ওয়েব ডেস্ক : শ্রাবণ মাসকে সামনে রেখে তারকেশ্বরে (Tarkeshwar) শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। এ বছর প্রথমবার জাতীয় উৎসবের মর্যাদা পেয়েছে শ্রাবণী মেলা। ফলে প্রতি বছরের তুলনায় এবার ভক্ত ও জলযাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, যাতায়াত এবং তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, শ্রাবণ মাস জুড়ে শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হবে। প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর গড়ে উঠবে অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র, যেখানে পানীয় জল, ওআরএস, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকবে। শুধু তারকেশ্বর নয়, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন জয়ন্তী এলাকাতেও পুলিশ সহায়তা শিবির ও মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু করা হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে ভক্তদের উপর পুষ্পবৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
আরও খবর : শ্রাবণে শিবভক্তদের জন্য আকাশপথে পুষ্পবৃষ্টি, তারকেশ্বরে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর (Tarkeshwar) পর্যন্ত পথে চারটি বৃহৎ সেবা শিবির এবং ১৬টি সহায়তা কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। নিমাই তীর্থ ঘাট-সহ একাধিক ঘাট সংস্কারের পাশাপাশি সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পৃথক মঞ্চও নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৫ থেকে ১৯ জুলাই বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৮ জুলাই থেকে সাধারণ মানুষের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে যাবে শ্রাবণী মেলা।
শুধু শ্রাবণী মেলাই নয়, রাজ্যের ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, প্রথম পর্যায়ে আটটি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। বহু বছরের পুরনো রথ সংস্কার এবং সংরক্ষণের পাশাপাশি রাজ্যের প্রাচীন মন্দিরগুলির রক্ষণাবেক্ষণেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের দাবি, ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং তীর্থ পর্যটনের সমন্বিত বিকাশ ঘটাতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।







