Thursday, March 26, 2026
HomeScrollAajke | নির্বাচন কমিশনের ষড়যন্ত্র ফাঁস
Aajke

Aajke | নির্বাচন কমিশনের ষড়যন্ত্র ফাঁস

সংবিধানের তোয়াক্কাও করে না আরএসএস–বিজেপি, কোনওদিনও তারা এই সংবিধানকে মেনেই নেয়নি

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি, মানুষের রায়ে নয়, যেন তেন প্রকারেন রাজ্য দখল করতে চায় বিজেপি। তাদের হাতে কেন্দ্র সরকার আছে, ইডি আছে, সিবিআই আছে, আর্থিক বরাদ্দ আটকে দেবার ক্ষমতা আছে। তারা সবকটা প্রয়োগ করেছে। তাকিয়ে দেখুন, সেই ২০২১ থেকে তাদের এই অস্ত্রগুলোর সবকটা তারা নির্লজ্জের মতো প্রয়োগ করেছে। রাজ্যের প্রান্তিক কৃষকের বছরের পাওনা ১৫-১৬ হাজার টাকা, সেটাও আটকে রেখেছে, জল আটকাচ্ছে না ঘরের ছাদে, পাকা ঘরের বরাদ্দ আটকে রেখেছে। ইডি এসেছে বার বার, সিবিআই এসেছে, হাজার একটা মামলা ঝোলানো হয়েছে। কিন্তু সেই যে উনিশে উঠেছিল হাওয়া, সে হাওয়া আর আনাই গেল না। এবারে সেই হাওয়া, মানুষের সমর্থনের আর দরকারই নেই, এক্কেবারে সোজা হিসেব, নির্লজ্জের মতো নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মোদি-শাহ দখল করতে চায় বাংলাকে, তার জন্য যা করতে হয় করা হবে, করতে হবে, জ্ঞানেশ কুমার আছেন মাথার উপরে। হ্যাঁ, সেই জ্ঞানেশ কুমার যাঁকে দিল্লির আইএএস মহলে সবাই সঙ্ঘি জ্ঞানেশ বলেই ডাকে। তো তাঁর দফতরে নাকি ক্ল্যারিকাল মিসটেকের ফলে নির্বাচন কমিশনের স্ট্যাম্পের জায়গাতে বিজেপির স্ট্যাম্প পড়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, ঘটনাটা নিয়ে হইচই হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশন এটাই বলেছে, কেবল বলেনি যে সেই ক্লার্কের টেবিলে বিজেপির স্ট্যাম্পটা এল কোথ্বেকে? আসলে এতটাই নির্লজ্জ এই নির্বাচন কমিশন যে ঢেকে রেখে কিছু করার আর চেষ্টাও করছে না, এবারেই শেষ দান খেলার চেষ্টা করছে। আর সেই জন্যই একের পর এক তথ্য বেরিয়ে আসছে, বোঝা যাচ্ছে এবারে বাংলার নির্বাচনে বিজেপির সবচেয়ে বড় অস্ত্র নির্বাচন কমিশন, সেটাই বিষয় আজকে, নির্বাচন কমিশনের ষড়যন্ত্র ফাঁস।

নির্বাচন কমিশন যা যা করছে সবটাই নাকি নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে। এবারে হিসেবটা দেখুন ৬০ লক্ষ বিচারাধীনের মধ্যে ২৯ লক্ষের বিচার নাকি হয়েছে, তো সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেছিলেন, কত থাকল, কত বাদ গেল? ওনারা জানিয়ে দিয়েছেন সে সব ওনাদের জানা নেই। একটা সূত্র বলছে প্রায় ৪০ শতাংশ বাদ গিয়েছেন, মানে প্রায় ১১ লক্ষের মতো মানুষ বাদ পড়েছেন, এনারা কিন্তু দেশের নাগরিক, এনাদের নাম কিন্তু ওই ২০০২-এর ভোটার লিস্টে আছে, তাহলে? তাহলে তাঁদের আবার আপিল করতে হবে। হ্যাঁ, ষড়যন্ত্রটা খুব পরিস্কার, এইভাবে ভোটকে ঘাড়ের উপরে ফেলে রাজ্যের অন্তত ১৫-২০ লক্ষ মানুষকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করানো হবে, পরে তাঁরা ফিরে এলেন কি এলেন না- সে তো পরের কথা, এবারের নির্বাচনে তাঁরা থাকবেন না। হ্যাঁ এটাই ষড়যন্ত্রের প্রথম অধ্যায়। এবারে দ্বিতীয় বিষয়টাতে আসুন, ভোটের দিনে এক উলঙ্গ নৃত্য হবে রাজ্যজুড়ে, তার প্রস্তুতি চলছে। ধরুন এই যে পুলিশ কমিশনার থেকে একগুচ্ছ আইপিএস, আইএএস অফিসারদের, কেউ এসপি, কেউ ডিএসপি, কেউ ডিএম, তাঁদের সরানো হল, তার পরে সরানো চলছে থানার বড়বাবুদের, সেসব জায়গাতে বসানো হচ্ছে কাদের? সেই তাঁদের, যাঁরা নাকি নিরপেক্ষ ভোট করাবেন। তো একটা তথ্য দিই, ২০১৯-এও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সরানো হয়েছিল, কেন? কেন আবার? ঐ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে। কাকে আনা হয়েছিল? আনা হয়েছিল রাজেশ কুমারকে ৫০ দিন ধরে তিনিই ছিলেন পুলিশ কমিশনার, ভোট শেষ হবার পরে তাঁকে বিদায় করা হয়েছিল। তিনি এখন কোথায়? তিনি এবারে জগদ্দলে বিজেপির প্রার্থী। কি কিউট তাই না! ইনি হলেন সেই নিরপেক্ষ পুলিশ অফিসার, যাঁকে তখন বসানো হয়েছিল কমিশনারের পদে।

আরও পড়ুন: Aajke | প্রতিটা ওপিনিয়ন পোল কেন তৃণমূলকেই জিতিয়ে দিচ্ছে?

এটাই হল নিরপেক্ষতা, জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা। এরকম একটা নয়, বহু উদাহরণ আছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। মালদহের চার কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্ত, আর তাঁর স্ত্রীর ছবি বেরিয়ে এসেছে, কমিশন যাঁকে নিরপেক্ষ ব্যবস্থার জন্য পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছে, তাঁর স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী। বেশ কিছু ছবি নেট দুনিয়াতে ভাইরাল, ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ আধিকারিক জয়ন্তের সঙ্গে রয়েছেন এক মহিলা। সেই মহিলাকেই আবার দেখা যাচ্ছে বিহারের বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপির মঞ্চে। এই জয়ন্ত বাবুকে যে চার কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক করা হয়েছে সেগুলো হল মোথাবাড়ি, বৈষ্ণবনগর, মানিকচক এবং সুজাপুর। যে এলাকাগুলো সবই বিহার সীমান্ত লাগোয়া। আর সেখানে যিনি পুলিশ পর্যবেক্ষক, সেই জয়ন্তের স্ত্রী সীমান্ত লাগোয়া বিহারের জামুই এলাকার বিজেপি নেত্রী। এরই মধ্যে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে, সেসব অফিসারের বদলে এরকম রত্নদেরই তো আনা হয়েছে। হ্যাঁ, নির্বাচনের দিন গুলোতে এক উলঙ্গ নৃত্য দেখার জন্য তৈরি থাকুন। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, নির্বাচন কমিশন যে ভাবে প্রতিটা জায়গাতে আসলে শাসক দলের লোকজনকে এনে বসাচ্ছে তাতে রাজ্যে নির্বাচন খুব সুষ্টভাবে, নিরপেক্ষভাবেই করা হবে বলে মনে হচ্ছে? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

প্রজাতন্ত্রের দুটো মূল বিষয়, এক হল সংবিধান, যা মেনে দেশ চলবে, সরকার চলবে। দুই হল নির্বাচন, এক নিরপেক্ষ নির্বাচন যেখানে মানুষ তার নিজের স্বাধীন মতামত দিতে পারবে। আজ দুটোই বিপন্ন। সংবিধানের তোয়াক্কাও করে না আরএসএস–বিজেপি, কোনওদিনও তারা এই সংবিধানকে মেনেই নেয়নি। আর এই নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের ইচ্ছেমতো চালিয়ে গোটা নির্বাচন পদ্ধতিকেই চুরমার করতে চায় এই আরএসএস-বিজেপি। হ্যাঁ, আজই এর বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতেই হবে, বলতেই হবে যে সংবিধান বিপন্ন, প্রজাতন্ত্র বিপন্ন, মানুষের নির্বাচনের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

evos gaming

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor situs slot gacor joker toto slot maxwin slot maxwin situs bola WATITOTO LGO188 DEPOBOS https://www.demeral.com/it/podcast xgo88 WDBOS SLOT GACOR toto togel slot toto togel slot poker slot gacor idn poker 88 slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ https://www.demeral.com/it/demeral_software/ nobu99 toto slot traveltoto