বীরভূম: চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে আইনি চাপে পড়লেন তৃণমূলের (TMC) প্রাক্তন বীরভূম (Birbhum) জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সিউড়ি (Suiri) সিজেএম আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে সিউড়ি থানার পুলিশ। অনুব্রত ছাড়াও প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা, বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন সভাপতি রাজা ঘোষ-সহ মোট ছ’জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার সূত্রপাত চলতি বছরের ১১ জুন। সদাইপুর থানার সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা কল্যাণ ঘোষ সিউড়ি সিজেএম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০১৭ সালে তাঁর ও এক আত্মীয়ের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রসেনজিৎ ঘোষ, তন্দ্রা ঘোষ ও উত্তম ঘোষ নামে তিন ব্যক্তি সরাসরি টাকা নেন। পাশাপাশি অনুব্রত মণ্ডল, জীবনকৃষ্ণ সাহা ও রাজা ঘোষের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিধানসভায় ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট, প্রশ্নের মুখে তৎকালীন তদন্ত
অভিযোগকারীর দাবি, পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তরফে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও সেখানে পোস্টিংয়ের উল্লেখ ছিল না। এরপর আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
আদালত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও নির্ধারিত সময়ে তা দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি-সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই গত ১৭ জুলাই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে সিউড়ি থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।







