কলকাতা: দীর্ঘ অনশনের জেরে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। শনিবার সফদরজং হাসপাতাল প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, জোর করে হাসপাতালে নিয়ে আসার পরও তিনি অনশন ভাঙতে রাজি হননি। এমনকি চিকিৎসকদের দেওয়া স্যালাইন বা ওষুধ গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেছেন তিনি। ফলে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন অনশনে থাকার ফলে সোনমের শরীরে মারাত্মক ডিহাইড্রেশন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পটাশিয়ামের মাত্রাও কমতে শুরু করেছে। চিকিৎসকদের মতে, রক্তচাপ, নাড়ির গতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও তা স্বাভাবিক নয়। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ শরীরে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।
স্বাস্থ্য বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সোনমের রক্তে কিটোনের মাত্রা দ্রুত বেড়েছে। সকালে যেখানে কিটোনের মাত্রা ছিল ১+, দুপুরের পর তা বেড়ে ৩+ হয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, অনশন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পটাশিয়ামের মাত্রা আরও কমে গেলে হৃদযন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোনমকে শিরায় তরল (IV Fluids) দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। মুখে খাওয়ার কোনও ওষুধও গ্রহণ করেননি। অর্থাৎ, এখনও অনশন প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেননি তিনি। চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখছেন। তবে অনশন দীর্ঘায়িত হলে তাঁর স্বাস্থ্য আরও দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে হাসপাতাল।







