Saturday, February 7, 2026
HomeScrollসবচেয়ে কম নাম বাদ বাংলায়! ‘এসআইআর করে ক’জন বাংলাদেশি–রোহিঙ্গা মিলল?’, কমিশনকে প্রশ্ন...
Abhishek Banerjee

সবচেয়ে কম নাম বাদ বাংলায়! ‘এসআইআর করে ক’জন বাংলাদেশি–রোহিঙ্গা মিলল?’, কমিশনকে প্রশ্ন অভিষেকের

কী সেই পাঁচ প্রশ্ন?

কলকাতা: ভোটার তালিকা থেকে ‘ভূতুড়ে’ ভোটার বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026)  আগে রাজ্যে চালানো হচ্ছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার অঙ্ক কষে তিনি দাবি করেন, এসআইআরের ফলে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলায় সবচেয়ে কম ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

অভিষেকের দাবি, বাংলায় এসআইআরের ফলে মোট ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৫.৭৯ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে ৭.৭৫ কোটি ভোটারের মধ্যে ৫৭.৩০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে, যা ১২.৫ শতাংশ। গুজরাটে ৯.৯৫ শতাংশ হারে ৬০.৪১ লক্ষ, ছত্তিশগড়ে ৮.৭৬ শতাংশ হারে ৩.১২ লক্ষ এবং কেরলে ৬.৬৫ শতাংশ হারে ২৪.৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেই তুলনায় বাংলায় নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম বলে দাবি তাঁর।

আরও পড়ুন: ৩১ ডিসেম্বর ‘দিল্লি চলো’ অভিষেকের

অভিষেক বলেন, “এগুলো তৃণমূলের তথ্য নয়। নির্বাচন কমিশনেরই পরিসংখ্যান। তারপরও বাংলায় জোর করে এসআইআর করা হল। বিজেপি নেতারা বলেছিলেন, এখানে দেড় কোটি বা এক কোটি রোহিঙ্গা রয়েছে। তাহলে এসআইআরের পরে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গার নাম বাদ পড়ল, সেই তালিকা কোথায়?”

এরপর নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ভোটারের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি এবং কতজন রোহিঙ্গা, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হবে কি না। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, যদি লক্ষ্য অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হয়, তবে ত্রিপুরা, মেঘালয় বা মিজোরামের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে কেন একইভাবে এসআইআর হয়নি।

এছাড়াও তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়ার পরেও কেন শুধু এই রাজ্যকে বারবার নোটিস পাঠানো হচ্ছে। যেখানে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গিয়েছে, সেখানে কেন মাইক্রো অবজার্ভার পাঠানো হয়নি, অথচ বাংলায় ঘনঘন নজরদারি করা হচ্ছে— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এসআইআর চলাকালীন ম্যাপিং সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও কমিশনকে কাঠগড়ায় তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, শুরুতে বলা হয়েছিল ৪৫ শতাংশ ম্যাপিং হয়েছে, পরে তা বেড়ে ৮৯.৬৫ শতাংশে পৌঁছয়। এই তথ্যের অসঙ্গতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট বা আন্দামান–নিকোবরের ক্ষেত্রে এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানো হলেও বাংলার ক্ষেত্রে কেন তা করা হয়নি।

এদিন বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, বাংলায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার টাকা বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেও কেন কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার থেকেই রাজ্যে এসআইআরের শুনানি শুরু হয়েছে। সাংসদ, বিধায়ক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। তারই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রশ্নবাণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

Read More

Latest News