Monday, April 20, 2026
HomeScrollFourth Pillar | উমর খালিদ ৫ বছর জেলে, হ্যাঁ বিনা বিচারে

Fourth Pillar | উমর খালিদ ৫ বছর জেলে, হ্যাঁ বিনা বিচারে

ওয়েব ডেস্ক: উমর খালিদের কারাবাসের ৫ বছর: এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা। মানে এক মেধাবী ছাত্র, এক ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক কে জেলে পোরার পরে ৫, ৫ বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করেছে পৃথিবী। না এখনও তাঁর মামলার পুরো চার্জশিট নেই, না শুনানিও হচ্ছে না, কেবল তারিখের পর তারিখ। আশারাম বাপু, ধর্ষণে অভিযুক্ত নয় দোষী সাব্যস্ত এক অপরাধী জামিনে আছেন, রাম রহিম এক ধর্ষণ খুনে অপরাধী নিয়মিত প্যারোলে এসে বাণী বচন শোনাচ্ছেন, হাথরসের ধর্ষকরা জামিনে, লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের গাড়ির তলায় পিষে মেরে ফেলার অপরাধীরা জামিনে। কিন্তু ৫ বছর হয়ে গেল জেএনইউর গবেষক ছাত্র নেতা উমর খালিদ জেলে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে উমর খালিদের গ্রেফতার এবং তারপর থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তার কারাবাস ভারতের বিচার ব্যবস্থার আদতে এক অবিচারের অন্যায়ের ছবি তুলে ধরেছে। দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদ, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে UAPA (Unlawful Activities (Prevention) Act) আইনে গ্রেফতার হন। এই ৫ বছরের কারাবাসের সময়কালে তাঁর জামিনের আবেদন কম করে ২০ বার খারিজ হয়েছে, যা ভারতের ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট একপেশে চেহারা আর UAPA আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর কিছু প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন তো উঠবেই যে তাহলে আইন কার? আইন কি আইনের পথে চলছে নাকি তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে? আমাদের রাষ্ট্রের চার স্তম্ভের অন্যতম আইনব্যবস্থা কি আর স্বাধীন নয়? হ্যাঁ এসব প্রশ্ন তো উঠবেই। তার আগে অনেকের জানাই আছে, তবু যাদের জানা নেই, তাঁরা জেনে নিন কে এই উমর খালিদ?

উমর খালিদ ভারতের ছাত্র আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ। তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) গবেষণা করতেন এবং সেখানকার ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সালে JNU-তে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে দেখা যায় ওই স্লোগান যখন দেওয়া হচ্ছে তখন উমর খালিদ বা কানহাইয়া কুমার কেউ সেখানে হাজির ছিলেন না। কিন্তু দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিজেপি আইটি সেল এবং কোলে বসা গোদি মিডিয়ার অ্যাঙ্কর এবং অ্যাঙ্করনির দল, যাঁদের নকশাল আর মাওবাদের ভূত সর্বত্র তাড়া করে বেড়ায়, সেই তাঁরা এই উমর খালিদ, কানহাইয়া কুমার ইত্যাদিদের টুকরে টুকরে গ্যাং বলা শুরু করে। এই ঘটনার পর থেকেই উমর খালিদ সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে পরিচিত হয়ে ওঠেন। যদিও তিনি বরাবরই নিজেকে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন, হাতে সংবিধান নিয়েই মিছিল করেছেন, গান্ধীবাদের কথা বলেছেন। হ্যাঁ, একটা দোষ তো তিনি করেইছিলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | জুলাই মাসে পা পিছলোলে, মোদিজি আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন না

কিছুমাস পরে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়, যেখানে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রচুর সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই দাঙ্গার পিছনে একটি বড় ষড়যন্ত্র আছে বলে জানায় স্বরাষ্ট্র দফতর, যদিও এই দাঙ্গায় মৃতদের ৭০ শতাংশ ছিলেন সংখ্যালঘু মুসলমান, তবুও এই ঘটনার পরে জানানো হয় এটা নাকি এক প্যান ইসলামিক চক্রান্ত। আর দিল্লি পুলিশ উমর খালিদকে এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের অভিযোগ ছিল যে উমর খালিদ এই দাঙ্গার পরিকল্পনা এবং সরাসরি দাঙ্গা বাঁধানোর কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তাকে UAPA আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়, যা সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কার্যকলাপ দমনের জন্য এক আইন, যাতে গ্রেফতার করা হলে জামিন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। এবং তারপরে শুরু হল পাঁচ বছরের কারাবাস: এক দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া। এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু সেই চার্জশিট সম্পূর্ণ নয়, এখনও নাকি তদন্ত চলছে। আর মামলার বিচার প্রক্রিয়া কতটা ধীর? ৫ বছরেও এখনও শুনানিই শেষ হল না। শুনানি হচ্ছে না, প্রমাণ নেই কাজেই বিভিন্ন সময়ে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেছেন, কিন্তু প্রতিবারই সেই আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে উমর খালিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে এবং তিনি জামিন পেলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। একজন হত্যার অভিযুক্ত বছরে ১০ বার প্যারোল পাচ্ছেন, একজন ছাত্র আন্দোলনের নেতা, গবেষক, জামিনও পাচ্ছেন না। এই দীর্ঘ কারাবাসের সময়ে উমর খালিদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ আছে, তাঁর পরিবার এবং সমর্থকরা বারবার অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না। তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও এই কারাবাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, অবশ্য আমরা উমর খালিদের জেলে ঢোকার, বা আদালতে আনার সময়ে যে ছবি দেখেছি তা দেখলে বোঝা যায় কতটা দৃঢ়তা নিয়ে তিনি এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মোকাবিলা করছেন, এসব না করে ঘাড় নুইয়ে বেটার প্যাকেজ, বেটার মাইনে, বেটার ডিল কি তিনি পেতে পারতেন না? পারতেন, নিশ্চয়ই পারতেন, কিন্তু শিরদাঁড়া আর শিরদাঁড়াতে তফাত তো থাকবেই।

এই মামলার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে এই দানবীয় UAPA আইনের প্রয়োগ নিয়ে ভারতে চলমান বিতর্কের একটি বড় অংশ। সব্বাই জানেন, বুঝেছেন যে, এই আইনটা প্রায়শই ভিন্ন মতাবলম্বীদের এবং সরকারের সমালোচনাকারীদের দমন করার জন্যই ব্যবহৃত হয়। এই আইনে গ্রেফতার হওয়া মানুষজনদের দীর্ঘকাল ধরে বিচার ছাড়াই আটকে রাখা যায় আর জামিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। এর ফলে, বহু নিরপরাধ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জেলে বন্দি থাকেন, যা তাঁদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। এবং সে কথা বহু বিচারপতিও তাঁদের অবজার্ভেশনে বার বার বলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই উমর খালিদের মামলাতেও এই বিতর্ক সামনে এসেছে। সাধারণ গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ, মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন যে তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বানানো হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাঁরা মনে করেন যে উমর খালিদকে শুধুমাত্র তার ভিন্ন মতামতের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। একটা সুস্থ গণতন্ত্রে ভিন্ন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু, যদি ভিন্ন মত প্রকাশের জন্য কাউকে দীর্ঘকাল ধরে জেলে আটকে রাখা হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। এই মামলার কথা জেনেছে সারা বিশ্ব, পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপকেরা, যাঁদের মধ্যে নোবেল লরিয়েটস আছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তার এই প্রায় বিনা বিচারে জেলে পচিয়ে মারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তার দ্রুত বিচার ও জামিনের দাবি জানিয়েছে। এবং খুব স্বাভাবিক কারণেই ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে। উমর খালিদের কারাবাসের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তার মুক্তির কোনও সুস্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মামলা ভারতের বিচার ব্যবস্থার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মামলার ফলাফল শুধু উমর খালিদের ব্যক্তিগত ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং ভারতে UAPA আইনের প্রয়োগ, বিচার প্রক্রিয়ার গতি, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ভিন্ন মতের স্বাধীনতা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা কবে শেষ হবে, তা বলা কঠিন। তবে, উমর খালিদের মামলা ভারতের বিচার ব্যবস্থার সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তাঁর মুক্তি এবং বিচার প্রক্রিয়ার যদি এই গতিতেই চলতে থাকে, বছরের পর বছর কেবল প্রতিবাদী কন্ঠকে জেলে পুরে রাখার জন্যই যদি আইন আদালতকে ব্যবহার করা হয়, মানুষ যদি মনে করতে থাকেন দেশে আইনের শাসন নেই, তা হলে তা এক অরাজক অবস্থার দিকেই ঠলে নিয়ে যাবে দেশকে। মনে পড়ছে নাজিম হিকমতের লেখা, সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদ করা কবিতার কথা।

যে বছর আমি জেলে এসেছিলাম

রুটি ছিল তুলোর মতো সাদা

তারপর মাথাপিছু বরাদ্দের যুগ

এখানে এই জেলখানায়

লোকগুলো মুঠিভর রুটির জন্যে হন্যে হল

আজ আবার অবাধে কিনতে পারো।

কিন্তু কালো বিস্বাদ সেই রুটি।

যে বছর আমি জেলে এলাম

দ্বিতীয় যুদ্ধের সবে শুরু

দাচাউ-এর শ্মশানচুল্লী তখনও জ্বলেনি

তখনও পারমাণবিক বোমা পড়েনি হিরোশিমায়।

টুঁটি-টিপে-ধরা শিশুর রক্তের মতো সময় বয়ে গেল

তারপর সমাপ্ত সেই অধ্যায়।

আজ মার্কিন ডলারে শোনো তৃতীয় মহাযুদ্ধের বোল।

কিন্তু আমি জেলে যাওয়ার পর

আগের চেয়ে ঢের উজ্জ্বল হয়েছে দিন।

আর অন…

দেখুন আরও খবর: 

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WATITOTO LGO188 xgo88 WDBOS toto togel slot slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ https://www.demeral.com/it/demeral_software/ toto slot traveltoto toto slot slot gacor situs slot gacor situs togel situs toto slot gacor toto https://josephmellot.com/nos-vins/ https://todayinnewsfocus.com/ BWO99 poker idn poker benteng786 situs slot gacor