নয়াদিল্লি: ডোকালামের অচলাবস্থা প্রসঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ঘিরে উত্তাল লোকসভা (Lok Sabha)। রাষ্ট্রপতির জবাবি ভাষণের পরেই সোমবার বিরোধী দলনেতা ভাষণ শুরু করার পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের কিছু অংশ পড়ার চেষ্টা করলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তাঁকে বাধা দেন। সরব হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (Amit Shah)। এই বিশৃঙ্খলার জেরে মুলতুবি হয়ে যায় সংসদ। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাজেটে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করলেন তৃণমূল সাংসদেরা। সোমবার সকালে দিল্লি পুলিশ বঙ্গ ভবন ঘিরে ফেলতেই রাস্তায় নেমে পড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনই লোকসভায় ওয়েলে নেমে ধিক্কার স্লোগান তুলতে দেখা যায় তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূল সাংসদকে নিজের আসনে গিয়ে বসার অনুরোধ করেন তিনি। মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি ঠান্ডাও হয়ে যায়। তারপর বক্তৃতা দিতে ওঠেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবনের একটি অপ্রকাশিত স্মৃতিকথায় ডোকলাম অচলাবস্থা নিয়ে করা মন্তব্য উদ্ধৃত করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারের তীব্র আপত্তির মুখে পড়েন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। অমিত শাহ এবং রাজনাথ সিংহের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান তিনি। এদিন ভাষণ দিতে উঠে রাহুল একটি ম্যাগাজিনের উল্লেখ করে বক্তব্য শুরু করেন, যেখানে নরবনের একটি ‘অপ্রকাশিত’ বই থেকে উদ্ধৃতি প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেই উদ্ধৃতিতেই ডোকলাম পরিস্থিতি নিয়ে তৎকালীন সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ উঠে আসে।তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছে করেই ওই বইটি প্রকাশ হতে দিচ্ছে না, কারণ সেখানে ডোকলাম সংঘর্ষ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, যা সামনে এলে সরকারের অস্বস্তি বাড়বে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে SIR প্রতিবাদে কালো পোশাকে মমতা
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন নরবণে। তাঁর ওই বইয়ের অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজ়িনে। ৪৪৮ পাতার ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ডোকলামে ভারত এবং চিনের সেনা যখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে, তখন বেজিঙের সাঁজোয়া গাড়ি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বই থেকে তথ্য উদ্ধৃত করে বক্তব্য রাখছিলেন রাহুল। ২০১৭ সালে ডোকালামে হওয়া ভারত-চিনের মধ্যে হওয়া অচলাবস্থার উপর আলোকপাত করেন তিনি। বিষয়টি উল্লেখ করতেই প্রতিবাদে সোচ্চার হন BJP সাংসদ ও মন্ত্রীরা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) বলেন, ‘আমাদের জানাতে হবে যে ওই বইটি প্রকাশিত হয়েছে কি না। আমি জানি এটি প্রকাশিত হয়নি। তাই এটা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে না। অমিত শাহও সঙ্গে সঙ্গে রাজনাথের বক্তব্যের সমর্থনে বলেন,‘যখন বইটি প্রকাশিতই হয়নি, তখন তিনি (রাহুল) কী ভাবে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারেন?’ রাহুলের দাবি, সত্য চাপা দিতেই এই বই আটকে দেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেস সাংসদ জোর দিয়ে বলেন যে,‘ দ্য ক্যারাভান ম্যাগাজিনে বইটির যে অংশ উল্লেখ রয়েছে, তা একেবারে ১০০ শতাংশ খাঁটি। এতে রাজনাথ সিংয়ের নামের উল্লেখ রয়েছে।’ কংগ্রেস সাংসদরা-সহ সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও রাহুলের সমর্থনে এগিয়ে আসেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিরোধী শিবিরের পক্ষে দাঁড়ান সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “লোহিয়া, নেতাজি এবং জর্জ ফার্নান্ডেজ সকলেই চিন সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে গিয়েছেন।”ওম বিড়লা জোর দিয়ে বলেন, ‘যদিও এটি প্রকাশিত হয়, তবুও সংসদের কার্যবিবরণীর সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনও বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া অনুমোদিত নয়।’ প্রায় ৪৫ মিনিটের টানাপড়েনের পর হট্টগোলে মুলতুবি হয়ে যায় সংসদ।







