ওয়েব ডেস্ক: পালাবদলের আবহে যখন একাধিক তৃণমূল (TMC) নেতার নিরাপত্তা কমানো হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাড়ানো হল তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar)। তাঁকে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির (Y Plus Security) কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই মধ্যমগ্রামে তাঁর বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Forces) উপস্থিতি নজরে আসে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুধু বাড়িতেই নয়, বিকেলে মধ্যমগ্রাম-বারাসাত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে বৈঠকে যাওয়ার সময়ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছিল তাঁর সঙ্গে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, রাজ্যে সরকার বদলের পর একাধিক তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা ও কনভয় কমানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) থেকে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)- অনেকেরই নিরাপত্তা কমেছে। সেই পরিস্থিতিতে হঠাৎ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
আরও পড়ুন: ‘তৃণমূলেরর কথায় নাচানাচি করলে পার্টি ব্যবস্থা নেবে,’ বিজেপি নেত্রীর ফতোয়ায় সরগরম রাজনীতি
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দলের অন্দরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে ফের সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোয়াধ্যায়কে। গত বছরের অগাস্ট মাসে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কাকলিকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে নয় মাসের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে ফের কল্যাণকে দায়িত্ব দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে কাকলি লেখেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, এর আগে তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারও একাধিক ‘বিদ্রোহী’ পোস্ট করেছিলেন বলে জানা যায়। এই আবহে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
দেখুন আরও খবর:







