ওয়েব ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে শুভেন্দু অধিকারী (North Bengal CM Suvendu Adhikari)। শিলিগুড়ি পৌঁছে উত্তরবঙ্গের মানুষকে প্রণাম করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বুধবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেবে শুভেন্দু বলেন, প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে এবার থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী যাবেন। উন্নয়নের কাজও খতিয়ে দেখবেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রতি সপ্তাহে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উত্তরকন্যায় বসবেন। উন্নয়নের কাজকর্ম দেখাশোনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গেও দেখা করে তাঁদের দাবিদাওয়া-কথা শুনবেন। বাগডোগরায় তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব।
উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির কাছে শক্ত ঘাঁটি। লোকসভা হোক বা বিধানসভা— গত এক দশক ধরে এই উত্তরবঙ্গে ভাল ফল করছে বিজেপি। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ৪০টি। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আজ, বুধবার উত্তরবঙ্গে প্রথম পৌঁছলেন শুভেন্দু অধিকারী।প্রশাসনিক সভা থেকে শুরু করে একাধিক কর্মসূচি সেরে বিকেলেই কলকাতায় ফিরবেন তিনি। এগিন বাগডোগরা বিমান বন্দরে পা রেখেই উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে জেতানোর জন্য সাধারণ মানুষদের শুভেচ্ছা জানান। শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে বিজেপি-কে পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গ জায়গা দিয়েছে। এ বার উন্নয়নের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করব।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটপ্রচারে এসে উত্তরবঙ্গের জন্য যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পূরণ করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, প্রতি মাসে এক বার করে তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা উত্তরবঙ্গে আসবেন। পাশাপাশি শুভেন্দু বলেন, ‘‘এ বার থেকে প্রতি সপ্তাহে উত্তরকন্যায় বসবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। শুনবেন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ।
আরও পড়ুন:রাজ্যের পরবর্তী CEO কে হবেন? তালিকায় নাম ৩ জনের, দেখুন বিগ আপডেট
শুভেন্দুর মুখে শোনা যায় উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার কথাও। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকারের অনমনীয় নীতি বজায় থাকবে। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কোনও ভাবেই তোলাবাজি, গুন্ডাগিরি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি সহ্য করা হবে না।আইন আইনের পথেই চলবে।’’ পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের চা বলয়, পর্যটন এবং বন্ধ বা থমকে যাওয়া কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পগুলিকে দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত করাই বুধবারের প্রশাসনিক বৈঠকের মূল লক্ষ্য, তা-ও তিনি আকারে-ইঙ্গিতে স্পষ্ট করে দেন। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চিকিৎসা পরিষেবা এবং চা বাগানের সমস্যা, বেআইনি নির্মাণ, জমি ও বালি-পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রসঙ্গ। এদিন মুখ্যমন্ত্রী উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। জানা গিয়েছে, সামনে বর্ষা তাই বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেতে চলেছে বন্যা, হড়পা বান, ভূমিধস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা।







