পূর্ব বর্ধমান: রেলের জমিতে জবরদখল উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে কার্যত থমথমে মেমারী স্টেশন (Memari Railway Station) চত্বর। গত ৩০ এপ্রিল রেলের (Indian Railways) তরফে নোটিশ জারি করে জানানো হয়েছিল, ২ মে’র মধ্যে সমস্ত জবরদখলকারীকে জায়গা খালি করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল রেলের (Eastern Railway) পক্ষ থেকে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে কিছুটা অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানান। ব্যবসায়ীদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে রেলের তরফে ১৮ মে পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়।
অবশেষে নির্ধারিত সময় শেষ হতেই রবিবার রাত থেকে মেমারী স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক দোকান ও অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা নিজেরাই। যে স্টেশন চত্বর প্রতিদিন ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম থাকত, সেখানে এখন শুধুই নীরবতার ছবি। বহু ব্যবসায়ী চোখে জল নিয়ে দোকান গুটিয়েছেন। কারও মুখে হতাশা, কারও কপালে চিন্তার ভাঁজ। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বরে ব্যবসা করে সংসার চালানো মানুষগুলোর সামনে এখন বড় প্রশ্ন— “কোথায় যাব? কীভাবে চলবে সংসার?”
আরও পড়ুন: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানো ও নিরাপত্তা জোরদার করতে মালদহ কাজ শুরু
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। বিকল্প জায়গা বা নতুন ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা। অনেকের অভিযোগ, হঠাৎ করে সবকিছু ভেঙে ফেলা হলে বহু পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়বে। রেল সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ায় সোমবার রাত থেকেই স্টেশন চত্বরে বুলডোজার অভিযান চালানো হবে। রেলের জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
দেখুন আরও খবর:







