ওয়েব ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে (Pahalgam Terror Attack) গত বছরের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের (Pakistan) প্রত্যক্ষ যোগের বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল এনআইএ (NIA)। তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা চার্জশিটে (Chargesheet) দাবি করা হয়েছে, হামলার পুরো ছক পাকিস্তানে বসেই কষা হয়েছিল এবং হামলার দিন লাহোর থেকে ‘রিয়্যাল টাইম’ নির্দেশ দিয়ে গোটা অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এই হামলার মূল চক্রী হিসেবে এনআইএ চিহ্নিত করেছে পাকিস্তানি জঙ্গি সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’-কে।
তদন্তকারীদের দাবি, ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এই জঙ্গি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba) এবং তার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্টেন্স ফ্রন্টের (The Resistance Front) অন্যতম শীর্ষ নেতা। এদিকে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, লাহোরে বসেই উপত্যকার জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করত সইফুল্লা। হামলার আগে গত বছরের ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তিন জঙ্গি—ফয়জল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজা আফগানিকে দিয়ে পহেলগাম এলাকায় রেইকি করানো হয়েছিল। হামলার দিন জঙ্গিরা কোথায় অবস্থান নেবে, কোন পথে হামলা চালাবে এবং অপারেশনের পর কীভাবে এলাকা ছাড়বে, সেই সমস্ত নির্দেশ সরাসরি পাকিস্তান থেকেই দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি এনআইএ-র।
আরও পড়ুন: বিদেশ সফর থেকে ফিরেই মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী
হামলার পর ভারতীয় সেনা উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন মহাদেব (Operation Mahadev)। এই অভিযানে পহেলগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত তিন জঙ্গিকে খতম করা হয়। নিহত জঙ্গিদের ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ঘিরেই তদন্তে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এনআইএ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অন্তত দু’টি মোবাইল পাকিস্তান থেকে কেনা হয়েছিল। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে জানা যায়, একটি মোবাইল অনলাইনে কিনে লাহোরের ‘কায়েদ-ই-আজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট’-এর একটি ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। অন্য মোবাইলটি কেনা হয়েছিল করাচির একটি এলাকা থেকে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলার পর ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে হামলার দায় স্বীকার করেছিল টিআরএফ। পরে অবশ্য সংগঠনটি দাবি করে, তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘হ্যাক’ করা হয়েছিল এবং হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু এনআইএ-র সাইবার বিশেষজ্ঞদের তদন্তে সেই দাবি টেকেনি।
আইপি অ্যাড্রেস ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাট্টাগ্রাম এলাকা থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। পাশাপাশি রাওয়ালপিন্ডি থেকে পরিচালিত আরও একটি সন্দেহভাজন চ্যানেলের সন্ধান মিলেছে, যা ভারতবিরোধী প্রচারে ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ।
দেখুন আরও খবর:







