ওয়েব ডেস্ক: হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের জন্য ট্রাইবুনালে প্রথম সওয়াল করেন, সেই চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দিলেন তারেক। ক্ষমতায় আসার পরেই তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন সবলের উপর দুর্বলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। এই বার্তার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছিলেন তিনি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের পাশে রয়েছেন। এবার বিরাট পদক্ষেপ নিলেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (International Crimes Tribunal) চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল হাসিনাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া তাজুল ইসলামকে। সেই জায়গায় নতুন চিফ প্রসিকিউটর করা হয়েছে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বদলের কথা জানিয়েছে। সোমবার সে দেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তাজুলের জায়গায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে আনা হয়েছে আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে। গেজেট অনুসারে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মামলা পরিচালনার জন্য ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৭ ধারা অনুসারে আমিনুলকে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, বেতন এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা পাবেন।
আরও পড়ুন:সামরিক বাহিনীতে রদবদল, দিল্লি দূতাবাসের কর্তাকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত তারেকের
জুলাই গণহত্যার জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসি সাজা শুনিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শুধু শেখ হাসিনা নয়, ফাঁসির রাজা শোনানো হয় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকেও। এই রায়ের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিকে সরিয়ে দিলেন তারেক রহমান। সেই জায়গায় বসানো হল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্যক্তি আমিনুল ইসলামকে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী ছাড়াও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যে সমস্ত জামাত নেতা, তাঁদের পক্ষে মামলা লড়েছিলেন এই তাজুল। তাঁদের পক্ষে আদালতে তিনি সওয়াল করেছেন। আবার, তাঁর সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। প্রসঙ্গত, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আওয়ামী লীগের আমলে গুম করে খুনের বিচারের জন্য ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে নিয়োগ করেছিল। ৮ অগস্ট দায়িত্ব নিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে তাজুলকে নিয়োগ করেছিলেন ইউনূস।







