ওয়েব ডেস্ক : অরণ্য সপ্তাহের সূচনায় পরিবেশ রক্ষা ও বনভূমি সম্প্রসারণকে সামনে রেখে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে স্কুল পড়ুয়াদের হাতে চারাগাছ (Plant) তুলে দিয়ে নিজে বৃক্ষরোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ, প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। এছাড়া বনভূমি ধ্বংস নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেছেন তিনি।
অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে অন্তত ১০ কোটি গাছ (Plant) লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ঘোষিত ৭ কোটি ২০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করে এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। সরকারি দফতরের পাশাপাশি শিল্প সংস্থা, পঞ্চায়েত, পুরসভা ও সাধারণ মানুষকেও এই কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশের অবনতির জন্য পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে জঙ্গলমহল থেকে তরাই-ডুয়ার্স— একাধিক বনাঞ্চলে সবুজের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে নির্মাণ প্রকল্পে সবুজায়নের নিয়ম না মানা এবং বনভূমি ধ্বংসের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শুধু গাছ লাগানো নয়, অন্তত দুই থেকে তিন বছর নিয়মিত পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “আমি হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমরা গাছ লাগিয়ে তিন বছর মনিটরিং করতাম। তাতে ৫০ শতাংশ অ্যাচিভমেন্ট আসত। এক হাজার গাছ লাগালে তিন বছরে আমরা ৫০০-৫৫০ গাছ রক্ষা করতে পারতাম। তাই শুধু গাছ লাগালেই হবে না, অন্তত ২-৩ বছরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সকলকে নিতে হবে।”
আরও খবর : চালক ছাড়াই ছুটবে কলকাতা মেট্রো! গ্রিন লাইনে সফল ট্রায়াল
বনদফতরের প্রশাসনিক সংস্কারেও একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে বনকর্মী নিয়োগের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি অবৈধ কাঠ পাচার ও বেআইনি গাছ কাটার বিরুদ্ধে বনদফতর ও পুলিশের যৌথ অভিযান, কর্মরত অবস্থায় মৃত বনকর্মীদের পরিবারের জন্য দ্রুত অনুকম্পামূলক চাকরি এবং হাতি-মানুষ সংঘাত কমাতে নতুন পরিকল্পনারও ইঙ্গিত দেন তিনি। এছাড়া বজ্রপাতের ক্ষতি কমাতে রাজ্যজুড়ে নারকেল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।







