কলকাতা: পঞ্চায়েত দখল বা বোর্ড ভাঙার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে এবার কড়া বার্তা দিলেন বঙ্গ বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পঞ্চায়েত পরিবর্তনের খেলায় জড়িত থাকলে দলের কোনও নেতা বা বিধায়ককেও রেয়াত করা হবে না। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয় এইমস (AIIMS) গঠন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
পঞ্চায়েতগুলিতে তৃণমূল প্রধানদের ইস্তফা এবং বোর্ড পরিবর্তনের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর চর্চা চলছে, তখন শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপি নীতিগতভাবে কোনও নির্বাচিত সরকার বা নির্বাচিত বোর্ড ফেলে দেওয়ার পক্ষে নয়। এই পথ আমাদের নয়।” তাঁর দাবি, বহু ক্ষেত্রে যা দেখা যাচ্ছে তা আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। তিনি আরও বলেন, “যাঁরা এসব করছেন তাঁরা চার ঘণ্টার বিজেপি। অতি উৎসাহী কিছু মানুষ মাঠে নেমে পড়েছেন। সে যত বড়ই পার্টি নেতা হোক বা বিধায়কও যদি হয়, যে পঞ্চায়েত বদল করে দিচ্ছে তাকেও দলীয় শৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে হবে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলাভঙ্গের খাড়া নেমে আসবে।”
আরও পড়ুন: দলের প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই গরহাজির একাধিক বিধায়ক, তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি?
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েও সরব হন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের বহু হাসপাতালের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। নির্বাচনের আগে আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই কাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সরকারকে একটু সময় দিন। সব জায়গায় একটা রাজনৈতিক প্রভাব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দল ও সরকার সেখান থেকে পরিস্থিতি বের করে আনবে।” এই প্রসঙ্গেই উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয় এইমস তৈরির কথা ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ফলে সেখানে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো তৈরিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও বিদেশে থাকা অনাবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানান বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, “দেশের বাইরে বহু ক্ষেত্রে ভারতীয়রা নিজেদের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে আসুন। রাজ্য সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উপহার দেবে।”
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, আগে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হত না। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন। এমনকি তৃণমূলের হয়ে প্রচার করার লোকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির সংগঠন যে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, সেই দাবিও করেন রাজ্য বিজেপির এই নেতা।
দেখুন আরও খবর:







