ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) গ্রুপ পর্বে দুরন্ত লড়াই উপহার দিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হল আইভরি কোস্টকে (Ivory Coast)। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নিল জার্মানি (Germany)। বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন দেনিজ উনদাভ (Deniz Undav)। তাঁর গোলে ভর করেই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল জার্মানরা।
টরন্টোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় আইভরি কোস্টকে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে প্রতিআক্রমণভিত্তিক কৌশল নিয়ে নামলেও তারা শুধু রক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বারবার জার্মান রক্ষণকে চাপে ফেলেছে। বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন ১৯ বছরের তরুণ মিডফিল্ডার ইয়ান দিওমান্দে (Yann Diomande)। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা বারবার সমস্যায় ফেলে জার্মান ডিফেন্সকে। প্রথমার্ধে সেই চাপেরই ফল মেলে। দিওমান্দের তৈরি করা আক্রমণ থেকে প্রথমে সুযোগ পান আমাদ দিয়ালো। তাঁর শট জার্মান গোলরক্ষক প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফাঙ্ক কেসি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আফ্রিকার দলটি।
আরও পড়ুন: মেসির বাবার মৃত্যু নিয়ে ভুয়ো খবর! ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করলেন জনপ্রিয় সাংবাদিক
প্রথমার্ধে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিলেন না জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন তিনি। মাঠে নামানো হয় উন্ডাভ, লিউইং এবং আমিরিকে। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমিরির ক্রস থেকে সমতা ফেরান উন্ডাভ। গোলের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় জার্মানি। এরপর একের পর এক আক্রমণে আইভরি কোস্টের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। তবে আফ্রিকার দলও হার মানেনি। পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ম্যাচের শেষ দিকে পেপে দুরন্ত গতিতে জার্মান বক্সে ঢুকে বল বাড়িয়ে দেন আদিংরাকে। প্রায় ফাঁকা গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আদিংরার সামনে ছিল ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ। কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তাল কেটে যায় তাঁর। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মাত্র দু’মিনিট পরেই আসে জার্মানির জয়সূচক গোল। আবারও উন্ডাভ। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে গোল করে জার্মানিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
জয়ের ফলে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল জার্মানি। তবে জয় এলেও দলকে নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে হাভেরৎজ একাধিক সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে রক্ষণভাগেও একাধিক দুর্বলতা ধরা পড়েছে। দুই প্রান্তের ডিফেন্ডার কিমিচ এবং সানে আক্রমণে কার্যকর হলেও রক্ষণে বেশ কয়েকবার ফাঁক রেখে গিয়েছেন। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারদের গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
দেখুন আরও খবর:







