Wednesday, February 25, 2026
HomeScrollFourth Pillar | মোদিজি লজ্জা পেলেন? কেন? কবে? কোথায়?
Fourth Pillar

Fourth Pillar | মোদিজি লজ্জা পেলেন? কেন? কবে? কোথায়?

যখন এপস্টিন ফাইলের কেলেঙ্কারির ঝড় বইছে, ঠিক তখনই তড়িঘড়ি সই হল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

মোদিজি নাকি লজ্জিত, তাঁর নাকি মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে, এমনিতে তিনি নাকি কম কথার মানুষ, হ্যাঁ, এটাও তিনি নিজেই বলেছেন, সেই তাঁর নাকি লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। দুনিয়ার সামনে ভারতের মান সন্মান নাকি সব খোয়া গিয়েছে। কবে? কোথায়? কেমন করে? তো জানা গেল যে, আন্তর্জাতিক এআই সামিটে আলোচনা চলাকালীন কংগ্রেসের কিছু কর্মী জামা খুলে এক প্রতিবাদ করার জন্য ঢুকে পড়েছিলেন, আর সেই ঘটনার পরেই উত্তেজিত ক্রোধিত মোদিজির লজ্জায় মাথা কাটা গিয়েছে। এমনিতে অবশ্য মোদিজির মাথা কাটা গেলে কীই বা হবে, একটা হাতির মাথা জুড়ে দিলেই হয়, কারণ তা তো ভারতের প্ল্যাস্টিক সার্জারি, পুঁথি ঘেটেই উনি জানিয়েছেন। সে থাক, কিন্তু এ তো মুন্ডু কাটা নয়, লজ্জায় মাথা কাটা গিয়েছে, বাংলার বাগধারা। কিন্তু এই ঘটনার মাত্র কদিন আগে, ওই আন্তর্জাতিক এআই সামিটে যখন চা-স্ন্যাক্স-এর দোকানে কিউআর কোড কাজ করছিল না, তখন কিন্তু ওনার মাথা ঠিক জায়গাতেই ছিল, মাথা তখনও কাটা যায়নি যখন এক চীনের কুত্তাকে মোদিজির পেয়ারের গলগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের বলে চালানোর চেষ্টা করছিল বা যখন এক সাউথ কোরিয়ার ড্রোনকে আমাদের ডেভেলপ করা ড্রোন বলে চালানো হয়েছিল ওই এআই সামিটে, তখন ওনার মাথা কাটা যায়নি। ওনার মাথা কাটা যায় না এটা বলতে যে, দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে দেশের ১ শতাংশ সম্পদ আছে, আর দেশের ১০ শতাংশ মানুষের হাতে দেশের ৫০ শতাংশ সম্পদ আছে, না এটা উনি সম্ভবত গর্ব করেই বলে থাকেন। এটা বলতে ওনার এক্কেবারে লজ্জা হয় না যে, ৮০ কোটি মানুষকে ফ্রিতে রেশন দিতে হয়, কারণ সেটা না পেলে দেশের ৮০ কোটি মানুষের দু’বেলা খাবার জুটবে না। না, এই কথাগুলো জানার পরে, গর্ব করে বলার পরে তাঁর এতটুকু লজ্জা নেই। দেশের স্নাতকদের ২০২৫-এর হিসেবে ৪২.৬ শতাংশ থেকে ৫৪.৮১ শতাংশ বেকার, তাঁদের উপযুক্ত চাকরি জোটেনি, উনি ক্ষমতায় আসার আগে প্রতি বছর দু’কোটি মানুষের চাকরি দেবেন বলেছিলেন। না, ওনার এতে কোনও লজ্জাই নেই। ওনার লজ্জা নেই যে, একজন সেনাপ্রধান লিখে জানিয়ে দিচ্ছেন, কতটা ভিতু আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, যিনি চীনের ট্যাঙ্ক ঢুকছে খবর পেয়ে চুপ করে বসে থাকেন, আর শেষে জানিয়ে দেন, ‘জো উচিত সমঝো ওহি করো’। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত, তাও আবার চীনের সঙ্গে, নেবে কে? একজন সেনাপ্রধান। না, এতে ওনার কোনও লজ্জা নেই। লজ্জা নেই, যখন এপস্টিন ফাইলে ওনার নাম জড়িয়ে যায়, না তাতে লজ্জা নেই, এক যৌন অপরাধে অভিযুক্ত পিডোফেলিকের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, না ওনার কোনও লজ্জাই নেই, উনি সেই মন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠান। কেন? ওনার নাম যাতে না বের হয়? আসুন সেই গল্পের খোলাসা করা যাক।

আমরা তো জানতাম ধনী মানুষজনের উৎকট ভোগ-লালসা, বিকৃতির কথা, জানতাম তো যে একটা সময়ের পরে ভোগের উপাদান শেষ হয় আর বিকৃতি আসে, তারপর বিকৃতিই থেকে যায়। মনোজগৎ নিয়ে যাঁরা নাড়াঘাঁটা করেন, তাঁদের কাছেই এসব শুনেছি। কিন্তু এই পৃথিবীতে একটা মানুষ অমন থাকবে, তার এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে প্রাসাদোপম ভিলা থাকবে, সেখানে নাবালক, নাবালিকারা থাকবে, দুনিয়ার হুজ হু-রা সেই দ্বীপে যাবেন সময় কাটাতে, তাদের বিকৃত লালসা নিয়ে। হ্যাঁ, সেটাই এপস্টিন আইল্যান্ড, সেটাই এপস্টিন ফাইল। আমাদের লজ্জা সেই ফাইলে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী, আমাদের দেশের এক ব্যবসায়ীর নাম আছে। আর এখানেই থেমে নেই, আরও অনেক তথ্য আছে, খেপে খেপে বার হচ্ছে। এই অন্ধকার জগৎ যে কতটা গভীর, আর এর শিকড় যে কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা এখনও নাকি বোঝাই যাচ্ছে না। মার্কিন বিচারবিভাগ যখন লক্ষ লক্ষ পাতার সেই কুখ্যাত ‘এপস্টিন ফাইল’ জনসমক্ষে আনল, তখন তার ভগ্নাংশের ছানবিনেই দেখা গেল এর লেজ কেবল আমেরিকার হোয়াইট হাউস বা নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে আটকে নেই, অনায়াসে তা আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ব্রিটেনের বাকিংহাম প্যালেস হয়ে ভারতের সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। নথিপত্রগুলো পড়লে বোঝা যায়, এখানে কেবল যৌন লালসার গল্প নেই, আছে ক্ষমতার অপব্যবহার, আন্তর্জাতিক ব্ল্যাকমেলিং, সবচেয়ে বড় কথা—ভণ্ডামির এক চরম বহিঃপ্রকাশ। যেসব মানুষ বিভিন্ন নামি সেমিনারে, সংসদের ভাষণে নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের কথা বলে গলা ফাটান, তাঁদের নামই যখন একজন সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীর ডায়েরিতে বা ইমেলে পাওয়া যায়, তখন সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে, ধ্রুবতারাগুলো হারিয়ে যায়। ব্রিটেনের যুবরাজ অ্যান্ড্রু থেকে শুরু করে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, এমনকি ভারতের প্রভাবশালী পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরী, শিল্পপতি অনিল আম্বানি, মায় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নামও এই কালো অধ্যায়ের সাথে কোথাও না কোথাও জুড়ে যাচ্ছে। পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে কোথাও যেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক, এক কলঙ্কিত অধ্যায়। না, মোদিজির এই খবর সামনে আসার পরে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এ সই করলেন, বা সই করতে বাধ্য হলেন বা নিজেকে আড়াল করার শর্তেই পুঁটলিটা খুলে দিলেন, তখন থেকেই সবাই জানতেন যে, এপস্টিনের সেই ‘লিটল ব্ল্যাক বুক’ বা যোগাযোগের খাতায় অনেক বড় বড় নাম আছে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | ফাইনাল ভোটার লিস্টে মুসলমান ভোটার বাদ দেবার টার্গেট এর কতটা কাছাকাছি শুভেন্দু অধিকারি?

২০২৬ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ, হাউস ওভারসাইট কমিটি যখন একে একে প্রায় ৩০ লক্ষ পাতার নথি বের করতে শুরু করল, তখন সেই উত্তেজনা আতঙ্কে পরিণত হল, সব্বার, যাদের নাম আছে, আর যে দেশের নেতাদের নাম আছে, সব্বার। এই ফাইলগুলোতে আছে কয়েক হাজার ছবি, লক্ষ লক্ষ ইমেল এবং শয়ে শয়ে গোপন ভিডিও, যা এপস্টিনের ওই দ্বীপে ভিলা থেকে পাওয়া গিয়েছিল। এর একটা মানে তো পরিষ্কার যে, ওই এপস্টিন সেখানে গোপন ক্যামেরা লাগিয়েছিলেন এই মানুষজনগুলোর এই বিকৃত চেহারাটার রেকর্ড রাখতে, যাতে পরবর্তী সময়ে তাঁদের যাতে চাপ দিয়ে বাপ বলানো যায়। একজন অত্যন্ত ধূর্ত সংগ্রাহক, একজন ব্ল্যাকমেলার। তিনি জানতেন যে, ক্ষমতাশালী মানুষদের হাতে রাখতে হলে তাঁদের দুর্বলতাকে ব্যবহার করতে হয়। অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো রেকর্ড করে রাখা হত, যাতে পরবর্তীতে তাঁদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া যায় বা তাঁদের মুখ বন্ধ রাখা যায়। বিশেষজ্ঞ মহলে এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ‘কম্প্রোম্যাট’—মানে এমন কিছু তথ্য হাতে রাখা যা দিয়ে কাউকে ব্ল্যাকমেল করা যায়। এই ব্ল্যাকমেলিংয়ের জালে যে কতজন রাষ্ট্রপ্রধান, রাজপুত্র আর বিলিওনিয়ার ফেঁসে গিয়েছেন, তার হিসেব মেলাতে এখন হিমশিম খাচ্ছে সারা বিশ্ব। এই অন্ধকার জগতে ছিপ ফেলে মেলা সবচেয়ে বড় শিকার হিসেবে সামনে এসেছে ব্রিটেনের রাজপরিবার। ব্রিটেনের পবিত্র গাভী, রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর, যাকে পৃথিবী আগে প্রিন্স অ্যান্ড্রু হিসেবে চিনত, তাঁর পতন হয়েছে এক্কেবারে আক্ষরিক অর্থে। অতএব এক সময়ের ক্ষমতাধর রাজপুত্তুর এখন পুলিশের হেফাজতে—এপস্টিন ফাইলের ভূমিকম্প। বিল গেটসের মতো মানুষের নামও আছে, যিনি নিজেকে একজন সমাজসেবক হিসেবে তুলে ধরেছেন, নথিতে বলছে এপস্টিনের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল বেশ গভীর। এপস্টিন নাকি গেটসের এক ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা জানতেন এবং তা দিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতেন। গেটস মুখ খোলেননি, ভারতে এআই সামিটে আসার কথা ছিল, আসেননি, আর তেনার মুখপাত্র এই সব কিছুকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু কেন একজন সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীর সাথে গেটস বারবার বৈঠক করতেন, তার কোনও সদুত্তর আমরা পাইনি। শোনা যাচ্ছে, সিলিকন ভ্যালির বেশকিছু প্রভাবশালীরাও নাকি নিজেদের দিন গুনছেন।

মোদি সরকারের মন্ত্রী, তাঁদের ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের নাম এই নথিতে জ্বলজ্বল করছে। ভারতের পেট্রোলিয়াম প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর নাম এবং তাঁর সাথে এপস্টিনের যোগাযোগের দীর্ঘ ফিরিস্তি পাওয়া গিয়েছে। অনেকেরই ধারণা, আমেরিকার কাছে মোদি সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এই ধরনের ব্যক্তিগত দুর্বলতার তথ্য চলে গিয়েছে, আর সেই কারণেই ভারত এখন আমেরিকার সাথে অত্যন্ত একতরফা চাপের মুখে পড়ে বিভিন্ন চুক্তি করছে। এই সেদিনে ট্রাম্প সাহেব নিজেই বলেছেন যে, তিনি তো প্রধানমন্ত্রীর কেরিয়ার নষ্ট করতে চান না। মানে কী? আমেরিকার রাষ্ট্রপতির কাছে কী আছে, যা দিয়ে উনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কেরিয়ার নষ্ট করে দেবেন? কেন হারদীপ সিং পুরী, যার নাম এমন এক বীভৎস কেলেঙ্কারিতে এসেছে, তিনি এখনও ভারতের মন্ত্রীসভায় বহাল তবিয়তে আছেন? এই প্রশ্নটাই এখন লাখ টাকার- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন তাঁকে এখনও পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন? তাঁর জন্মদিনে কেন ঘটা করে শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন? এগুলো তো বুঝিয়েই দেয় যে, আমাদের চওকিদার ভালোরকম ভাবেই ছিলেন, জানেন ফেঁসে গিয়েছেন এই ব্যাপারটাতে। মহামহিম হরদীপ সিং পুরীকে নিয়ে যে তথ্যগুলো সামনে এসেছে, তা এক কথায় পিলে চমকানো। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হারদীপ পুরী জেফ্রি এপস্টিনের মধ্যে কম করে ৬২টা ইমেল আদান-প্রদান হয়েছিল। এর মধ্যে ৩২টা ইমেল পাঠিয়েছিলেন হরদীপ পুরী নিজে, ৩০টা ইমেল ছিল এপস্টিনের পক্ষ থেকে। শুধু ইমেল নয়, তাঁরা অন্তত ১৪বার সরাসরি দেখাসাক্ষাৎ, খানাপিনা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বৈঠকগুলোর সময়কাল আরও গোলমেলে। ২০১৪ সালের জুন মাসে নরেন্দ্র মোদি যখন প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময় হারদীপ পুরী আমেরিকায় এপস্টিনের সাথে দেখা করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তখন তো হারদীপ পুরী কোনও সরকারি পদে ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক, তাহলে তিনি কোন ক্ষমতায় একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর সাথে দেখা করছিলেন? এমনকি ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’—যা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুই হয়েছিল ২০১৫ সালের জুলাই মাসে—সেই গোটা প্রজেক্টের খুঁটিনাটি হারদীপ পুরী ২০১৪ সালের নভেম্বরেই এপস্টিনকে গুছিয়ে বলেছিলেন আর মাইক্রোসফটের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। ভারতের জাতীয় নীতি কেন দেশের মানুষের আগে একজন বিদেশী অপরাধীর কাছে পৌঁছে গেল, সেই উত্তর এখনও মেলেনি। রহস্য এখানেই থেমে নেই, হরদীপ সিং পুরী বলছেন, এপস্টিন তাঁকে পছন্দ করতেন না, তাঁকে ‘টু-ফেসড’ বা দুমুখো বলে ডাকতেন, কারণ তিনি তাদের অনৈতিক জগতের অংশ ছিলেন না, তাহলে টুফেসেড, দোগলা কেন বলবে? আবার যদি সম্পর্কটা পেশাদারীই হতো, তাহলে পুরী ইমেলে এপস্টিনকে কেন ‘মাই ফ্রেন্ড’ বলে সম্বোধন করছেন কেন? কেন তাঁর কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শ চাইছেন?

হরদীপ পুরীর পাশাপাশি শিল্পপতি অনিল আম্বানির নাম এসেছে। নথি বলছে, অনিল আম্বানি, এপস্টিনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল‌, এপস্টিন তাকে ‘লটস অফ ডেজার্ট’ মানে প্রচুর মিষ্টি খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতেন, ৫০ উর্ধ দুই ভদ্রলোক একে অন্যজনকে তাঁর দ্বীপের ভিলাতে রাবড়ি, রসোগোল্লা খেতে ডাকছেন? নাকি কোনও বিশেষ কোড বা সংকেত? অনিল আম্বানি নাকি দিল্লির ‘নেতৃত্ব’-এর নির্দেশে এপস্টিনের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের সাথে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। নথি বলছে, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফরের আগে ক্ষেত্র প্রস্তুত, মানে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অনিল আম্বানিকে। ২০১৯ সালের মে মাসে যখন মোদি দ্বিতীয়বার নির্বাচনে জিতেছেন, ঠিক সেই সময় অনিল আম্বানি নিউ ইয়র্কে এপস্টিনের বাড়িতে তার সাথে বৈঠক করেন । এপস্টিন তখন স্টিভ ব্যাননকে মেসেজ করে লিখেছিলেন যে, তিনি ‘মোদির লোক’-এর সাথে দেখা করেছেন আর তিনি নাকি অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটনে মোদির সাথে কেউ কথা বলতে চাইছে না। আসলে ভারত সরকারের এক সমান্তরাল, ছায়া কূটনীতি চলছিল, যার মূল কারিগর ছিলেন জেফ্রি এপস্টিন। অনিল আম্বানির মতো একজন শিল্পপতি, যিনি তখন রাফাল চুক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন, তিনি কেন একজন যৌন অপরাধীর মাধ্যমে হোয়াইট হাউসে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন, তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল প্রশ্ন চিহ্ন। আবার দেখুন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে, যখন সারা বিশ্বে এপস্টিন ফাইলের কেলেঙ্কারির ঝড় বইছে, ঠিক তখনই তড়িঘড়ি করে ভারত আমেরিকার মধ্যে এক ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তি সই হয়ে গেল। হ্যাঁ, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর তখন লজ্জা হয় না, লজ্জা হয় তাঁর সুবিধে মত, লজ্জা হয় যখন ওনার রাজনৈতিক লাভের সম্ভাবনা থাকে। এক দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্লজ্জ ব্যবহার সত্যিই আমাদের লজ্জা দেয়, আমরা লজ্জিত মিঃ মোদি, লজ্জিত কারণ আপনার মত একজনের হাতে আজ দেশ শাসনের ভার চলে গিয়েছে।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

toto DEPOBOS evos gaming

slot gacor

https://www.demeral.com/it/podcast https://rendez-vous.benin-ambassade.fr/profil-d/ https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 WDBOS DEPOBOS idn slot idn poker 88 situs slot gacor https://www.demeral.com/it/demeral_software/ BWO99 slot 5000 poker