ থেমে গেল সব লড়াই। ‘পরিবর্তনের’ বাংলাদেশে অকালে ঝরে গেল একটি প্রাণ।







