ওয়েব ডেস্ক: সুদূর উত্তর মেরুর (North Pole) কাছাকাছি, বরফে মোড়া বাফিন আইল্যান্ডে (Buffin Island) দাঁড়িয়ে আছে এক শৃঙ্গ, নাম তার ‘মাউন্ট শরৎ’ (Mount Sarat)। হাজার হাজার মাইল দূরে, আর্কটিকের নিঃসঙ্গ প্রান্তরে কেন এক বাঙালির নামে এই পাহাড়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ জীবনের গল্পে।
শরৎকুমার রায়, ১৮৯৭ সালে অবিভক্ত বাংলার বীরভূমে জন্ম। মেধায় উজ্জ্বল এই বাঙালি উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন আমেরিকায়। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব ও প্যালিওন্টোলজিতে ডক্টরেট অর্জন করে তিনি যোগ দেন ‘ফিল্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি’-তে। তিনিই ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম ভারতীয় কিউরেটর।
আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প! দ্বিতীয় দফার বৈঠকের ইঙ্গিত!
১৯২৭ সালে ডোনাল্ড বি. ম্যাকমিলানের নেতৃত্বে আর্কটিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন শরৎকুমার। ল্যাব্রাডর ও বাফিন আইল্যান্ড অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহই ছিল অভিযানের লক্ষ্য। চরম প্রতিকূলতা, তুষারঝড়, হিমশীতল আবহাওয়া, সব কিছুকে জয় করে তিনি চালিয়ে যান গবেষণা। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি ছিলেন সেই অভিযানের একমাত্র অ-শ্বেতাঙ্গ সদস্য।
ফ্রবিশার বে অঞ্চলে তাঁর কাজ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, সম্মান জানিয়ে অভিযাত্রী দল একটি শৃঙ্গের নাম রাখে ‘মাউন্ট শরৎ’। এটি শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এক বাঙালির অবদানের স্বীকৃতি।
শুধু আর্কটিক অভিযানই নয়, উল্কাপিণ্ড গবেষণাতেও (মেটিওরিটিক্স) বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলেন শরৎকুমার রায়। তাঁর হাত ধরেই শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামে গড়ে ওঠে উল্কাপিণ্ডের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ। ১৯৪৮ সালে তিনি ‘মেটিওরিটিক্যাল সোসাইটি’-র কাউন্সিলরও নির্বাচিত হন। আজও আর্কটিকের বরফঢাকা নিস্তব্ধতায় ‘মাউন্ট শরৎ’ যেন বলে যায়—বাঙালির স্বপ্ন শুধু কল্পনায় সীমাবদ্ধ নয়, তা পৌঁছে যায় পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম শৃঙ্গেও।







