HomeScrollছয় দিনে ১০০-র বেশি উদ্ধার অভিযান, নেপালের প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া
Priya Adhikari

ছয় দিনে ১০০-র বেশি উদ্ধার অভিযান, নেপালের প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া

হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় বছরের পর বছর উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছরের প্রিয়া অধিকারী; ভয়াবহ বন্যা ও ধসের মধ্যেও টানা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাণ বাঁচানোর লড়াই

ওয়েব ডেস্ক : নেপালে ভয়াবহ বন্যা (Nepal Flood) ও ভূমিধসে যখন একের পর এক এলাকা বিপর্যস্ত, তখন আকাশপথে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন এক সাহসী মহিলা পাইলট। তিনি প্রিয়া অধিকারী (Priya Adhikari), নেপালের প্রথম মহিলা হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন। মাত্র ছয় দিনের মধ্যে প্রায় ১০০টি উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই নজির গড়েছেন তিনি।

৪১ বছরের প্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে হিমালয় অঞ্চলে উচ্চতাজনিত উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত। দুর্গম পাহাড়ে আহত পর্বতারোহীদের উদ্ধার থেকে শুরু করে বিপর্যস্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া—বিভিন্ন কঠিন অভিযানে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। কয়েকটি উদ্ধার অভিযানে প্রায় ৬২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত হেলিকপ্টার নিয়ে উড়েছেন তিনি।

আরও খবর : মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরেছিলেন, টাইমস স্কোয়ারে ছুরির আঘাতে প্রাণ গেল তরুণী ব্যাঙ্ককর্ত্রীর

তবে পাইলট হওয়ার পথটা একেবারেই সহজ ছিল না। পরিবেশবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করার পর প্রথমে বিমানসেবিকার কাজ শুরু করেছিলেন প্রিয়া। পরে একটি হেলিকপ্টারে চড়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাইলট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিলিপিন্সে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। প্রয়োজনীয় উড়ান সম্পূর্ণ করার পর ২০১৭ সালে পেশাদার হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।

বর্তমানে নেপালের ভয়াবহ বন্যা (Nepal Flood) ও ভূমিধসের উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছেন প্রিয়া। রসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার একসঙ্গে উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছে। সংকীর্ণ এলাকায় একসঙ্গে পাঁচ-ছটি হেলিকপ্টারকে অবতরণ করিয়ে দ্রুত মানুষকে সরিয়ে নিতে হচ্ছে। নিচের জমিও সবসময় নিরাপদ নয়। কাদা ও ধসে যাওয়া মাটির কারণে অনেক জায়গায় হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন বন্ধ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

আকাশ থেকে ধ্বংসের ভয়াবহ ছবি দেখেও থেমে থাকেননি প্রিয়া Priya Adhikari। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, আবার একইসঙ্গে হেলিকপ্টারের অপেক্ষায় থাকা জীবিত মানুষদেরও দেখেছেন। প্রথম দুদিনেই তিমুরে এলাকা থেকে ২০০-র বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। টানা উড়ানের ক্লান্তি থাকলেও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়াকেই নিজের দায়িত্ব বলে মনে করছেন প্রিয়া। বিপর্যয়ের মধ্যে বেঁচে যাওয়া মানুষদের দেখাই তাঁকে আরও শক্তি দিচ্ছে।

[youtube-feed feed=1]
Read More

Latest News