কলকাতা: ‘রূপ ভারতী'(Rupa Bharati)) কেবল একটি নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নয়, এক সৃজনশীল বাঙালিয়ানার প্রতীক। যে প্রতিষ্ঠানে নৃত্য চর্চার সাথে সাথে চলতে থাকে আরও অনেক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। ১৯৭৬ সালের শুভ অক্ষয় তৃতীয়ার পূর্ণ লগ্নে রূপভারতীর যাত্রা শুরু মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়ি থেকে। নিত্যশ্রী কেকা চট্টোপাধ্যায়ের(Keka Chattopadhya) উদ্যোগে এই নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু করে প্রথম দিকের সভাপতি ছিলেন বিচারক শঙ্কর প্রসাদ মুখার্জি সম্পাদক ছিলেন নীলমণি মুখার্জি, কোষাধ্যক্ষ রমন চ্যাটার্জী ও প্রধান অধ্যাপিকা ছিলেন কেকা চট্টোপাধ্যায় নিজে।
কেকা চট্টোপাধ্যায় ভারতনাট্যম প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তার গুরুদের কাছ থেকে এবং নিজের নিরলস শ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছিলেন। তারপর একের পর এক প্রযোজনা রূপ দিয়েছিলেন এবং মঞ্চস্থ করেছিলেন দলের সকলকে নিয়ে। কাজ করেছেন সেই সময়ের তাবড় তাবড় শিল্পীদের সাথে। তার অনেক প্রাপ্তির মধ্যে রাজ্য যুব কংগ্রেস থেকে স্বর্ণ পদক বিশেষ ভাবেই উল্লেখ্যযোগ্য। নিজের গুণের যোগ্যতায় তৎকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণের উপস্থিতিতে নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন। এছাড়াও ভারতীয় শিল্পী পরিষদের সদস্য এবং দূরদর্শনের পর্দায় বহুবার নৃত্য পরিবেশন করেছেন। একদিকে ঘর সংসার সন্তান সামলেছেন অন্য দিকে নিজের স্বপ্ন তারা করে গেছেন। নৃত্য এই শিল্প কলাকে আঁকড়ে ধরে নিজের স্বপ্ন স্বাকার করেছেন।
রুপ ভারতীর প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য শৈলীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রত্যেক নতুন প্রজন্মের কাছে তার সঠিক রূপ ও কলা প্রদর্শন করা। শিক্ষা দেওয়া। কেকা চট্টোপাধ্যায়ের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তার কন্যা ডক্টর সূর্যানী চট্টোপাধ্যায় এখন এই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক। এ ভাবেই পাঁচ দশক পেরিয়ে রুপভারতী এগিয়ে চলেছে আগামীর দিকে।
রূপ ভারতীর কিছু উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞান শকুন্তনতলাম,মিলন তীর্থ ভারতবর্ষ, নতুন দেশ,অন্ধকারের উৎস হতে,এক যে ছিল রাজা, ছড়ার দেশে রবীন্দ্রনাথ,বাংলার মুখ,রবীন্দ্রনাথের নানান নৃত্যনাট্য ইত্যাদি।রূপ ভারতী এর পঞ্চাশ বছর উদযাপন আগামী ১৯ জুন, ২০২৬, মহাজাতি সদনে, সন্ধ্যা ৫টা থেকে। রূপ ভারতীর ৫০ বছরের পথচলার গল্প, সংগ্রাম ও সাফল্যের এক দৃশ্যচিত্র। সংস্কৃতি জগতের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানো হবে।
পদ্মশ্রী শ্রীমতি মমতা শঙ্কর, গুরু প্রদীপ্ত নিয়োগী, গুরু কহিনূর সেন বরাত, শ্রী চন্দ্রদয় ঘোষ, শ্রী সব্যসাচী চক্রবর্তী, শ্রী অরিন্দম গাঙ্গুলী এবং শ্রীমতি খেয়ালি দোস্তিদার। সত্তর বছরের ঊর্ধ্বে কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা :
এই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হল সত্তর বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা।
এরপর থাকবে শ্রী কহিনূর সেন বরাত ও পশ্চিমবঙ্গ ডান্স গ্রুপ ফেডারেশনের সদস্যদের অসাধারণ পরিবেশনা। এদিনের মূল আকর্ষণ ‘বানজারা’ ভারতের সমৃদ্ধ ও বর্ণময় লোকসংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে একটি প্রযোজনা। সঙ্গীত, তাল, পোশাক ও গল্প বলার মাধ্যমে এই পরিবেশনার লক্ষ্য ভারতীয় সমাজের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারাকে তুলে ধরা ও সংরক্ষণ করা, এবং আমাদের বৈচিত্র্যের মধ্যে নিহিত সৌন্দর্যকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
রূপ ভারতীর সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়। এটি ৫০ বছরের এক গৌরবময় যাত্রা, অসংখ্য স্মৃতি এবং শিল্পের এক ঐতিহ্যের উদযাপন। রূপ ভারতী যখন নতুন অধ্যায়ে পা রাখছে, এই মাইলফলক চিরকাল নৃত্যের জগতে শ্রেষ্ঠত্ব, সংস্কৃতি ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে থাকবে।







