ওয়েব ডেস্ক: ফ্রান্সে (France) অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের (G-7 Summit) মঞ্চে দীর্ঘ ১৬ মাস পর মুখোমুখি হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের আবহে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বেই করমর্দনের মাধ্যমে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান দুই রাষ্ট্রনেতা।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে শেষবার বৈঠক হয়েছিল মোদি ও ট্রাম্পের। এরপর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। অপারেশন সিঁদুর, মার্কিন শুল্কনীতি, ইরান-আমেরিকা সংঘাত, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর মতো বিষয় দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনে এই সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: ইরান-আমেরিকা সমঝোতা, খুলছে হরমুজ প্রণালী, কতটা সুবিধা হবে ভারতের?
১৫ জুন শুরু হওয়া জি-৭ সম্মেলন চলবে ১৭ জুন পর্যন্ত। জি-৭-এর স্থায়ী সদস্য না হলেও বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে ভারত নিয়মিতভাবে এই সম্মেলনে অংশ নেয়। এ বছর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল মাক্রোঁর আমন্ত্রণে ফ্রান্সে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলন কক্ষে বিশ্বনেতারা নিজ নিজ আসন গ্রহণ করার সময়ই মুখোমুখি হন মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হাসিমুখে সম্ভাষণের পর করমর্দন করেন তাঁরা। যদিও অতীতে বহুবার দেখা যাওয়া উষ্ণ আলিঙ্গনের দৃশ্য এবার দেখা যায়নি। করমর্দনের পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই আলোচনার বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সূত্রের খবর, জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকেই আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মোদি ও ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস আগেই সেই বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে ওমান উপকূলে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়টি। ওই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হওয়ায় নয়াদিল্লি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ফলে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে এই প্রসঙ্গও উঠে আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
দেখুন আরও খবর:







