ওয়েব ডেস্ক : হাতে আর মাত্র কিছু দিন। তার পরেই বঙ্গে শুরু হবে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)। আর ছাব্বিশের ভোটেই রাজ্যে গেরুয়া ঝড় তুলতে চাইছে বিজেপি (BJP)। সেই কারণে রাজ্যে একের পর এক প্রচার করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ অন্যান্য বড় নেতারা। এবার রাজ্যে প্রচারে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। এখানে এসে রাজ্যের তাঁতশিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সূর চড়ালেন তিনি।
বুধবার পূর্ব বর্ধমানের (East Burdwan) কালনায় (Kalna) সভা করতে এসেছিলেন নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। এখানে এসে সেখানকার তাঁতশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জিজ্ঞাসা করেন, তাদের একটা শাড়ি মজুরি কত? উত্তরে শিল্পীরা বলেন, একটি শাড়ি বুনতে তিন মাস সময় লাগে। তার জন্য মজুরি পান ২৫ হাজার টাকা। তার পর নির্মলা প্রশ্ন করেছিলেন, আপনারা কি ওই টাকা দিয়ে সোনা দানা বানাও? সেই উত্তরে এক শিল্পী বলেন, তিন মাসে ২৫ হাজার টাকা পান। তাতে সংসার চলেনা, সোনা কোথা থেকে বানাবো? এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা এবং শিল্পোন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
নির্মলা বলেন, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব।’ তাঁর অভিযোগ, ‘বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তাঁতশিল্পী ও চা শ্রমিকরা কোনও বাস্তব সুবিধা পাচ্ছেন না।’ চা বাগান ইস্যুতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত কয়েক বছর ধরে চা বাগান শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সাহায্য দিচ্ছেন। অসমে সেই টাকা দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ হলেও, পশ্চিমবঙ্গে সেই সুবিধা পৌঁছচ্ছে না। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সীতারমন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলছে এবং সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মহিলারা হুমকির মুখে রয়েছেন।
আরও খবর : ভোটের আগে বিজেপির মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড, কী বললেন স্মৃতি ইরানি?
তিনি আরও বলেন, বাম আমলের খারাপ প্রভাব এখনও রাজ্যে বজায় রয়েছে। এছাড়া রান্নার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট বা কালোবাজারি নিয়ে সতর্কবার্তা দেন তিনি। জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রীগোষ্ঠী এই বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে নির্মলা বলেছেন, বহু বছর ধরে প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে মোদি সরকার তা কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিশ্ববঙ্গ শিল্প সম্মেলন’-এ বড় বিনিয়োগকারীর বদলে শুধুই চিত্রতারকাদের উপস্থিতি দেখা যায়। যা বাস্তব উন্নয়নের ছবি নয়।
প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে কি তাঁতশিল্পের জন্য কিছু ভাবনা চিন্তা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের? তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যাঁদের সঙ্গে কথা বললেন, তাঁদের মজুরি প্রসঙ্গে বা তাদের উন্নতি প্রসঙ্গে কোনও কথায় বলেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন উঠছে, তাঁতশিল্পীদের সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তাঁতের দড়ি টানলেন, তাহলে কি সেই ছবি তুলতে রাজ্যে এসেছিলেন নির্মলা সীতারামন?
দেখুন অন্য খবর :







