Wednesday, May 13, 2026
HomeScrollAajke | শুভেন্দু অধিকারী এখন গোয়েন্দা দীপক কুমার

Aajke | শুভেন্দু অধিকারী এখন গোয়েন্দা দীপক কুমার

একই অঙ্গে এত রূপ দেখিনি তো আগে, আমাদের কাঁথির খোকাবাবুকে দেখলেই আমার এখন এই গানটা গাইতে ইচ্ছে করে। এই তিনি মাত্র ক’ বছর আগে জেলায় জেলায় গিয়ে বিজেপি যে এক হিন্দুত্ববাদী পার্টি, তারা যে ধর্মনিরপেক্ষতাতে বিশ্বাস রাখে না, তারা যে আদতে একটা সাম্প্রদায়িক দল এই কথাগুলো বলতেন। সেই শুরুয়াতি দিনগুলোতে এই শান্তিকুঞ্জের বড় খোকা সিপিএমকে তাঁর প্রধান শত্রু বলেই মনে করতেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী, একমাত্র নেত্রী বলে মেনে চলতেন। তো সেই তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে আপাতত সেই সাম্প্রদায়িক দল বিজেপির এ রাজ্যে বিধানসভার দলনেতা, সেই তিনিই এখন বিভিন্ন সময়ে সিপিএমকে অনুরোধ করেন তাঁর সঙ্গে এই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে। এখন এসব কি নতুন কিছু? বাংলা বা আমাদের দেশের রাজনীতিতে এমন পাল্টিকুমারের সংখ্যা কি খুব কম? প্রচুর আছে। কিন্তু তিনি সম্ভবত ওই পাল্টি খেতে বড্ড কম সময় নিয়েছিলেন বলেই তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা হয়। ওই যে বলে না সব পাখিতে মাছ খায়, মাছরাঙার দোষ হয়। কাজেই এই উলটি পালটি নতুন কিছু নয়, এটা তো কেবল উনি নন, গোটা শান্তিকুঞ্জ, যাকে বলে প্রায় গুষ্টিসুদ্ধু দল বদল করেছেন, উনি ওনার বাবা, ভাই সব্বাই। কিন্তু নতুন হল ওনার গেরুয়া পাগড়ি আর হিন্দু হওয়া, বসন রাঙালেই সন্ন্যাসী হওয়া যায় না, একথা সব্বাই জানেন কিন্তু শুভেন্দুবাবু তা জানেন না, তিনি হঠাৎ গেরুয়া পাগড়ি পরে এক হিন্দু আবহ আনার চেষ্টা করলেন, অনভ্যস্ত হাতে বিবেকানন্দ হবার চেষ্টা করলেন, তারপর এক তুখোড় গোয়েন্দার মতোই জানালেন যে এ রাজ্যের সরকার আসলে জঙ্গিদের সরকার। কেন বললেন? কোন তথ্যের উপর ভিত্তি করে বললেন, সেটাই বিষয় আজকে, শুভেন্দু অধিকারী এখন গোয়েন্দা দীপক কুমার।

তিনি মানে আমাদের কাঁথির টাচ মি নট খোকাবাবু বলেছেন যে এই সরকার আনসারুল্লা, বাংলার সাদ শেখদের সরকার, এই সরকার কাশ্মীরি জঙ্গি জাভেদ মুন্সির সরকার, এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মুসলিম লিগ ২-এর সরকার। ভাবুন একবার আমাদের জানাই ছিল না এসব তথ্য, দীপক কুমার যেমন ডং ডং করে রাত একটা বাজলেই এক হাতে টর্চ আর অন্য হাতে রিভলভার ধরে পাইপ বেয়ে উঠে সমস্ত তথ্য বের করে আনতেন, ঠিক তেমনিই আমাদের বিরোধী দলনেতা আমাদের রাজ্যের যে সরকার তা যে আসলে এক জঙ্গিদের সরকার, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যে আদতে এক জঙ্গি সে সব তথ্য জানার পরে এই কথা রাজ্যবাসীকে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Aajke | শুভেন্দু আর সেই গরুচোরের সঙ্গে মিলটা কোথায়?

সাংঘাতিক ব্যাপার, অমিত শাহের ডিপার্টমেন্ট ফেল মেরে গেছে, এসব দেখার জন্য এনআইএ আছে, আরও কত গুপ্ত সংস্থাও হয়তো আছে। অমিত শাহের দফতরের বাজেট বরাদ্দও কম নয় কিন্তু তাদেরকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে রাখা হয়েছে, একা আমাদের শান্তিকুঞ্জের খোকাবাবু এই সব তথ্য বার করে ফেলেছেন। কেবল একটাই রিকোয়েস্ট, সেই সব তথ্যগুলো আপনাদের সরকারকে দিন, দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে দিন, একটা গোটা সরকার জঙ্গিদের সরকার তা তো সাংঘাতিক ব্যাপার। প্রশ্ন তো উঠবেই উনি এত তথ্য জানেন তাহলে তার ভিত্তিতে এক জঙ্গি সরকারকে রেখে দেওয়া হয়েছে কেন? আসলে আমাদের টাচ মি নট খোকাবাবু মিথ্যে বলতে বলতে এবারে সব মিথ্যের সীমা পার করে রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে জঙ্গিদের সরকার বলে নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। ওনার গুরুদেব মোদিজি উঠতে বসতে মিথ্যে বলেন, সব কিছু নিয়েই মিথ্যে বলেন তো ওনার শিষ্য হয়ে ওঠার তাগিদে শুভেন্দু অধিকারীও মিথ্যে বলছেন। এই দেশে জঙ্গি যদি কেউ থাকে তাহলে তাদের অন্যতম হল তারা যারা সংবিধানের শপথ নেওয়ার পরেও এক ঐতিহাসিক সৌধকে ভেঙে চুরমার করে, জঙ্গি তারা যারা দেশের ১৮% সংখ্যালঘু মানুষজনদের প্রতিদিন ভয় দেখায়, আতঙ্ক আর ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে তাঁদের জন্য, জঙ্গি তারা যারা দেশের ৮০ কোটি মানুষকে এখনও দু’বেলা খাবার জোগাতে পারে না। জঙ্গি তারা যাদের আমলেই জন্ম নিয়ে শিশুমৃত্যুর হার বাড়ছে, জঙ্গি তারা যারা দেশের সমস্ত সম্পদ ক’জন শিল্পপতির হাতে বেচে দিচ্ছে। সেই দলের একজন হয়ে হিন্দু হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাও আবার বিবেকানন্দ হওয়ার? আগে গিয়ে সব কাজ ছেড়ে বিবেকানন্দ পড়ুন, বিবেকানন্দের গুরু কলমা পড়ে মুসলমান হয়ে সাধনা করেছিলেন, বলেছিলেন যত মত তত পথ, বিবেকানন্দ বিশ্ব ধর্মসভায় দাঁড়িয়ে সে জন্যই বলতে পেরেছিলেন ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স অফ আমেরিকা। আর আমাদের টাচ মি নট খোকাবাবু রাজ্যের মুসলমানদের বাদ দিয়েই রাজ্য চালাতে চান, রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়েই রাজ্যের উন্নতির কথা বলেন। সেই মিথ্যেবাদীর মুখে আমরা এক আহাম্মকের স্বর খুঁজে পেলাম। নিঃশর্ত ক্ষমা চান, না হলে এই বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বাতাস আপনার কাছে মরীচিকা হয়ে যাবে, যে মাটিতে জন্মেছেন, যে আকাশের তলায় বড় হয়েছেন, যে বাতাস আলো আপনার গায়ে গতরে লেগে আছে তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা কেউ মেনে নেবে না। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এক কণাও প্রমাণ ছাড়া বাংলার নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে এক আহাম্মক শুভেন্দু অধিকারী জঙ্গি বলেছেন, বলেছেন এই রাজ্যের সরকার নাকি জঙ্গিদের সরকার, মানে এই রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ জঙ্গিদের সমর্থন করে। এই কথা শোনার পরে আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছি। শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

আসলে নতুন কাকে কী যেন বেশি খায়? জেলে যাওয়ার ভয়ে নিজেকে আরও জঙ্গি জাতীয়তাবাদী, গোঁড়া হিন্দু বলে ঘোষণা করার ইচ্ছে থেকেই শুভেন্দু অধিকারী এইসব কথাগুলো বলেছেন। যা বলেছেন তা এখন থেকে তাঁকে প্রতিদিন তাড়া করবে, উনি যেখানে যাবেন সেইখানেই সাধারণ মানুষ জানতে চাইবেন কোন কোন প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি এক নির্বাচিত রাজ্য সরকারকে জঙ্গি সরকার বলে দিলেন? জানতে চাইবেন মানুষ যে এই মিথ্যে বলার অধিকার কে তাঁকে দিয়েছে? আর উত্তর না পেলে ঠিক যেভাবে আমরা সাভারকরকে বিশ্বাসঘাতক বলি, মিথ্যেবাদী বলি, ঠিক যেভাবে নরেন্দ্র মোদিকে মিথ্যেবাদী বলি, সেই ভাবেই এই শান্তিকুঞ্জের খোকাবাবুকেও মিথ্যেবাদীই বলব।

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs toto slot gacor https://todayinnewsfocus.com/ BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188 toto slot toto SlotPoker188 situs toto