Saturday, February 7, 2026
HomeWTCযুবভারতীর বাইরে যা হয়েছে রাজ্যের কী মত? প্রশ্ন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির
Calcutta High Court

যুবভারতীর বাইরে যা হয়েছে রাজ্যের কী মত? প্রশ্ন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির

‘সুজিত বসু কার জমিতে তৈরি করলেন মেসির মূর্তি?’

কলকাতা: কলকাতায় মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা (Yuba Bharati Stadium Chaos Case) সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা শুনানি শেষ রায়দান স্থগিত। রায়দান স্থগিত রাখলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য এদিন আদালতে বলেন, ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের জন্য অগাস্ট মাস থেকে ব্যাপক প্রচারের আয়োজন করা হয়। শতদ্রু দত্ত প্রচার করেন যুবভারতীতে মেসি আসবেন তারপর সেখানে কিছুসময় বল নিয়ে তিনি খেলবেন। তারপর তাকে সংবর্ধনায় দেওয়া হবে। দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস তিনি মেসিকে দিয়ে একটা ৭০ ফুটের মূর্তির উন্মোচন করান। তারপর হায়াত হোটেলে মেসিকে নিয়ে টাকার বিনিময়ে ছবি তোলার ব্যাবস্থা করা হয়। ফলে তার মাঠে পৌঁছাতে ৪০ মিনিট দেরি হয়ে যায়। আয়োজক শতদ্রু দত্ত জানান তিনি মাত্র ১৫০ টির মতো পাশা দিয়েছিলেন। কিন্তু আরও ৩০০ এর বেশি পাশ দেওয়া হয় বিভিন্ন ব্যাক্তিকে। আসলে আয়োজক শতদ্রু দওকে (Satadru Dutta) সামনে রেখে রাজ্যের শাসক দল এই সম্পূর্ণ করিয়েছে। ফলে সাধারণ দর্শকরা যারা টাকা দিয়ে দেখতে এসেছিলেন তারা কিছুই দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়।মেসিকে দ্রুত মাঠের বাইরে নিয়ে চলে যাওয়া হয়।

কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের প্রশ্ন, সুজিত বসু যে মূর্তি করেছেন, সেটা কি সরকারি জমিতে ? না ব্যক্তিগত জমিতে বসানো হয়েছে? সরকারি জমিতে এভাবে ব্যক্তিগতভাবে কিছু বসানো যায়? পাল্টা রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, ৬৫ কোটি টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন. “এত টাকা কীভাবে দেওয়া হয়? কারা আগের ডিরেক্টর ছিলেন? টেন্ডার কি দেওয়া হয়েছিল?” আর এ ক্ষেত্রেই উঠে আসে মানি ট্রেলের প্রসঙ্গ।

বিধাননগর দক্ষিণ থানার পক্ষে দীপঙ্কর দত্ত (সাব ইনসপেক্টর)একটি এফয়াইয়ার করেন। ৬.৩০ মিনিট নাগাদ এফয়াইয়ার দায়ের হয়। শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। সব থেকে উদবেগের বিষয় ৭-৮ জন দর্শককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় রাজ্যের শাসক দলের একাধিক মন্ত্রীর যে যোগ রয়েছে সে ব্যাপারে পুলিশের দায়ের করা এফয়াইয়ারে কোন উল্লেখ নেই। স্টেডিয়ামের ভিতরে জলের বোতল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না থাকলেও ২০০ টাকা করে ভিতরে জলের বোতল বিক্রি করা হয়েছে। এই এফয়াইয়ার আসলে লোক দেখানো। প্রভাবশালীদেরকে আড়াল করার হাতিয়ার হিসাবে এটা করা হয়েছে। যারা ভিতরে জড়িত তাদেরকে আড়াল করার প্রচেষ্টা। এই পুরো ঘটনার ভিতরে আর্থিক দূর্নীতি রয়েছে। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে মেসিকে আগাম ৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল।কোথা থেকে সেই টাকা দেওয়া হল? এই অনুষ্ঠানে মাঠের ভিতরে যা হয়েছে তা আসলে মাঠের বাইরের স্ক্যামের ফল।

হায়াত হোটেলের অনুষ্ঠান পুরোটাই ম্যানেজ করেছেন মন্ত্রী সুজিত বসু।আর যুবভারতীতে ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রি অরুপ বিশ্বাস। যেহেতু রাজ্যের মন্ত্রীরা যুক্ত রয়েছেন এখানে তারজন্য এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, আবেদনকারী ময়ুখ বিশ্বাসের আইনজীবী, ১৩ ডিসেম্বরের ইভেন্টের অডিট করা হোক।সিএজিকে দিয়ে।এবং সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেটিং অথরিটিকে দিয়ে এর তদন্ত করা এবং অডিট করা হোক।
অনুষ্ঠানের টিকিটে যে সিল মারা হয়েছে সেটা রাজ্যের ক্রীড়া দফতরের। তার মানে পুরো অনুষ্ঠান আসলে রাজ্যের। সমস্তটার পিছনে রাজ্য সরকার রয়েছে। এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ইডিকে দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। একটা চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচের কথাও বলা হয়েছিল।টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কে ফেরত দেবে টাকা?

আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তৃতীয় মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠান করার নামে সাধারণ মানুষের টাকার নিয়ে বিপুল আর্থিক দূর্নীতি করা হয়েছে। একটা এডমিনিস্ট্রেটিভ কমিটি ডিজিপিকে সাসপেণ্ড করেছে। কোন রাজ্যের এজেন্সি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে? এর যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। পুলিশ স্ব:তপ্রনোদিত এফয়াইয়ার করে, দর্শকদের উপর সমস্ত দায় ঠেলেছে।গোটা বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্যের তিনজন আপিএস অফিসারকে নিয়ে তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। কিন্তু রাজ্যের মন্ত্রীরা যুক্ত।এর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতার জন্যই ক্ষমা চেয়ে প্রাক্তন বিচারপতিকে দিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। অনুষ্ঠানে শাহরুখ খান, সৌরভ গাঙ্গুলি, লিয়েণ্ডার পেজের মত ব্যাক্তিরা যে থাকবেন তা লিখিত ভাবে জানানো হয়নি পুলিশকে। ইমেইল করে জানান হয়।

যুবভারতীর ভিতরে জলের বোতল বা পাউচের অনুমতি নেই।মেসিকে জেড ক্যাটেগরি নিরাপত্তা দেওয়া হয় স্বারাস্ট্র মন্ত্রকের পক্ষথেকে। কতজন নিরাপত্তা রক্ষী থাকবে না থাকবে সে ব্যাপারে কিচ্ছু জানান হয়নি। শতদ্রু দত্ত মোট৪০০ জনকে পাশ দিয়েছিলেন।২৭ টি পাশ দেন যারা মেসির একেবারে কাছে যেতে পারবেন।এই ২৭ টি হায়াত হোটেল, যুবভারতী এবং এয়ারপোর্ট মিলে। বাকি ৩৭৩টি দেন ডিউটিপাশ যারা মাইক, প্যাণ্ডেল ডেকোরেটর দেখাশোনা করবে।আই বি ওয়েস্ট বেঙ্গল ১২ জনকে পাশ দিয়েছিলেন যার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী ও রয়েছেন। সোশাল মিডিয়া মনিটরিং সেলকে ৬ টি এবং সুপিরিয়র পুলিশ আধিকারিকদের ২৫ টি পাশ দেওয়া হয়। ফলে টোটাল ৮২টি পাশ হয় ক্লোজ প্রক্সিমিটির। মোহনবাগান বনাম ডায়ামণ্ড হারবার একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল। একটি কমিশন গঠন করা হয় প্রাক্তন বিচারপতি অসীম রায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নিয়ে। রাজ্যকে তদন্ত করতে সময় দিতে হবে। এখনই তাদের পক্ষে কে দোষী এবং কে নয় তা বলা সম্ভব নয়।কমিশন প্রাথমিক ভাবে ১৫ তারিখ একটি রিপোর্ট দেয়।তার ভিত্তিতে ডিজিপি অনিশ সরকারকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার দায়িত্বে গাফিলতির জন্য সাসপেণ্ড করা হয়েছে। এছাড়াও একাধিক পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পিটিশনের বেশিরভাগটাই জুড়ে সংবাদমাধ্যমের খবরের ভিতিতে অভিযোগ। সস্তা আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা।

আরও পড়ুন:যুবভারতীতে মেসি-মেস, টিকিটের টাকা ফেরৎ, কবে পাবেন? জেনে নিন

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বলেন, অভিযোগ করা হচ্ছে যে এফআইয়ার করা হয়েছে তা স্টেডিয়ামের ভিতরে যা হয়েছে তার ভিত্তিতে। কিন্তু বাইরে যা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ সে ব্যাপারে রাজ্যের কি মত? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। এগুলো শুনতে খুব ভালো। মিডিয়াকে চটকরে আকর্ষণ করা সম্ভব হয়।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ফ্যাক্ট অনুযায়ী প্রমাণিত না করা গেলে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। জাস্টিস দিপাক্ষিক পথ। কোনও ধারণা এভাবে স্থাপন করা ন্যায়সঙ্গত নয়। সব টিকিট আয়োজকরা বিক্রি করছিল। কত বাজেট ছিল সেটা তাঁরা জানে। ঘটনার আগে টিকিটের টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল? ব্ল্যাকমার্কেটে টিকিট বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন করেছেন এরা? সুজিত বোস মূর্তির ব্যক্তিগত বানায়।
বিচারপতি পার্থসারথি সেন বলেন, ব্যক্তিগত না পাবলিক প্রপার্টিতে হয়েছে স্ট্যাচু?

রাজ্যের তরফে কল্যাণ বলেন, “এটা আমরা জানি না। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ক্ষমা চেয়েছেন। রাজ্য আর কি করতে পারে? মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। রাজ্যের উচিৎ এই সব মামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।” কল্যাণ জানান, ২১ কোটি টাকা পাঁচটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে। সব বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।আমরা টাকা রিফান্ড করার এজেন্ট নই। ওই এনকোয়ারি কমিটিকে কাজ করতে দেওয়া হোক। সিট্ হয়েছে ক্রিমিনাল কেসের জন্য। বিচারপতি পার্থসারথি সেন, কেস ডায়ারি দিয়েছেন? সিট্ কি করছে? এর কাজ কি? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কোনওরকম তদন্ত ছাড়াই এই ধরনের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর পিটিশন দেখুন। কোনও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে দেখাক। ২২ কোটি টাকা ৫টা ব্যাঙ্ক থেকে ফ্রিজ করা হয়েছে। ২১ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। ফ্রড অভিযোগ যাঁরা করছে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হোক। এটা প্রচার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মামলা জনস্বার্থ নয়। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যা ঘটছে সব বিরোধী দলনেতা জানে? পুলিশ জনগণের জন্য কাজ করে। মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করছেন বিরোধী দলনেতা। অনেকে ছিল যাঁদের কাছে পাস ছিল না। সংবাদমাধ্যম, সিআইএসএফ। জনগণের কথা ভেনে আমরা পদক্ষেপ করেছি। কমিশনের রিপোর্ট আসার অপেক্ষা। এর মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায় আছে। তাঁর ওপর আস্থা রাখা হোক।

ইন্দ্রনীল রায়, শতদ্রু আইনজীবী বলেন, কলকাতা ছাড়া অন্য কোথায় কোনও সমস্যা হয়নি, কোনও অভিযোগ নেই। আয়োজকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হয়েছে। ৪০০ মতো লোক মাঠে ছিল। এর মধ্যে বিনোদনকারী, স্পনসর সব ছিল। হাইপ্রোফাইল, ক্লোজ প্রক্সিমিটি এই ধরনের কোনও পাস আমাদের তরফ Nsg কম্যান্ডো মেসির নিরাপত্তার দায়িত্ব এ ছিলেন।কাছাকাছি অনেকে যাঁরা ছিলেন তাঁরা কিভাবে এলেন? অনেকেই জড়িয়ে ধরছিলেন এভাবে ওভাবে আমরা বারণ করেছি। অনেক ভিডিও, ফটোগ্রাফ রয়েছে। অনেকেই মাল্টিপ্লেক্সে যায় তাঁরা জানে কত টাকায় বোতল বিক্রি হয়, কারা ওই বোতল ভেতরে আনলো তা জানিনা।

Read More

Latest News