কলকাতা: তৃণমূলের বিপর্যয়ের মধ্যেই বেসুরো দলের আরও এক সাংসদ। কাকলির পর ‘বেসুরো’ পর এ বার সুখেন্দুশেখর রায়। ‘নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন মানুষ’, জুলিয়াস সিজারের প্রসঙ্গ টেনে ফের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট সুখেন্দুশেখর রায়ের (Sukhendu Sekhar Roy)। মঙ্গলবার সকালে স্যোশাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর। রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়েছেন।” সুখেন্দুশেখরের এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তো বটেই, তৃণমূলের অন্দরেও আলোচনা শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তাতে পরোক্ষে তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরকেই (Trinamool Congress) খোঁচা দেওয়া হয়েছে।
তাসের ঘরের মতো উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল। নেতা-মন্ত্রীরা খানিক বেসুরো। তৃণমূলের একাধিক নেতা মন্ত্রীকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়াতেও গেৎা গিয়েছে। বেশকিছু ওয়ার্ড থেকে একাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগও করেছেন। দুর্নীতির দায়ে সংক্রমণের মতো বেড়েই চলেছে নীচুতলার নেতাদের গ্রেফতারি। দলের অন্দরে বাড়ছে ক্ষোভের আগুন। বেসুরোদের বার বার সতর্ক করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তারপরও ছাই চাপা আগুনের মতো ফুলকি হয়ে বেরিয়ে আসছে ক্ষোভ! তেমনই জল্পনা উসকে দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। এক্সমাধ্যমে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে কানাঘুষো।
আরও পড়ুন: অবশেষে পুলিশের জালে রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় এক্স মাধ্যমে রোমান সম্রাটের উদাহরণ দিয়ে লিখেছেন, ‘খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে মার্চের ‘আইডস’-এর দিন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার সেনেটের মধ্যেই ছুরিকাঘাতে নিহত হন। রোমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ‘আইডস’ সাধারণত মার্চ, মে, জুলাই ও অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখকে বোঝানো হত। কিন্তু এ বছরের মে মাসের ‘আইডস’ আসার আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছেন।’ সুখেন্দুশেখেরের পোস্টে একটা কথা স্পষ্ট যে, বাংলায় নৈরাজ্যের পরিস্থিতি ছিল, তা বকলমে স্বীকার করে নিলেন তিনি? তার পোস্টেই লেখা, মে মাসের ১৫ তারিখের আগেই ‘নৈরাজ্যের পরিস্থিতির অবসান’ ঘটিয়েছেন বাংলার মানুষ।ওই পোস্টের প্রসঙ্গে সুখেন্দুশেখর এখনও সবিস্তার কিছু বলেননি। তবে ঘনিষ্ঠমহলে তৃণমূলের শোচনীয় ফলাফল নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।







