ওয়েব ডেস্ক : বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তম কুমারের (Uttam Kumar) জন্মশতবর্ষের আগে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রবিবার ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat)-এর ১৩৭তম পর্বে উত্তম কুমারের চলচ্চিত্রজীবন ও বাংলা সিনেমায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অভিনেতার জন্মের ১০০ বছর পূর্ণ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তম কুমার ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেতা। তাঁর অভিনয়ের অসাধারণ দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল এবং মানুষের হৃদয়ে তাঁকে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছিল। তাঁর অভিনয় প্রতিভার পাশাপাশি চরিত্রের গভীরতা তুলে ধরার ক্ষমতারও প্রশংসা করেন মোদি।
আরও খবর : হিংয়ে ভেজাল! কড়া পদক্ষেপ FSSAI-এর
১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় নামে জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনেতার পাশাপাশি পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন মহানায়ক।
‘নায়ক’ ছবির প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) পরিচালনায় ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে উত্তম কুমারের অভিনয় আজও বাংলা সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় নজির। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে খ্যাতির আড়ালে থাকা এক তারকার মানসিক টানাপোড়েন অত্যন্ত গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন উত্তম কুমার।
১৯৫৩ সালের ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির হাত ধরে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর ঐতিহাসিক জুটি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছয়। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁদের জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে। ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ ছবির অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান উত্তম কুমার। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন মহানায়ক। তবে মৃত্যুর কয়েক দশক পরেও বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে তাঁর জনপ্রিয়তা অমলিন। জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’-এ উত্তম কুমারকে স্মরণ সেই উত্তরাধিকারেরই নতুন স্বীকৃতি।







