মালদহ: রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের (TMC) অন্দরে ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পুরাতন মালদহ (Maldah) পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদী। তাঁর অভিযোগ, “দুর্নীতিগ্রস্তরাই আজ চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছে। যাদের মানি পাওয়ার আছে, দল তাদেরই নেতা বানিয়েছে।” এমনকি, ভোটে ভরাডুবির পর সেই নেতাদের রাস্তায় বেরোলে সাধারণ মানুষ “চোর চোর” বলে কটাক্ষ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক ব্যর্থতা নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী এবং পুরাতন মালদা পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষের পর এবার সরব হলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলর বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদী।
আরও পড়ুন: আজ নবান্নে শুভেন্দুর প্রথম ক্যাবিনেট, দিনভর আর কী কী কর্মসূচী?
তিনি বলেন, “দলের এই ভরাডুবি হবে, সেটা আমরা আগেই বুঝেছিলাম। কিন্তু কোথাও বলার জায়গা ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করে লাগাম ছেড়ে দেন। তারপরই দলটার এই অবস্থা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, আইপ্যাক ভুলভাবে দল পরিচালনা করেছে এবং প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও টাকার লেনদেন হয়েছে। “যোগ্য নেতাদের টিকিট দেওয়া হয়নি,” দাবি বৈশিষ্ট্যর।
একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমি কোনও শোকজের ভয় পাই না। এত বছর ধরে দলের জন্য কাজ করেছি। আর এখন আইপ্যাকের লোক এসে বলে দেবে কী করতে হবে?” তাঁর বক্তব্য ঘিরে জেলা তৃণমূলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলরের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। মালদহের বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক গোপালচন্দ্র সাহা বলেন, “তৃণমূলের সংস্কৃতিই ছিল কাটমানি আর তোলাবাজির রাজনীতি। মানুষ তার জবাব দিয়েছে। এই দল আর কোনওদিন ক্ষমতায় ফিরবে না।” যদিও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের জেলা মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, “এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সংযত থাকতে হবে। দলনেত্রীর নির্দেশ মেনেই সংগঠন এগোবে।” তৃণমূলের অন্দরের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ আগামী দিনে দলের সংগঠনে আরও চাপ বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







