ঘরে চাল বাড়ন্ত হলে মা’কে ভাবতে হয়, বর, সোমত্ত মেয়েটা, কচি বাচ্চাটা, আর আগুন খিদে নিয়ে বসে থাকা ছেলেটা, কাকে কতটা ভাত দেবে। স্বচ্ছল ঘরেও সে সমস্যা আছে, চেহারাটা অন্যরকম, মাছের মাথাটা কার? ইলিশের পেটিটা কার? চিংড়ি ক’পিস পাতে দেব। হ্যাঁ, চিন্তা থাকে। তো আপাতত হিসেব অনুযায়ী গরু ছাগল কেনা বেচা না করে তৃণমূল ৪ জনকে আর বিজেপি ১ জনকে রাজ্যসভাতে পাঠাতে পারবে। পোর্চিং হবে না একথা তো বলা যাবে না, সদ্য প্রয়াত মুকুল রায় সেই কবেই রাজ্য সভার ভোটে তাঁর হাতের যাদু তো দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এবারে খেলাটা ডিফেনসিভ, নিজেদের ভোট ধরে রাখা, অন্তত এই পর্যন্ত তো তাই মনে হচ্ছে। রাজ্যসভার আসন হলো পেলেটে সাজানো রাজভোগ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নমিনেশন জমা দাও, সেখান থেকেই জয়ের সার্টিফিকেট নাও, তারপর আবার ওই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুসজ্জিত কক্ষে গিয়ে দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য ভাষণ দাও। রোদে পুড়ে ঘামে ভিজে প্রচারের হ্যাপা নেই, এক মাস ধরে অন্যের কেচ্ছা বাইরে আনা আর নিজের কেচ্ছাগুলো ঢেকে রাখার চাপ নেই। আর একবার জিতে গেলে, তেমন তেমন সময়ে বিবেক না জেগে উঠলে আপনার লাইফ সর্টেড। দেখেছি চামড়ার রং বদলে যায়। তো সেই রাজ্যসভার ভোট হাজির, দেশ জুড়ে বেশ কিছু আসনে, শরিক সমর্থনে লোকসভাতে তো বিজেপি হাতে মাঠা কাটে, কিন্তু রাজ্যসভাতে এখনও সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, যদিও তারা সেই ব্রুট মেজরিটির দিকে এগোচ্ছে। তেমন এক সময়ে বাংলায় রাজ্যসভার ভোট, সেটাই বিষয় আজকে, লকেট না মিঠুন, বিজেপির রাজ্যসভার মুখ কে?
ওই যে ঘরে চাল বাড়ন্ত, বিজেপি নিজের চেষ্টাতে মাত্র একজনকেই পাঠাতে পারবে রাজ্যসভায়, আর বিজেপি এসব ক্ষেত্রে হুবহু সিপিএম বা কংগ্রেস হাইকমান্ড বা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীর মতোই। ওই রাজ্য সভাপতির হাতের ফাইনাল ডিসিশন ছেড়ে দেয় না। হ্যাঁ, আপনি বলতেই পারেন, আপনার পছন্দের লোকজনদের কথা, কিন্তু সিদ্ধান্ত মোদি–অমিত শাহ নেবেন। আগে বিজেপির পার্লিয়ামেন্টারি বোর্ড এইসব সিদ্ধান্ত নিত, কিন্তু এখন বিজেপিতে ওসব চল উঠিয়ে দিয়েছেন মোদি–শাহ। মিউজিকাল চেয়ারের ‘মিউজিক’ বাটনটা ওনাদের হাতে, কাকে কখন বসাবেন, রাখবেন, ফেলবেন, সবই এই দুই গুর্জর মোটাভাই ঠিক করেন। তাঁদের আমলে দেশের অধিকাংশ বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর নাম এমনকি সাংবাদিকেরাও গুগল না করে মনেই করতে পারেন না। দু-দু’টো জাতীয় সভাপতিকে কাঠপুতুল বললেও বেশি বলা হয়। তো তেনারাই ঠিক করেন পদপ্রার্থীদের, সে সভাপতি হোক, রাজ্য সভাপতি, এমপি, এমএলএ, রাজ্যসভার সদস্য, সব। আর সেখানে কনসিডারেশন? নির্বাচনী পাটিগণিত, আর কিচ্ছু নয়। তো বলবেন অন্য দল কি অন্য কোনও মাপকাঠিতে হিসেব করে? করে বৈকি, একটা রাজ্যসভা আসনের জন্য একজন শিল্পপতি ১০০ কোটি দিতেও রাজি আছেন, বিক্রি হয়, বিক্রি হয়েছে, এমন খবর একবার নয় বহুবার বিভিন্ন কাগজে এসেছে। কিন্তু বিজেপিতে সবটাই নির্বাচনী পাটিগণিত।
আরও পড়ুন: Aajke | বিজেপি বুঝে গিয়েছে বাংলা হাত থেকে গিয়েছে, তাই কেরল, কেরলম, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা হবে না
কারা যেন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যালের নামটা হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছেন। আচ্ছা এই ভোটের বাজারে সঞ্জীব সান্যাল সাংসদ হয়ে করবেন কী? তিনি রাজ্যসভাতে জ্ঞানগম্ভীর ভাষণ দেবেন, তো সেরকম লোকজনের অভাব তো বিজেপি রাজ্যসভার সদস্যদের মধ্যে নেই। হ্যাঁ, তিনি মোদিজির পছন্দের, কিন্তু ওই নির্বাচনী মাপকাঠিতে হেরে ভুত। এরপরে বলা হয়েছে রাজ্য সভাপতির নাকি পছন্দ রাহুল সিনহা, ৬২ বছর বয়সী এই নেতা কোনও নির্বাচনে কখনও জেতেননি, সেটা যদি ক্রাইটেরিয়া হয়, তাহলে অবশ্যই উনি রাজ্যসভায় যাবার যোগ্য, কিন্তু উনি যাবেন না কারণ, মোদি শাহ ফুরিয়ে যাওয়া তুবড়ি বা রকেট নিয়ে খেলা করতে পছন্দ করেন না। শুনলাম নাম ভাসানো হয়েছে দুই হেরে যাওয়া সাংসদের, নিশীথ পরামাণিক আর সুভাষ সরকারের, বাংলার কোনও হেরে যাওয়া ঘোড়ায় এই মুহুর্তে বাজি ফেলবেন না মোদি শাহ। বাকি ভাসছে দুটো নাম, লকেট চট্টোপাধ্যায়, মিঠুন চক্রবর্তী। হ্যাঁ, এই দুটো নাম কিন্তু নানান কারণেই বেছে নিতেই পারেন মোদি-শাহ। ভুলে যান সেই শান্ত অভিনেত্রী লকেটের কথা, উনি এখন চৌকশ বক্তা, দিল্লির লবিতে বেশ জায়গা করে নিয়েছেন, মেপে দান খেলেছেন, আর নির্বাচনের মুখে একজন মহিলাকে জায়গা করে দিয়ে বিজেপির মহিলা মুখ হিসেবে তুলে ধরাটা ভালো স্ট্রাটেজি। বাকি নামটা হল মিঠুন চক্রবর্তী, হ্যাঁ, শোনা যাচ্ছে এই বিধানসভা নির্বাচনে লাগাতার দেড় মাস ধরে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রচার চালানোর প্রস্তাবের বদলে ফাইনাল ডিল নাকি রাজ্যসভার পদ। আমরা আমাদের দর্শকদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বিজেপির দুই জনপ্রিয় মুখের মধ্যে কে আসতে পারেন রাজ্যসভায়? লকেট চট্টোপাধ্যায়? না মিঠুন চক্রবর্তী? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।
তবে সিদ্ধান্ত নেবেন তো দুই গুর্জর। ইতিহাস বলছে, ওনারা একবার নয়, বারবার বোকা বানিয়েছেন সাংবাদিকদের। আস্তিনের তাস লুকিয়ে রাখতে এই দু’জনার জুড়িদার ভূভারতে কেউ নেই। কিন্তু যেহেতু দুজনেই টোয়েন্টি ফোর ইনটু সেভেন নির্বাচন মোডেই থাকেন, তাই আমার ধারণার কথা বললাম। লকেট মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী মুখ কতটা হতে পারবেন জানা নেই, কিন্তু জনপ্রিয় মিঠুন চক্রবর্তীর দেড় মাস লাগাতার প্রচার কিন্তু কাজে দেবে। সম্ভবত ডিস্কো ড্যান্সারের কথাই মাথায় রেখেছেন বিজেপির সর্বোচ্চ দুই গুর্জর পুরুষ।
দেখুন আরও খবর:








