ওয়েব ডেস্ক: উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ঝড়ের গতিতে প্রচারে চালাচ্ছে তৃণমূল শিবির।রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জনসংযোগ বাড়িয়ে ভোটের ময়দানে শক্ত জমি তৈরি করতে মরিয়া শাসকদল। বিশেষ করে উত্তরে দলের মাটি শক্ত করতে মেগা প্রচার চালাচ্ছে মমতা-অভিষেক। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) টানা তিনটি জনসভা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। কোচবিহারের মাথাভাঙা বিধানসভার ঘোকসাডাঙায় সভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারে আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে মমতা। ভোটের আগে ফর্ম পূরণ করিয়ে নাম-ঠিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিচ্ছে, সব লুট করে নেবে! বিজেপিকে তোপ দাগলেন তৃণমূলনেত্রী।
“অসম থেকে এনআরসি-র নোটিস পাঠাচ্ছে।ভোট চলাকালীন মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার নামে আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে আসছে। আমার তো ৩৭ শতাংশ মহিলা আছে। আমাকে তার জন্য সংরক্ষণ করতে হয়নি। আমি মহিলা সংরক্ষণকে সমর্থন করি। মহিলাদের জন্য একই বিলে কেন আসন পুনর্বিন্যাস করে পশ্চিমবঙ্গকে খণ্ড খণ্ড করবে! মহিলাদের আত্মসম্মান আছে। মহিলাদের অসম্মান করা হচ্ছেৃ। মহিলা বিল অনেক দিন আগে পাশ হয়ে আছে। তুমি এখনও কার্যকর করনি কেন? প্রশ্ন মমতার
চা শ্রমিকদের বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, মোদিজি এসে বলেছিলেন আলিপুরদুয়ার-জলপাইগুড়িতে পাঁচটি চা বাগান খুলে দেবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত খোলেননি। আমরা খুলেছি।

“ঝড়ে, জলে, সাইক্লোনে, বন্যায়, বাড়ি ভেঙে গেলে, উন্নয়নে দেখা নাই। ভোটের সময়ে তাই বলছি, আগামী পাঁচ বছর তোমার দেখা নাই গো, তোমার দেখা নাই। বাংলায় তোমাদের জায়গা নেই। বিজেপিকে আক্রমণ মমতার
ভোট কাটার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিন। বিজেপি-কে রাজনৈতিক ভাবে এই জেলার মাটিতে বিনাশ করুন।”
কোচবিহারে আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে মমতা বললেন, 'আমার হাতে এখন আইনশৃঙ্খলার ভার না থাকলেও আগামী দিনে তো থাকবে। ভোট এলেই কোচবিহারে অশান্তি কেন হবে?'

মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসকে যুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, এর আড়ালে আসলে রাজ্য ভাগের পরিকল্পনা, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং এনআরসি কার্যকর করার চক্রান্ত লুকিয়ে রয়েছে।
বিজেপির বুথে বসার মতো কর্মী নেই, এজেন্সির মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে এবং তাদেরই বুথে বসানো হচ্ছে। টাকা নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে: মমতা

শুনেছেন তো, নাম বাদ দেওয়ার জন্যই যে এসআইআর, কাল শাহ তা নিজের মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন।মমতার অভিযোগ, নাম বাদ দেওয়ার জন্যই যে এসআইআর, তা নিজের মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন শাহ। এই সূত্রে তিনি বলেন, “যারা তাড়ানোর কথা বলছে, তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাব।
বিজেপির মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে জনসভা থেকে গেরুয়া শিবিরকে তোপ মমতার। তিনি বলেন, “এত যখন কাজের ইচ্ছা, তখন ভোটের আগে করোনি কেন বাপু? এখন ফর্ম পূরণ করাচ্ছে। ফর্মে আপনাদের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিচ্ছে। ভুলেও দেবেন না। যেটুকু ছিল, তাও লুট করে নেবে।







