কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দিনে দিনে দলের অন্দরে ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে। কালীঘাটে দফায় দফায় মিটিং করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ছিলেন। এই অস্তির পরিস্থিতিতে রাজ্যের নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর এই প্রথমবার বিধানসভা চত্বরে বড়সড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC At Bidhansabha)। ভোট-পরবর্তী অশান্তির পাশাপাশি হকার উচ্ছেদ এবং নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহারের বিরোধিতায় সুর চড়ান তৃণমবলের বিধায়করা। বুধবার বিধানসভায় বিআর অম্বেডকর মূর্তির পাদদেশে দলের অর্ধেকেরও কম বিধায়ককে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই অবস্থান কর্মসূচি।
রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন জেলায় অশান্তির অভিযোগ তুলে আসছে তৃণমূল। তাদের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে তাদের কর্মীদের উপর ‘হামলা’ হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই বুধবার তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অবস্থান বিক্ষোভ করেন তৃণমূল বিধায়কেরা। কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন দলের পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে সেখানে নেই দলের ৫০ বিধায়কই।এই বিক্ষোভে তৃণমূলের মাত্র ৩৪ জন বিধায়ক হাজির ছিলেন৷ ছাব্বিশের ভোটে বিপুল হারের পর দলের প্রথম পরিষদীয় কর্মসূচিতেই গরহাজির রইলেন অর্ধেকেরও বেশি তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA Absent)! যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।বিধায়কদের অনুপস্থিতির বিষয় তো রয়েছেই, তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। এদিনের কর্মসূচিতে একাধিক স্লোগান উঠেছে তৃণমূল বিধায়কদের তরফে। কিন্তু লক্ষ্যণীয়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’, ‘তৃণমূল জিন্দাবাদ’ স্লোগান উঠলেও, একবারের জন্যও ওঠেনি ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান!
আরও পড়ুন: অভিষেক-সায়নী ঘোষের যৌথ মালিকানা সম্পত্তি! বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন সায়নী
১৫ বছরের শাসনের পর ফের বিরোধী আসনে তৃণমূল। নতুন করে মসনদে বসতে হলে মানুষের আরও কাছে পৌঁছতে হবে। ফের নতুন করে মানুষের জন্য লড়তে হবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘাসফুল শিবিরের তরফে সেরকম কোনও পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। কার্যত প্রকাশ্যেই আসেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করলেও তা আটকে রয়েছে সোশাল মিডিয়াতেই।হকার উচ্ছেদের বিরোধিতাও করা হয়েছে সেই সোশাল মিডিয়াতেই। ফলে ক্রমশ কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে দলের।







